বিদেশে অর্থ পাচাররোধে আইন সংশোধন হচ্ছে

 
রেজাউর রহিম : বিদেশে অর্থ পাচাররোধে বিদ্যমান মানিলন্ডারিং আইন-২০১২ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সংশোধনীতে শাস্তির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ বড় অঙ্কের আর্থিক দণ্ডের বিধান রাখা হবে। এ ছাড়া মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে বিশেষ কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বিদ্যমান মানিলন্ডারিং আইন সংশোধনের বিষয়ে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিনিয়োগ বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মতামতও চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যমান আইনে মানিলন্ডারিংয়ে জড়িত অথবা সহযোগিতাকারীকে সর্বোচ্চ ১২ বছর ও সর্বনিম্ন ৪ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এ জন্য আইন সংশোধনীর মাধ্যমে শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়ন বন্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ কার্যকর করা হচ্ছে। জানা গেছে, অর্থ পাচাররোধ এবং জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়ন বন্ধে শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তি ও যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট অনলাইন কানেকটিভিটি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ছাড়া হুন্ডি, বিদেশে অর্থ পাচার ও জঙ্গি অর্থায়নে ব্যাংকিং খাতে ইতিমধ্যে সহস্রাাধিক সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করতে ২০০৭ সালে ৭ লাখ থেকে কমিয়ে ৫ লাখের বেশি অঙ্কের টাকা ব্যাংকে জমা ও তোলার তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়। কিন্তু এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের গাফিলতি রয়েছে। ইতিমধ্যে জঙ্গি অর্থায়নে কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া সেকেন্ড হোমের নামে মালয়েশিয়ায় বিপুল অঙ্কের টাকা পাচার হয়েছে। পাচারকৃত ওইসব অর্থ উদ্ধারে বিশেষ কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, বিধানানুযায়ী কোনো নাগরিক বৈধ উপায়ে বিদেশে টাকা পাঠাতে চাইলে তাকে এর উত্স প্রকাশ করতে হয়। এ ছাড়া সরকার যে কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, এনজিও, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার, সমবায় সমিতি, মানি চেঞ্জার, শেয়ার ব্রোকারেজ হাউস ও অন্যদের প্রতিটি সন্দেহজনক লেনদেন পরীক্ষা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বিধি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বিদেশে টাকা পাঠানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা যাবে।

সূত্রঃ বর্তমান