এ যুগের ‘আলীবাবা’ বাংলাদেশি ইমরান খান

29 Sep, 2014

আলিফ লায়্লায় দেখা ‘আলীবাবা: ৪০ চোরের কাহিনী‘র জন্য ‘আলীবাবা‘ নামটা মোটামুটি আমাদের সবার পরিচিত। আলিবাবা ‘চিচিংফাঁক‘ মন্ত্রবলে গুপ্তধনে প্রবেশ দরজা খুলতে পেরেছিলেন। এটা আরব্য রজনী গল্পের কথা।

এই যুগের আলীবাবা কি করছেন?

ইন্টারনেটের কল্যাণে পৃথিবী যেখানে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে তখন কীভাবে ফিরে এলেন আলীবাবা! এখনও কি চিচিংফাঁক বলে গুপ্তধনের দরজা খোলেন? আলীবাবার চিচিংফাঁক এবার কিন্তু একজন ইন্টারনেট বিশ্লেষক। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমরান খান

ইন্টারনেট বিশ্লেষক হয়েও শেয়ারবাজার এবং ব্যাংকিং খাতে কী পরিমাণ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন তিনি তার জন্য আলীবাবার সাম্প্রতিক সাফল্যই যথেষ্ঠ।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ঢুকে দু’সপ্তাহ না যেতেই আইপিও থেকে রেকর্ড পরিমাণ (দুই হাজার ৫০০ কোটি) ডলার তুলে নিয়েছে চীনা ই-কমার্স কোম্পানি আলিবাবা ডট কম। পুঁজিবাজারের ইতিহাসে আইপিও থেকে এর চেয়ে বেশি মূলধন আর কোনও কোম্পানি সংগ্রহ করতে পারেনি।

গত ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে আলিবাবার শেয়ার লেনদেন শুরু হয়।

বিনিয়োগকারীদের অভূতপূর্ব সাড়ায় অভিষেকের দিনই আইপিও থেকে দুই হাজার ১১৮ কোটি ডলার আয় করে প্রতিষ্ঠানটি। এই চাহিদার কারণে বিশেষ সুযোগ নিয়ে অংশীদারদের হাতে থাকা আরর্ ৪ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার বাজারে ছাড়া হয়। ফলে অভিহিত মূল্য ৯২ দশমিক ৭ ডলার থেকে আলিবাবার শেয়ারের দর বেড়ে যায় ৩৮ শতাংশ। সব মিলিয়ে চীনা এই প্রতিষ্ঠানটির পকেটে আসে দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

এর আগ পর্যন্ত হংকং ও সাংহাইভিত্তিক চায়না কৃষি ব্যাংক লিমিটেডের ২ হাজার ২১২ কোটি ডলারের আইপিও ছিল এ ক্ষেত্রে রেকর্ড।

আলিবাবার আইপিও ব্যবস্থাপনায় ৬টি ব্যাংক থাকলেও ক্রেডিট সুইস ব্যাংক প্রধাণত আলীবাবার সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। আর ক্রেডিট সুইস ব্যাংকের হয়ে পুরো ব্যাপারটি দেখভাল করছেন বাংলাদেশি ইমরান খান। যিনি এই ব্যাংকটির ইন্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং শাখার প্রধান। যদিও তাকে প্রচলিত ব্যাংকার হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

তিনি মূলত একজন গবেষক। অথচ বর্তমানে ওয়ালস্ট্রিটসহ বিশ্বের অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছেন তিনি ব্যাংকার হিসেবেই। ব্যাংকার হিসেবে তিনিই এখন সবার নজরে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল তার সম্পর্কে লিখেছে, ইমরান বাংলাদেশি ছেলে যে তার পোশাকের ভেতরেই হারিয়ে যায়। যে সব সময় তার মাপের চেয়ে এক সাইজ বড় স্যুট পরে।

ইমরানের বৈশিষ্ট্য বুঝাতেই এভাবেই তুলে ধরেছে তাকে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ার বাজারের গতি বুঝতে পারার জন্য তার সুখ্যাতি গড়ে উঠেছে।



ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুসারে, আলীবাবার সাবেক সিএফও জয় টিসাই এর সঙ্গে ২০০৬ সাল থেকেই সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সুইজারল্যান্ডে জুরিখে আলীবাবার আইপিও নিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে এ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রচলিত বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মতই বর্তমানে মোবাইল ইন্টারনেট দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সব প্রতিষ্ঠানই এখাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

তাই এ খাতে গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করার মত উপযুক্ত দক্ষতাসম্পন্ন লোকের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কারণ এর উপর ভিত্তি করেই এ খাত এবং এর বিভিন্ন উপখাতে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে বিজনেস জায়ান্টরা।

আর এ কাজে এখন সবচেয়ে আস্থাশীল ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন ইমরান খান। গত দেড় বছরে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন ইমরান। পরামর্শ দিয়েছেন। তার পরামর্শের ভিত্তিতেই এ সময় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিময় হয়েছে। এর মধ্যে আলীবাবা ৭.৬ বিলিয়ন ডলার দিয়ে ইয়াহুর শেয়ার কেনে। এছাড়া, ইউকুর কাছে টউডুকে বিক্রি এবং এন্ডুরেন্স ইন্টারন্যাশনাল নিলামে ওয়ারবাগ পিনকাস কিনে নেয়।

আলীবাবার সিএফও জোসেফ সাইয়ের সঙ্গে জেপি মরগানে থাকা অবস্থায় ২০০৬ সাল থেকেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে ইমরানের। জেপি মরগ্যান ছেড়ে ক্রেডিট সুইসে আসার পর সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়।

এ সম্পর্কের কারণেই আলীবাবার আইপিও’র প্রধান ব্যাংক হয়ে ওঠে ক্রেডিট সুইস।

প্রচারের আড়ালে থাকা মানুষটির সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না।

কাজ করেছেন গুগল ও ইয়াহুতে ইন্টারনেট বিশ্লেষক হিসেবে। জেপি মরগ্যানে থাকা অবস্থায় একটি বইও লিখেছেন তিনি। ‘Nothing but net’ বইয়ে ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। ই-কমার্স সেক্টরে বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বইটি।

উৎসঃ   বাংলা ট্রিবিউন