ক্লান্তি কমাবে যেসব খাবার

ক্লান্তি কমাবে যেসব খাবার

নুজহাত কামাল

ঢাকা: অল্পতেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়? বলা হয়, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে এবং ক্লান্তি দূর করতে হলে নিয়মিত ব্যায়ামই সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। নিয়মিত ব্যায়াম ক্লান্ত হওয়ার প্রবণতাও কমিয়ে, শরীরকে দেয় বাড়তি শক্তি। তবে ব্যায়াম ছাড়াও নিজের খাদ্যাভ্যাসে যদি খানিকটা পরিবর্তন আনতে পারেন, তাহলেও ক্লান্তি কমে যাবে এবং শরীর ও মন পাবে ফুরফুরে সতেজতা।

ডার্ক চকোলেট

dark-chocolate_1মানসিক চাপ কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবেই মন ভালো ও ফুরফুরে করে দেয়ার পেছনে বিশাল অবদান আছে ডার্ক চকোলেটের। আর সৌভাগ্যক্রমে ডার্ক চকোলেট এমন একটি খাবার, যার মধ্যে কোনো ক্ষতিকর উপাদানেরই অস্তিত্ব নেই। যেকোনো বয়সের মানুষ অসুখ-বিসুখের কথা না ভেবে বিনা দ্বিধায় খেতে পারেন এই খাবার। তাই যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক ও জৈবগুণসম্পন্ন উন্নতমানের ডার্ক চকোলেট কিনুন এবং যত পারেন খেতে থাকুন।

যত বেশি ডার্ক চকোলেট, তার ততটাই তিতকুটে স্বাদ। তাই যতটুকু পর্যন্ত সহ্য করতে পারেন, তত তিতকুটে ডার্ক চকলেটই বেছে নিন। প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে নিত্যনতুন পদ্ধতি অনুসরণ করেও খেতে পারেন ডার্ক চকোলেট।

বাদাম

dry-fruitsভিটামিন ‘বি’ আর ‘ই’ দিয়ে ভরপুর একটি খাবার হল বাদাম। বীজ জাতীয় এই খাবারটি আপনার মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সময় পার করার সময়েও আপনার হজমশক্তি স্বাভাবিক রাখবে, বাড়াবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। বেশি নয়, দিনে মাত্র পাঁচ-সাতটা বাদামই যথেষ্ট শারীরিক ও মানসিক অবসাদকে পাশ কাটানোর জন্য। একঘেয়েমি না আনতে চাইলে একেকদিন একেকরকম বাদাম খেতেও বাধা নেই।

মিষ্টি আলু

Satsuma-imo-Sweet-Potatoমানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য আমাদের দেহের যেসব পুষ্টি প্রয়োজন, সেগুলো দিয়েই ভরপুর একটি খাবার হল মিষ্টি আলু। ক্লান্তিকর সারাটা দিন পার করার পর এক প্লেট গরমাগরম মিষ্টি আলু বা মিষ্টি আলু দিয়ে তৈরি খাবার আপনাকে দেবে শান্তির অনুভূতি!

ফ্যাট, তবে ভালো মানের

এমনিতে তেল বা ফ্যাট জাতীয় খাদ্য যতটা সম্ভব Avocado_halvedএড়িয়ে চলতে বলা হলেও বিশেষ ধরনের ‘ফ্যাট’ কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ভালো! ভাবছেন, কোন ফ্যাট?

অ্যাভোক্যাডো মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় তেলের একটি চমৎকার উৎস! প্রতিদিন অন্তত একটা অ্যাভোক্যাডোর অর্ধেকটা যদি নিয়মিত খাওয়া যায়, তাহলে নিজেই টের পাবেন পরিবর্তন!

অ্যাভোক্যাডো ছাড়াও জলপাইয়ের তেল, মাছের তেল ইত্যাদিও শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। প্রতিদিন এক বা দুই টেবিল চামচ করে নিয়মিত খেতে পারেন এ ধরনের তেল।

প্রাকৃতিক চিনি

FruitNuts1শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য কিন্তু চিনির কোনো বিকল্প নেই। এমনিতে মিষ্টি বা চিনিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে বলা হলেও প্রাকৃতিক চিনির ক্ষেত্রে কিন্তু তেমন বাধ্যবাধকতা নেই। সুস্থ ও স্বাভাবিক শরীরের একজন ব্যক্তির জন্য তাজা অথবা শুকনো ফল এবং কাঁচা মধুর ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ভীষণ ভালো। মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং রাতে ভালো ঘুমের পেছনেও মধুর অবদান কম নয়। তাই প্রতিদিন এক চামচ মধুই পূরণ করতে পারে আপনার চাহিদা!

মনে রাখবেন, কৃত্রিম অর্থাৎ কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা চিনি থেকে দূরে থাকা আপনার জন্য যতটা ভালো, ঠিক ততটাই প্রয়োজন প্রকৃতি থেকে শরীরের জন্য ভালো চিনির কাছে কাছে থাকা!

সবুজ শাকসবজি

o-GREEN-VEGETABLES-570পালং শাক আর পাতাকপির মতো সবুজ শাকসবজি মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন আর খনিজে ভরপুর। ফলিক এসিড, ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপাদান থেকে শুরু করে কী নেই এসবে! এ ধরনের খনিজ খাদ্য উপাদান মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন মাত্র এক কাপ পরিমাণ এ ধরনের শাক বা সবজিই আপনাকে দিতে পারে যা আপনি চান!

তো আর দেরি কেন? সারাদিনের কাজ শেষে ক্লান্তি বা মানসিক অবসাদকে দূরে রাখতে লেগে পড়ুন এখনি! কোনো কষ্ট নয়, বরং সুস্বাদু আর পুষ্টিকর সব খাবারই অনায়াসে আপনাকে মানসিক ও শারীরিক অবসাদ থেকে দূরে রাখতে যথেষ্ট। তাই সহজেই থাকুন সুস্থ ও সুন্দর!

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম