আমেরিকার সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত

আমেরিকার সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত

image

২৭ সেপ্টেম্বর: ইরাকে মার্কিন সেনা পাঠানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন জানিয়েছে তারা নতুন করে ৫০০ সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাবে এবং শুধু ইরাকেই অন্তত ২০০ সেনা এবং বাদবাকি সেনাদেরকে অন্যান্য আরব দেশে মোতায়েন করা হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম পর্যায়ে ১৩৮ সেনাকে রাজধানী বাগদাদে, ৬৮ সেনাকে আরবিলে এবং ১০জন সেনাকে ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হবে। ইরাকে নতুন করে যে ২০০ মার্কিন সেনা পাঠানো হবে তা এর আগে পাঠানো ৪৭৫ সংখ্যক বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হবে।

উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল গত গ্রীষ্মে ইরাকে তৎপরতা শুরু করার পর এবং বেশ কিছু জায়গা দখল করে নেয়ার পর নতুন করে ইরাকে মার্কিন সামরিক তৎপরতা শুরু হয়। ইরাকে নিরাপত্তা রক্ষা এবং উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার জন্য বর্তমানে ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া ইরাকের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও মার্কিন দূতাবাস রক্ষা এবং ইরাক সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ দেয়াও ছিল সেদেশে মার্কিন সেনা মোতায়েনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরাকে সন্দেহজনক আইএসআইএল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটায় সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার অজুহাতে নতুন করে ইরাকে সেনা প্রেরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে আমেরিকার। অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তারা এ যাবত বলে আসছেন তাদের সেনারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থল অভিযানে অংশ নেবে না। কিন্তু ১৯৬০’র দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, প্রথমে সামরিক পরামর্শ বা উপদেষ্টা হিসেবে সেখানে মার্কিন সেনা পাঠানো হলেও বহু বছর ধরে সেখানে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

বর্তমানে আমেরিকার ধারণা আন্তর্জাতিক জোট গঠন, বিমান হামলা ও ইরাকিদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এ কারণে আমেরিকা গত কয়েক সপ্তাহে ইরাকে  প্রায় দেড় হাজার সেনা পাঠিয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যকার নিরাপত্তা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবং বর্তমানে সেদেশে প্রায় ১২ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এ অবস্থায় আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের ওপর বিমান হামলা এবং ইরাকি সেনাবাহিনীর অভিযানে যদি সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে ইরাকে আরো বেশি সংখ্যক মার্কিন সেনা পাঠানোর কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে সেটাই এখন সবার প্রশ্ন।

২০০৩ সালে সাদ্দামের পতনের পর বেশ অনেক বছর সেদেশে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় ছিল এবং এরপর সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো আমেরিকা বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি ইরাকে নতুন করে সেনা পাঠানো শুরু করেছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতির ভবিষ্যৎ কি হবে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও আমেরিকা ফের ইরাকে যুদ্ধের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারকালে মার্কিন জনগণের যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন।

রেডিও তেহরান/