হঠাৎ বিএনপির পালে হাওয়া

হঠাৎ বিএনপির পালে হাওয়া

image

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর গত এক বছরে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে না পারায় কোণঠাসা বিএনপির পালে হঠাৎ করেই যেন হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নতুন জাতীয় নির্বাচন আদায় করা নিয়ে যখন বিএনপির নেতাকর্মীরাই সংশয়ে এমন সময়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক বেশ গুরুত্ব বহন করে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। হঠাৎ করে সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠক রাজনৈতিক কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত করে কি না তা ভেবে দেখতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এই বৈঠকের ফলে সাময়িকভাবে হয়তো সরকারের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী যারা এতদিন হতাশার মধ্যে ছিলেন তারা উজ্জীবিত হবেন।

বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন বেশ কয়েক বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। বৈঠকে বর্তমানে কর্মরত সচিব, যুগ্ম সচিবসহ সাবেক আমলারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে যুগ্ম সচিব (ওএসডি) এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহাকারী সচিব (ওএসডি) এহসানুল হক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (বর্তমানে প্রেষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে) বদিউল কবির, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইব্রাহীম মিয়াজী, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের নুরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আবদুল মান্নান ও এ কে এম হুমায়ুন কবীর, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী শহীদুল হক, সিনিয়র সহকারী সচিব এহসানুল হক, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ক্যাশ সরকার তোহা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বদিউল কবির, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী শহিদুল হক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এমএলএসএস মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, এজি অফিসের কর্মচারী আবদুল মান্নান উল্লেখ্যযোগ্য। এছাড়াও সাবেক সচিবদের মধ্যে ছিলেন- আবদুল হালিম, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা শমশের মবিন চৌধুরী।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের খবর ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করেননি। বৈঠকের খবর প্রচার হওয়ার পর এক বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ধরনের খবরকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমলাদের বৈঠকের প্রচারিত খবরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মানবকণ্ঠকে বলেন, আমরা মনে করি জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই এই খবরটি প্রচার করা হয়েছে। বাস্তবে এর কোনো সত্যতা নেই। এটি হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল জানান, সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। কেউ চাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই পারেন। এতে দোষের কি আছে। জনতার মঞ্চ হয়েছিল কিভাবে এমন প্রশ্ন রেখে মারুফ কামাল বলেন, তখন সরকারি কর্মকর্তাদের সার্ভিস রুল ভঙ্গ হয়নি?

গুলশান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবকণ্ঠকে বলেন, বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বর্তমান প্রশাসনের মনোভাব জানার চেষ্টা করেছেন খালেদা জিয়া। বর্তমান দেশের পরিস্থিতি ও নতুন নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতামত নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। খবু শিগগিরই আন্দোলন শুরু হবে বলেও কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে একটি নতুন নির্বাচন আদায়ে সর্বাত্মক আন্দোলন প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। জানুয়ারিতেই সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে কঠোর আন্দোলন যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এমন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সারাদেশেই চলছে বৈঠকের বিষয়ে নানা আলোচনা। সাধারণ মানুষের মুখেও ছিল নানা ধরনের গুঞ্জন। বিশেষ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি কৌতূহল লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবকণ্ঠকে বলেন, সবদিক থেকে গুছিয়ে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ২০ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া। বিজয়ের মাসের কর্মসূচি শেষেই খালেদা জিয়া সরকার পতনের আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামবেন। চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া বিভিন্ন পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীসহ নানা মহলের মতামত ও পরার্মশ নিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবেই সরকারি উচ্চ পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

অপর এক বিএনপি নেতা জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দলের চেয়ারপার্সনের বৈঠকটি সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। ফলে নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হবে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে আন্দোলনে।

উৎসঃ   manabkantha