কতদিন বাঁচা সম্ভব!!!

কতদিন বাঁচা সম্ভব !!!

মাহবুব সুমন
ডেনিশ টুইন স্টাডি১ (Danish Twin Study) থেকে জানা যায়, নির্দিষ্ট জৈবিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে মানুষের গড় আয়ুর মাত্র ১০ ভাগ নিয়ন্ত্রিত হয় জিন (Human Genes) দ্বারা। বাকি ৯০ ভাগ নির্ভর করে জীবনযাপন পদ্ধতির ওপর। ফলে দীর্ঘায়ু হবার আদর্শ (সারা পৃথিবীর জন্য প্রযোজ্য) জীবনযাপন পদ্ধতি বের করা গেলে খারাপ হয় না। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, জীবনকে ঠিকভাবে বুঝার, উপভোগ করার আগেই মারা যান। এটা মেনে নেয়া কঠিন। সুখী জীবনকে উপভোগ করার জন্য হলেও কিছুদিন বেশি বাঁচা উচিত।

পূর্ব এশিয়ার লোকজন টোফু নামের সয়াবিন দুধ থেকে তৈরি করা এক ধরনের খাবার খায়। ধারণা করা হয় এটিতে বার্ধক্য ধীরে আসে, আয়ু বাড়ে। অনেকে আবার বার্ধক্য প্রতিরোধ করার জন্য হরমোন, রেসভেরাট্রোল (resveratrol, কিছু কিছু সবজি আর রেড ওয়াইনে থাকে) নেয়। রেসভেরাট্রোল মূলত ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। কিছু গবেষণা জানায়, মেডিটেশান, ধর্ম চর্চা ও আনন্দদায়ক সত্যিকারের সামাজিক যোগাযোগ দীর্ঘ আয়ু পেতে সাহায্য করে। সত্যিকারের সামাজিক যোগাযোগ বলতে এমন যোগাযোগ যা বাস্তবে ঘটে। যেমন আড্ডা, নিয়মিত আত্মীয়-বন্ধু পরিজনের মাঝে থাকা– ফেসবুক বা টুইটার নয়।

image

দীর্ঘায়ু সম্পর্কে দুটি মিথ আছে। প্রথমটি হল “প্রাণপণে চেষ্টা করলে ও নিয়মমাফিক জীবনযাপন করলে ১০০ বছর বাঁচা সম্ভব।” এ সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। ১০০ বছর বয়সী মানুষ বাংলাদেশে কোটিতে এক কি দুজন পাওয়া যেতে পারে। বায়োলজিক্যালি আমরা (সারা পৃথিবীর মানুষ) ১০০ বছর বাঁচার জন্য ডিজাইন করা না। লাখো বছরের বিকাশে আমাদের (স্তন্যপায়ী) শরীর বেশিদিন বাঁচার চেয়ে বরং পুনঃউৎপাদনের জন্য বেশী উপযোগী হয়ে আছে। জীববিজ্ঞানীদের মতে, এই পুনঃউৎপাদনের (যা সরাসরি বিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত) একটা গ্রহণযোগ্য সীমা আছে। তা হলো, আমার সন্তান এবং সন্তানের সন্তান পর্যন্তই আমার বিবর্তনের মেয়াদ। তারপরের প্রজন্মে আমার মাধ্যমে বিবর্তনের সম্ভাবনা পুরোপুরি না হলেও ৯৯ ভাগ শেষ হয়ে যায়। ফলে প্রাকৃতিক নির্বাচনের নির্দয় কঠিন নিয়মের কারণে আমাদের শরীর ঐ সময়ের মধ্যে বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে গিয়ে পৌঁছে এবং আমরা মৃত্যুবরণ করি। জেনেটিক্যালি মানুষের শরীর এভাবেই ডিজাইন এবং প্রোগ্রাম হয়ে আছে। এর চেয়ে বেশি বাঁচার উপায় নেই। সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রেই একথা সত্যি। ফলে সহজ হিসাব হল আমার যদি ৩০ বছরে সন্তান হয় এবং তার ৩০ বছরের সময় আমার নাতিপুতি হয়, তখন আমার বয়স ৬০, সেই নাতিপুতির পুনঃউৎপাদনের বয়স যদি আবার মোটাদাগে ৩০ ধরি, তখন আমার বয়স ৯০। এটাই সর্বোচ্চ মেয়াদ। সন্তান উৎপাদনের বয়স কম ধরলে আরো দুই প্রজন্ম বেশি পাওয়া যেতে পারে। কয়েক বছর এদিক সেদিক করে প্রায় সবার ক্ষেত্রেই হিসাবটা এখন পর্যন্ত তাই। ফলে ১০০ বছর বাঁচতে চাইলে খুব ভাল জীবনযাপনেও সম্ভব নয়। তা করতে হলে জেনেটিক প্রোগ্রামকে কোন না কোনোভাবে ফাঁকি দিতে হবে। এটি প্রায় অসম্ভব একটি বিষয় এবং ৯০ এর পরে বেঁচে থাকাটা বিশাল অঙ্কের লটারি জয়ের মত ঘটনা।

image

দ্বিতীয় মিথটি হল “চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির মাধ্যমে বার্ধক্যকে একদিন না একদিন জয় করা সম্ভব।“- ভুল ধারণা। হাজার কারণে আমাদের বার্ধক্য দৌড়ে দৌড়ে আসতে থাকে। যেমন কেউ যদি খেলার ছলেও এক দুই মিনিট নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখে তাহলে ঐ সময়ে মস্তিস্কে কোন অক্সিজেন যায় না, ফলে মস্তিষ্কের বেশকিছু কোষ স্থায়ীভাবে মারা যায়। এটা এক ধরনের বার্ধক্য। খেলাধুলার সময় বা দৌড়াদৌড়ি করার সময় (ভার বহনকারী, দৌড়বিদ, টেনিস, ফুটবল খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বেশি হয়) হাঁটুর কার্টিলেজ নষ্ট হলে তা আর ফেরত আসে না। এটাও এক ধরনের বার্ধক্য।

বয়সকালে আমাদের ধমনির কার্যক্ষমতা কমতে পারে, মস্তিষ্কে (অনেকেই কথায় কথায় বা বয়স হলে বলেন যে আমার মাথায় জং ধরে গেছে) আক্ষরিক অর্থেই জং ধরতে পারে, পানির পুরনো পাইপে যেমন ময়লা জমে কম কার্যকর বা অকার্যকর হয়ে যায়, মস্তিষ্কেও তাই হয়। একে বলে আলঝেইমার। আমাদের শরীরে ৩৫ ট্রিলিয়ন কোষ আছে। যেগুলো প্রতি আট বছরে একবার করে পুনঃউৎপাদিত হয়। এরকম প্রত্যেক পুনঃউৎপাদনের শেষ নাগাদ বেশকিছু কোষ স্থায়ীভাবে মারা যায়। এই মৃত্যুর হার দ্বিতীয় আটে আরও বেশি, তৃতীয় আটে আরও বেশি। এভাবে এটা এক্সপোনেনশিয়ালি বাড়তে থাকে। অর্থাৎ প্রথমবার ২টি মরলে দ্বিতীয়বার ৪টি, তৃতীয়বার ১৬টি, চতুর্থবার ২৫৬টি— এভাবে বাড়তেই থাকে। এ কারণে ৬৫ বছরের মানুষের শারীরিক বার্ধক্যের বৃদ্ধির হার ১২ বছরের কিশোর-কিশোরীদের চেয়ে ১২৫ গুণ বেশি। খুঁজলে দেখা যাবে এরকম হাজারটা কারণ আছে যেগুলো প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের শরীরের যন্ত্রপাতিকে মেয়াদের শেষ প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। সে কারণে বার্ধক্য আটকানোর উপায় নেই। এটি অনিবার্য।

image

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে বিবর্তনের কারণে আমাদের শরীর ৯০ বছর বেঁচে থাকার মতো করে ডিজাইন হয়ে আছে। নারীদের দুই থেকে চার বছর বেশি। কিন্তু আমাদের দেশে গড় আয়ু পুরুষের ৬৮ নারীর ৭০। অর্থাৎ অনিয়মে জীবনযাপনের কারণে আমরা ২০ থেকে ২২ বছর আগেই মরে যাচ্ছি। মহা মূল্যবান ২২ বছর। প্রায় একটি পুরো প্রজন্ম আমাদের জীবন থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। ২২ বছরে অনেক কিছুই সম্ভব। আমাদের সৃষ্টিশীলতা, জীবনকে উপভোগ করা, সব কিছুর মধ্য থেকে এই বছরগুলো হারিয়ে যায়। দেখা যাক ২২ বছর বাড়তি বাঁচার সহজ কোন উপায় মানচিত্রে দেখানো দীর্ঘায়ু অধ্যুষিত ঐ চারটি এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায় কিনা। এসব এলাকার মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতি, খাদ্যাভ্যাস, চলাফেরা, সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্যে নিশ্চয়ই এমন কিছু আছে যা তাদের বাড়তি সময় বাঁচতে সাহায্য করে।

পৃথিবীর চারটি জায়গা আছে যেখানে মানুষ অস্বাভাবিক রকমের বেশিদিন বাঁচে, দেখা যাক সেসব জায়গায় মানুষ কিভাবে জীবনযাপন করে, কি খায়, কিভাবে ঘুমায়। দেখা যাক আমাদের গড় জীবনযাপনের সাথে তাদের কোন পার্থক্য এবং সাধারণ কোন পদ্ধতি আছে কিনা।

ইতালির দক্ষিণ উপকূল থেকে ১২৫ মাইল দক্ষিণে সার্ডিনিয়া (Sardinia) দ্বীপ। এই দ্বীপের অধিবাসী ১৬ লাখ। দ্বীপের পূর্ব পাশের উঁচু এলাকাটি নুউরো (Nuoro) প্রদেশ। এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শতায়ুর বাস।

এরা শুধু ১০০ বছর বেঁচে থাকে তাই না— ওই বয়সে ভীষণ রকমের সুস্থ সবল কর্মক্ষম অবস্থায় তাদের জীবন কাটে। ১০২ বছরে কেউ বাইক চালিয়ে কর্মস্থলে যান, কুড়াল দিয়ে সারাদিনের দরকারি জ্বালানী কাঠ কাটেন, পাঞ্জা লড়তে পারেন যে কোনো যুবকের মত করে। এই এলাকার জানা ইতিহাস ২০০০ বছরের বেশি পুরনো। সার্ডিনিয়ায় এখনো ব্রোঞ্জ যুগের সংস্কৃতি চালু আছে। এখানকার জমি খুবই অনুর্বর, মেষপালনই জীবিকার প্রধান উৎস। ফলে অধিবাসীদের ভারি শ্রমের কাজ তেমন করতে হয় না।

এখানকার বেশিরভাগ মানুষ নিরামিষভোজী, প্রধান খাদ্য ডুরাম বা ম্যাকারনি গম থেকে তৈরি রুটি (কার্টা মিউজিকা, Carta Musica), পনির, মদ। এই রুটিতে কোন ধরনের ইস্ট ব্যবহার করা হয় না। এমন ধরনের খাবার বেশি তৈরি করা হয় যা সহজে বহন করা যায় এবং দীর্ঘক্ষণ ভাল থাকে। তৃণভোজী ভেড়ার দুধ থেকে তৈরি পনির এদের খুব প্রিয়, ভুট্টা বা ধান জাতীয় শস্য খাওয়া প্রাণীদের শরীরে ওমেগা ৬ (Omega 6) বেশি থাকে আর শুধু ঘাস খেয়ে জীবন ধারন করা প্রাণীদের শরীরে থাকে ওমেগা ৩ (Omega 3) ফ্যাটি এসিড। অধিবাসীরা কনোনাউ (Cannonau) নামের এক ধরনের মদ তৈরি করে, যাতে সারা দুনিয়ার অন্য যেকোনো মদের চেয়ে তিনগুণ বেশি পলিফেনল (Polyphenol) পাওয়া গেছে। পলিফেনলে প্রচুর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (antioxidant) আছে যা শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। কৃত্রিমভাবে পলিফেনল নিলে তা অনেক সময় শরীরের ক্ষতিও করতে পারে। কিন্তু পরিমিত মাত্রার প্রাকৃতিক পলিফেনলে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ, আরথ্রাইটিস, ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ, আলঝেইমার, হৃদরোগ প্রতিরোধ হয়।

কিন্তু দীর্ঘায়ু হবার মূল রহস্য তাদের সামাজিক পারস্পরিক সম্পর্ক, সমাজবদ্ধতা ও একজন আরেকজনের সাথে ভীষণ রকম জড়িয়ে পিঠিয়ে থাকার মধ্যে নিহিত। বৃদ্ধদের কিভাবে দেখাশোনা সেবাযত্ন করা হবে, কিভাবে পরিবারের সমস্ত কাজে সিদ্ধান্তে তাদের সক্রিয় গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে, এটি সার্ডিনিয়ান সংস্কৃতির খুব গুরুত্বপূর্ণ চর্চা। আমাদের সমাজে মানুষের বয়স বাড়লে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবার প্রচলন বেশি।

কিছু ব্যতিক্রম বাদে পরিবারের বৃদ্ধের দায়িত্ব সবাই একজন আরেকজনের কাঁধে ফেলতে পারলেই বেঁচে যায়। এখন আমাদের দেশেও পশ্চিমাদের মত বৃদ্ধ নিবাসের প্রচলন বাড়ছে। ফলে অনেকেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারছেন এই ভেবে যে ঘরের বুড়োবুড়িকে বাইরে ফেলার একটা উপায় অন্তত হাতে আছে। প্রায়ই বাবা এবং মা দিবসে পত্রিকায় ঢাকা এবং আশপাশের বৃদ্ধ নিবাসগুলোতে থাকা বৃদ্ধদের জীবনের করুণ হৃদয়বিদারক গল্প ছাপা হয়। কিন্ত সার্ডিনিয়ানদের ব্যাপার আলাদা। বয়স যত বাড়তে থাকে এরা পরিবারে, সমাজে ততবেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন। কোন একটি সার্ডিনিয়ান রেস্টুরেন্ট কিংবা পানশালায় ঢুকলে শতবর্ষীদের ছবির পোস্টার, ক্যালেন্ডার ঝুলতে দেখা যায়। পরিবারে এবং সমাজে বৃদ্ধদের অতি আদর এবং উচ্চ সম্মান দিয়ে সবাই মিলে বেঁচে থাকার এই যে চর্চা তা শুধু যে ঐ বৃদ্ধের বেঁচে থাকা বা সুস্থ থাকার জন্য জরুরী তা নয়, এর ফলে তার গড় আয়ু সাধারণের চেয়ে ৬ থেকে ৮ বছর বেড়ে যায়। কার্সটেন হকস (Kirsten Hawkes) এর করা গ্র্যান্ড মাদার ইফেক্ট২ (Grand Mother Effect) নামে এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে সারা পৃথিবীর সব জায়গায়– যে সমস্ত পরিবারের সাথে বৃদ্ধরা থাকেন সেখানে শিশু মৃত্যু এবং শিশুদের রোগবালাইয়ের হার খুব কম, বরং সেসব পরিবারের শিশুরা তুলনামূলক অন্যদের চেয়ে বেশি সুস্থ, সবল থাকে এবং তাদের মানসিক বৃদ্ধি অন্যান্য শিশুর চেয়ে ভাল।

সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। টোকিও থেকে ৮০০ মাইল দক্ষিণে ১৬১টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত ওকিনাওয়া (Okinawa) দ্বীপপুঞ্জ। মূল দ্বীপের উত্তরাংশে পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট দীর্ঘায়ু মানুষদের বাস। এই জায়গায় শারীরিকভাবে সক্ষম অবস্থায় সবচেয়ে বেশিদিন বেঁচে থাকা মানুষরা থাকেন। পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘায়ু নারীদের বাসও এখানে। ১০০ বছর বা সেরকম বেশিদিন বাঁচতে গেলে আমাদের প্রত্যাশার যা কিছু দরকার তার সব এখানকার মানুষদের মধ্যে দেখা যায়। বহু বছর সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকেন এখানকার মানুষ, এখানে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সারের হার পৃথিবীর সর্বনিম্ন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সঙ্গীর সাথে যৌন সম্পর্কের মধ্যেই থাকেন এবং বেশিরভাগ সময়ই ঘুমের মধ্যে মারা যান।

এরা কি করে, কি খায়, কিভাবে জীবনযাপন করে দেখা যাক। এখানেও বেশিরভাগ মানুষ নিরামিষ ভোজী। আমিষও খায় তবে তার মধ্যে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে ছোট মাছ। এ জায়গার নিরামিষ আবার সবজি কেন্দ্রিক। রং প্রধান খাবার যেমন টমেটো, করলা, বিট ও প্রচুর পরিমাণে টোফু খায় এরা। যা খায় তার চেয়ে বেশি চোখে পড়ে কিভাবে খায় সেটি। কম খাবার জন্য সম্ভাব্য সবরকমের পদ্ধতি অবলম্বন করে ওকিনাওয়ানরা। এরা ঠিক ডাইনিং টেবিলে গাদা গাদা খাবার সাজিয়ে খেতে বসে না। যেখানে খায় সেখানে সব খাবার একত্রে পরিবেশন করে না। সাধারণত ক্ষুধা পেটে টেবিলে খাবার সাজানো পেলে সাবাড় করে দেয় সবাই। ওকিনাওয়ান বাসায় এককোণে ছোট ছোট প্লেটে খাবার পরিবেশন করা হয়। ছোট প্লেটে দেয়া হয় যাতে প্রত্যেক বেলায় কম খাবার (ক্যালরি) পেটে যায়। সেখান থেকে প্রত্যেকে তার প্লেট নিয়ে খানিকটা দূরে নির্দিষ্ট জায়গায় একত্রে খেতে বসে। সচেতনভাবে ছোট মাছ খায় যাতে অল্প কিছু মাছ খেলেই মনে হয় অনেক খাওয়া হয়েছে।

এরা তিন হাজার বছরের পুরনো (কনফুসিয়াসের) একটি প্রবাদ বলে খাওয়া শুরু করে। অনেকেরই ধারণা এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভাল ডায়েট সাজেশান এটি। তা হল “হারা হাচি বু (hara hachi bu)”। অর্থাৎ পেট ৮০ ভাগ ভরা পর্যন্ত খাও। নিউরো সায়েন্টিস্টরা দেখিয়েছেন যে, আমাদের পেট ভরে গেলেও আমরা খেতে থাকি, কারণ পেট ভরে গেলে সেই তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছাতে আধা ঘণ্টা লাগে। সাধারণভাবে দেখা যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট খাবার পর আমাদের পেট পুরোপুরি ভরে যায়। কিন্তু এই তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছাতে যদি আরও আধাঘণ্টা লাগে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা বাড়তি আরও ১০/১৫ মিনিট খেতে থাকব, যা সুস্থ শরীর এবং দীর্ঘায়ু হতে গেলে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা।

সার্ডিনিয়ার মত ওকিনাওয়াতেও বৃদ্ধদের সামাজিক মেলামেশার ধরনে কিছু মিল আছে। আমরা জানি নিঃসঙ্গতা ভয়ঙ্কর কষ্টের। দাদা নানাদের কাছে যেসব গল্প শোনা যায় তাতে মনে হয় আজকে আমরা যাকে (নির্দিষ্ট একজনকে) Best Friend বলছি আগে ব্যাপারটা এরকম ছিল না। তখন ভাল বন্ধুদের একটা জটলা ছিল। বাবাদের সময়ে এসে এই জটলা কমে তিনে দাঁড়াল। আমাদের সময়ে এসে একজন। যে Friend, সেই Best Friend। সবচেয়ে হতাশাজনক হল আমাদের সন্তানদের সময়ে এসে সেটা হয়ে গেছে কম্পিউটার, প্লে স্টেশন, ট্যাব, মোবাইল, ফেসবুক, টুইটার, উইচ্যাট এরকম আরও অনেক কিছু। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কেউ যদি ওকিনাওয়াতে জন্মগ্রহণ করে তাহলে এমন এক সামাজিক ব্যবস্থার মধ্যে জন্মাবে যে Automatically তার কমপক্ষে ৬ জন বন্ধু থাকবে। এই সম্পর্কগুলো জন্ম থেকে মৃত্যুর যে দীর্ঘ যাত্রা এর পুরো পথ জুড়ে থাকে। এটাকে বলে মোয়াই (Moai)। মোয়াই ব্যবস্থায় একজন মোয়াই তার সৌভাগ্য, ভাল আয়-রোজগার, ভাল জীবনযাপন আক্ষরিক অর্থেই বাকি মোয়াইদের সাথে ভাগাভাগি করবে। আর যদি বাজে ধরনের কিছু ঘটে, ব্যবসায় ক্ষতি হয়, নিজে বা পরিবারের কেউ অসুস্থ হয় বা মারা যায় তাহলে সবসময়ই কেউ না কেউ তার পাশে থাকে।

 

আমাদের চর্চা, বেঁচে থাকা ও মনস্তত্ত্বে জীবনের তিনটি স্তর গেঁথে আছে। একটা সময় আমরা তৈরি হব (পড়াশুনা), তারপর আয় রোজগার (চাকরি বাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য) তারপর একদিন সব দায়িত্ব অন্য কারো হাতে ছেড়ে দিয়ে অবসরে গমন কিংবা পরকালে যাবার প্রস্তুতি নিতে থাকব। ওকিনাওয়ানদের মধ্যে এরকম কোন ব্যাপার নেই। অবসর বলে তাদের ভাষায় কোন শব্দ নেই। বরং এমন এক শব্দ আছে যা তাদের বেঁচে থাকার পুরো সময়টাতে নির্দিষ্ট একটি লক্ষে পরিচালিত করে। সেটা হল ইকিগাই (ikigai)। বাংলা করলে হয় “প্রতিদিন যে ‘কারণে’ আমার ঘুম ভাঙবে”। একটা কোন নির্দিষ্ট ‘কারণ’ যা চাকরি, ব্যবসা, লেখাপড়া বা কোনকিছুর সাথেই তুলনা হয় না। যেটা ঠিক কোন কাজের জন্য আগ্রহ বা পছন্দ নয়। এটা হল নির্দিষ্ট কোন একটি কাজের প্রতি প্রচণ্ড ভালবাসা এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেই কাজ এগিয়ে নেয়া এবং তার ভেতর বাস করা। ইংরেজিতে যাকে বলে প্যাশন (Passion), আমাদের অনেক Hobby থাকতে পারে, কিন্তু Passion একটাই। আমরা কেউ জানি কেউ জানি না। কেউ খুঁজে পাই কেউ পাই না। যার জন্য আমরা জীবনের সব কিছু উৎসর্গ করতে পারি।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডায় (Loma Linda) সেভেন্থ ডে এ্যাডভান্টিস্টদের (Seventh-Day Adventists) মধ্যে আরেকগুচ্ছ দীর্ঘায়ু মানুষ বাস করে। সেভেন্থ ডে এ্যাডভান্টিস্টরা খুবই রক্ষণশীল ঘরানার প্রোটেস্টেন্ট খ্রিস্টান। শুক্রবার সূর্যাস্ত থেকে শনিবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাদের উপাসনার সময়। এটাকে তারা বলে ২৪ ঘণ্টার উপাসনা। প্রত্যেক এ্যাডভান্টিস্ট এই সময়ে ৫টি কাজ খুব সচেতনভাবে করে, যা তাদের দীর্ঘায়ুর মূল কারণ বলে মনে করা হয়। প্রায় ৭০ হাজার আমেরিকানের উপর ৩০ বছর গবেষণা করে দেখা গেছে, আমেরিকার নারীদের গড় আয়ু ৮০, কিন্তু এ্যাডভান্টিস্ট নারীদের ক্ষেত্রে ৮৯, আমেরিকান পুরুষদের গড় আয়ু ৭৬, কিন্তু এ্যাডভান্টিস্ট পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৮৭। ১১ বছর বেশি।

আমাদের কৌতূহল ধর্মীয়ভাবে পালন করা জীবনযাপন পদ্ধতির মধ্যে কি আছে যা দীর্ঘায়ু হতে সাহায্য করে। মূলত এটি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন। এ্যাডভান্টিস্টদের সচেতনভাবে করা ৫টি কাজের মধ্যে প্রথমটি হল বাইবেলের জেনেসিস ১- স্তবক ২৯ অনুযায়ী এ্যাডভান্টিস্টরা খাদ্য গ্রহণ করে। ইতিহাসবিদরা হয়ত বলতে পারবেন ঠিক কোন সময়ে বা কি কারণে এরকম একটি স্তবক আসল। হয়ত একটা সময় ছিল যখন মানুষ মাছ মাংস খাওয়া শিখেনি কিংবা রান্না জানত না। সবজি-ফল খেয়েই জীবন ধারণ করত, যাই হোকনা কেন; জেনেসিস ১- স্তবক ২৯- ঈশ্বর বললেন, “আমি তোমাদের শস্যদায়ী সমস্ত গাছ ও সমস্ত ফলদায়ী গাছপালা দিচ্ছি। ঐসব গাছ বীজযুক্ত ফল উৎপাদন করে। এই সমস্ত শস্য ও ফল হবে তোমাদের খাদ্য।” এখানে কিন্তু আমিষের উল্লেখ নেই। কঠোরভাবে তারা এই স্তবকের নির্দেশ পালন করে। যত ব্যস্ততা, কাজের চাপ, জরুরি বিষয় পড়ে থাকুক, এ্যাডভান্টিস্টরা শুক্রবার সূর্যাস্তের সময় থেকে শনিবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত (সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা) ২) সব কিছু বন্ধ করে দেয়, ৩) ঈশ্বরের প্রতি মনোনিবেশ করে, ৪) বাস্তব সামাজিক, পারিবারিক যোগাযোগ স্থাপন করে, ৫) প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটায় (আনুষ্ঠানিকভাবে রীতিমত জঙ্গলের ভেতর হাঁটা বা পাহাড়ে চড়া বা সমুদ্রের কাছাকাছি গিয়ে ঘুরে বেড়ানো)। এ্যাডভান্টিস্টরা এই পাঁচটি কাজ ধর্মীয় নির্দেশ হিসেবে মেনে নিয়ে সারা জীবন প্রত্যেক সপ্তাহে একদিন করে করতেই থাকে। বেশিরভাগ সময় এ্যাডভান্টিস্টরা অন্য এ্যাডভান্টিস্টদের সাথেই বেশি আড্ডা, পার্টি, মেলামেশা করে।

এ্যাডভান্টিস্টদের পার্টিতে গেলে কখনই তাদের মদ এবং মাংস চিবুতে দেখা যাবে না। তাদের বন্ধুত্ব, সামাজিক যোগাযোগ, বন্ধন এত শক্তিশালী যে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের জীবনযাপন, কাজ, পছন্দ-অপছন্দ, বেঁচে থাকার উপর ভীষণ কার্যকর প্রভাব বিস্তার করে। উল্লেখিত অভ্যাসগুলোর কোনটিই কঠিন বা ব্যয়বহুল নয়, আবার এমন নয় যে এই অভ্যাসে চলতে হলে কাউকে এ্যাডভান্টিস্টই হতে হবে। এটাই হয়ত জাতি নির্বিশেষে তাদের এই দীর্ঘায়ু পাবার রহস্য।

নিকোয়া (Nicoya), নিকারাগুইয়ান বর্ডারের দক্ষিণে ৮০ মাইল লম্বা কোস্টারিকার উপদ্বীপ। অনেক বছর আগেই গবেষকরা এখানকার কয়েকটি গ্রামে প্রচুর দীর্ঘায়ু মানুষদের উপস্থিতি চিহ্নিত করেছিলেন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ এলাকার অধিবাসীরা প্রচুর সূর্যের আলো পায়। নিয়মিত সূর্যের আলো গায়ে লাগায় এখানকার মানুষদের শরীরে প্রচুর ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয় যা শক্ত হাড় এবং সুস্থ শরীর গঠনে ভূমিকা রাখে। প্রচুর ভিটামিন ডি-এর উপস্থিতির কারণে এ এলাকার লোকদের হাড়ের ভঙ্গুরতা এবং হৃদরোগ খুব কম।

নিয়মিত কায়িক শ্রম নিকোয়ানদের দীর্ঘ আয়ু পাবার একটা বড় কারণ বলে মনে করা হয়, দেখা গেছে অন্যান্য এলাকার শতবর্ষীদের মত এখানকার শতবর্ষীরাও বেশিরভাগ নিরামিষ ভোজী এবং পরিমাণে কম খান। সাোজিক উৎসব পার্বণে এখানকার বয়স্কদের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। এর বাইরেও আত্মীয়-বন্ধুরা নিকোয়ার বয়োজ্যেষ্ঠদের নিয়মিত দেখতে আসেন। যা তাদের সাংস্কৃতিরই অংশ। ওকিনাওয়ানদের যেমন ‘ikigai’ ছিল এখানকার শতবর্ষীদের জিজ্ঞেস করে সেরকমই জানা গেছে। বৃহত্তরের স্বার্থে খুব নির্দিষ্ট জরুরি কোন একটি লক্ষ (plan de vida) অর্জনের জন্যই তারা বেঁচে থাকেন এবং প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে সেই লক্ষে কাজ শুরু করেন।

উল্লেখিত চার জায়গার দীর্ঘায়ু মানুষদের জীবনযাপনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য একত্র করলে যা পাওয়া যায়—

১. ব্যায়াম বলে আমরা যা বুঝি সেটা এরা কেউই করে না, প্রাত্যহিক কায়িক শ্রমের মধ্যে থাকেন। এমনভাবে এদের প্রতিদিনের কর্মসূচি নির্দিষ্ট করা যে বেশ কিছু কায়িক শ্রমের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। ওকিনাওয়ানরা বাসার আসবাবপত্র এমনভাবে বিন্যাস করে- যে কোনো কাজ করতে হলেই শ্রম দেয়া লাগে। মাটিতে বসে খাওয়া দাওয়া এবং বাইরে থেকে বন্ধু পরিজন এলে মাটিতে বসেই কথাবার্তা বলে থাকেন। ফলে দিনে ৩০/৪০ বার তার উঠা-বসা করতে হয়। রান্নাঘর থেকে নিজেই ছোট ছোট প্লেটে করে খাবার সংগ্রহ করে একটু দূরে গিয়ে একত্রে খেতে বসেন। সার্ডিনিয়ানরা মাটি থেকে বেশ উঁচুতে ঘর বানায়, সারাদিনে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে বহুবার উঠতে নামতে হয়। যতবার দোকানে যায়, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, অফিসে কিংবা চার্চে সব কিছুই হেঁটে করেন। গার্হস্থ্য থেকে শুরু করে রান্নার সমস্ত কাজই একদম প্রাচীন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হয়। প্রায় সবাই বাড়ির কাছাকাছি কোথাও দলগত কিংবা ব্যক্তিগতভাবে বাগান করে নিজেদের দরকারি সকল সবজি উৎপাদন করে। একই কথা এ্যাডভানটিস্ট, নিকোয়ানদের ক্ষেত্রেও সত্যি। নিকোয়ান আর এ্যাডভানটিস্টরা রিতিমত পরিশ্রমী জীবনযাপন করে।

২. এদের প্রায় প্রত্যেকেরই ‘ikigai’, ‘plan de vida’ বা জীবনে বেঁচে থাকার সুনির্দিষ্ট কোন একটি কারণ আছে, বৃহত্তরের একটি লক্ষে জীবনকে পরিচালিত করেন। যা থেকে কেউ অবসর নেয় না, কেউ অবসর দেয়ও না। কারণ ব্যক্তি নিজেই নিজেকে নিয়োজিত করে।

৩. চারটা সমাজেই বয়োজ্যেষ্ঠদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়। এমন নয় যে বয়স হয়েছে বলে শ্রদ্ধা করা নিয়ম বলে করে, শ্রদ্ধা তো আছেই, কিন্তু ব্যাপারটা শুধুমাত্র শ্রদ্ধা নয়, প্রত্যেকটি সমাজে দেখা গেছে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই মানুষরা সমাজে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সিদ্ধান্তে, কাজে, সামাজিক যোগাযোগে, উৎসবে পার্বণে সবকিছুতে এই বয়স্কদের খুব কার্যকর অংশগ্রহণ আছে। সাধারনভাবে এই চারটি সমাজের প্রায় সকলেই প্রচুর বন্ধু পরিবেষ্টিত থাকে, নিয়মিত আড্ডা দেয়, ফুর্তিতে থাকে এবং সারাবছর ধরে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকে। কার্যকর সামাজিক যোগাযোগ, বন্ধন, বন্ধুত্ব, সহযোগিতার মনোভাব এত ভাল যে তা রিতিমত একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন।

৪. এরা কেউই টানা কাজ করে না। রাতের ঘুম বাদেও দিনের একটা সময় এরা বিশ্রাম নেয়, প্রার্থনা বা ধ্যান করে কিংবা কোন না কোন উপায়ে ‘মানসিক প্রশান্তি’ স্থাপন করে। যা তাদের মস্তিষ্ককে প্রণোদিত করে, উত্তেজনা প্রশমন করে এবং শরীরের মেটাবোলিজম ঠিক রাখে। ফলে বেশিভাগেরই হৃদরোগ, আলঝেইমারস, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বলে কিছু হয় না।

৫. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রায় সবাই নিরামিষভোজী এবং কম খায়। কেউ কেউ সচেতনভাবেই তার জীবনযাপন প্রণালীর ডিজাইন এমনভাবে করে রেখেছেন যে, চাইলেও বেশি খেতে পারেন না। বহু গবেষক একমত হয়েছেন যে, “খাদ্যাভ্যাসই মানুষের দীর্ঘজীবন পাবার মূল কারণ।”

১/ A Danish Population-Based Twin Study on General Health in the Elderly by Kaare Christensen, MD, PhD, Niels V. Holm, MD, PhD, Odense University Medical Schoo, Matt Mcgue, PhD, University of Minnesota, Larry Corder, PhD, Duke University, James W. Vaupel, PhD, Max Planck Institute for Demographic Research)

২/ The Grand Mother Effect by Kirsten Hawkes, NATURE, VOL 428, 11 MARCH 2004, www.nature.com/nature।

৩/ The Secrets of Longevity by Dan Buettner and David Mclain, National Geographic, November 2005

লেখক : মাহবুব সুমন। পড়াশোনা- ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। বর্তমানে আরএমজি খাতে এনার্জি কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত। নির্বাহী পরিচালক, এসইউএনইসি। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে তার লেখা একটি বই সম্প্রতি প্রকাশ করেছে সিবিএস। এ ছাড়া ‘প্রতিবেশ আন্দোলন’ নামের পরিবেশবাদী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য।

সূত্র: দি রিপোর্ট