রাজধানীর বেশিরভাগ পাম্পই তেল কম দেয়!

রাজধানীর বেশিরভাগ পাম্পই তেল কম দেয়!
বর্তমান প্রতিবেদক : পূবালী ব্যাংকের রিকভারি এজেন্ট মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ। প্রায় দশ বছর মোটরবাইক ড্রাইভ করেন তিনি। তার অভিযোগ নগরীর অধিকাংশ তেল পাম্প মাপে তেল কম দেয়। এছাড়া গ্রাহককে ভেজাল তেলও দেয়। তাই তিনি প্রতিনিয়তই নগরীর এলেনবাড়ী ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রোল কেনেন। রহমতুল্লাহ বলেন, নগরীর প্রায় অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প ওজনে কম দেয়। কোনো পেট্রল পাম্পের ওজন বিশ্বাস হয় না। তিনি আরও বলেন, তেজগাঁও সিটি সিএনজি তেল পাম্প সবাইকে তেল কম দেয়। সরকারের উচিত নিজস্ব উদ্যোগে ডিজিটাল মিটার স্থাপন করা। যাতে করে পেট্রোল পাম্পগুলো আমাদের না ঠকাতে পারে। এই পাম্পটি আমাকে প্রতিনিয়তই তেল কম দিয়েছে।’ একই অভিযোগ করেন সংগীতশিল্পী নির্মল রায়। তিনি প্রায় ৩৫ বছর যাবত্ মোটরসাইকেলে ড্রাইভ করেন। বসবাস করেন নগরীর গ্রিন রোডে।  ওজনে তেল কম দেয়া প্রসঙ্গে নির্মল রায় বলেন, কিছু দিন আগে আমাকে শেরাটন হোটেল সংলগ্ন পেট্রোল পাম্প ঠকিয়েছে। আমার ইয়ামাহা মোটরবাইকে সাড়ে ৭ লিটার তেলের ট্যাঙ্কিতে ওরা ১২ লিটার তেল ভরেছে বলে দাবি করেছে। সেই সময় পেট্রোল পাম্পের লোকজনের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করেও কোনো লাভ হয়নি। তখন আমাকে আশপাশের কেউ সাপোর্টও দেয়নি। অনেক দিন হয়ে গেলে শেরাটন সংলগ্ন পাম্পে তেল নেয়া তো দূরের কথা, পাম্পটির দিকে ভুলেও আর তাকাই না।’ অনেক পেট্রোল পাম্প আবার ভেজাল তেল বিক্রি করে।
সূত্র জানায়, নগরীর তেজগাঁও শিল্প এলাকার সিটি সিএনজি তেল পাম্প প্রতিনিয়ত ওজনে তেল কম দিচ্ছে। শুধু গ্রাহকের অভিযোগ নয়, মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) কয়েকবার জরিমানা করেছে পাম্পটিকে। অথচ বিএসটিআইর জরিমানার কথা অস্বীকার করে পাম্প কর্তৃপক্ষ। তেল কম দেয়া প্রসঙ্গে পাম্পের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার উত্তম বলেন, আমরা কাউকে তেল কম দিই না। সব সময় আমরা সরকারি লোকের কাছে তেল বিক্রি করি। তেল কম দিলে আমাদের কাছে ক্রেতা আসত না। আর সরকারি লোকের কাছে তেল কম দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

বিএসটিআই সূত্রে দেখা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ওজনে তেল কম দেয়ার কারণে দেশব্যাপী তেল পাম্পগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১১১টি। এছাড়া একই সময়ে ওজনে কম তেল দেয়ার কারণে পাম্পগুলোকে জরিমানা গুনতে হয়েছে হয়েছে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।
নগরীর অনেক পাম্প আবার নির্ভেজাল ও ওজনে সঠিক দেয়। যেমন গ্রাহকরা বলেন বিজয় সরণি মোড় এলেনবাড়ি সংলগ্ন ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ওজনে তেল  সঠিক ও ভালো দেয়। এ পাম্পের নিয়মিত গ্রাহক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিনিয়তই এই পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করি। কারণ নগরীর অধিকাংশ পাম্প তেল কম দেয়ার পাশাপাশি ভেজাল তেল দেয়। এই পাম্পে ৫০০ টাকার তেল নিয়ে প্রায় ৫ দিন মটরবাইক ড্রাইভ দেয়া যায়। আবার কিছু তেল পাম্প আছে ৫০০ টাকার তেল কিনলে ৪দিন মোটর ড্রাইভ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এখন তেল পাম্পগুলোর ওপর বিশ্বাস কমে যাচ্ছে।’ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ৫৬৬টি তেল পাম্প রয়েছে। ওজন ও পরিমাপ অধ্যাদেশ, ১৯৮২ ও সংশোধনী, ২০০১ এর আওতায় বিএসটিআই এই জরিমানা করে। অধ্যাদেশে দেখা গেছে, ওজনে তেল কম দিলে অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের জন্য অর্থদণ্ডসহ অনূর্ধ্ব ৩ বছরের কারাদণ্ড।

চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিএসটিআই মাত্র ২৫টি অভিযান পরিচালনা করে। এতে করে অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে ১৫০টি পেট্রল পাম্পে ৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এবং প্রতিনিয়তই পেট্রোল পাম্পগুলোর মধ্যে গ্রাহক ঠকানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিএসটিআইর মহাপরিচালক ইকরামুল হক বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে তেল পাম্পগুলোতে অভিযান পরিচালনা করছি, যাতে করে গ্রাহকরা না ঠকেন। অনেক সময় যদি গ্রাহকরা আমাদের কাছে অভিযোগ দেন তবে আমরা তাত্ক্ষণিকভাবে অভিযোগের ভিত্তিতে তেল পাম্পে অভিযান চালাই এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে থাকি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিই।’

পেট্রোল পাম্পগুলোর গ্রাহক ঠকানোর প্রবণতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ইকরামুল হক বলেন, ব্যবসায়ীদের মনোভাব আগে পরিবর্তন করতে হবে। তারা (তেল পাম্প) যেমন গ্রাহক ঠকানো বৃদ্ধি করছে তেমনিভাবে আমরাও জরিমানার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছি। পেট্রোল পাম্পগুলোতে অভিযান আরও কঠোর করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সূত্রঃ বর্তমান