রইস ভূঁইয়াকে সম্মানিত করা হল শান্তির অগ্রদূত হিসাবে

Rais_Bhuiyanবর্তমান পৃথিবীতে মানবতার পথ ক্রমেই রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে, ধর্মীয় উন্মাদনার মাঝে মানবতার কণ্ঠরোধ করে সন্ত্রাসবাদ। তার  বিরুদ্দ্বে সোচ্চার কণ্ঠস্বর হলেন বাংলাদেশের কৃতি সন্তান শান্তির অগ্রদূত রইস ভূঁইয়া। ক্যালিফোর্ণিয়ার লংবীচে মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের দুইদিনব্যাপী সম্মেলনে  রইস ভূঁইয়াকে সম্মানিত করা হল শান্তির অগ্রদূত হিসাবে গত ১৩ ডিসেম্বর।America Deserve better 2
তিনি বলেন, সমগ্র মানবজাতির সংরক্ষনে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনবিধানের কোন বিকল্প নাই।  ক্ষমা ও সহমর্মিতার মিশন নিয়ে ক্ষমাসুন্দর একটি পৃথিবী বিনির্মাণ করতে আহ্বান জানান রইস ভূঁইয়া। ‘ওয়ার্ল্ড উইদাউট হেট’ নামে সংগঠনের প্রধান ও সম্মেলনের কীনোট স্পীকার হিসাবে রইস ভূঁইয়া বলেন,‘অন্য লোকেরা ভিন্ন বলেই তাদের ঘৃণা করতে হবে, এমনটা যাতে কেউ ভাবতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যদি সত্যিই কোনো কিছুকে ঘৃণা করতে চান, তবে আচরণকে ঘৃণা করুন।’Rois Bhuiyan LA city commissioner Majib Siddique Ekush New Media Los Angeles 2
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচিত এক নাম। রইস ভূঁইয়া। এক গর্বিত বাংলাদেশির নাম। ২০০১ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের প্রতি যে চরম ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষের খড়্গ নেমে এসেছিল, রইস ভূঁইয়া ছিলেন তার অন্যতম শিকার। তিনি এখন হলিউডে অবস্থান করছেন।  দ্য ট্রু অ্যামেরিকান মুভির পরিচালক, প্রযোজকদের সাথে মুভির স্ক্রিপ্ট ও ডিটেইলস নিয়ে ব্যস্ত আছেন।
বিজয় দিবসে তিনি লিটল বাংলাদেশ ও কনস্যুলেটে স্থানীয় প্রবাসীদের সাথে মিলিত হন।
Rais Bhuiyan True American Jahan Hassan

রইসুদ্দিন ভূঁইয়াকে নিয়ে হলিউডে মুভি হচ্ছেঃ
যুক্তরাষ্ট্রের অস্কার বিজয়ী পরিচালক ক্যাথরিন বিগেলো ‘দ্য ট্রু অ্যামেরিকান’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। চলচ্চিত্রটির নাম-ভূমিকায় থাকবেন টম হার্ডি। চলচ্চিত্রের গল্পের একটি অংশে এক বাংলাদেশী অভিবাসীর কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। আনন্দ গিরিধরাদাসের লেখা নন-ফিকশনধর্মী ‘দ্য ট্রু অ্যামেরিকান: মার্ডার অ্যান্ড মার্সি ইন টেক্সাস’ গ্রন্থ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হবে। The True Americanযুক্তরাষ্ট্রে ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত গ্রন্থটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘অ্যারাব স্লেয়ার’ বা ‘আরবের অভিবাসীদের হত্যাকারী’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন কুখ্যাত মার্ক অ্যানথনি স্ট্রোম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সত্যি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে ‘দ্য ট্রু অ্যামেরিকান’-এর মূল পটভূমি। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি রইসুদ্দিন ভূঁইয়া ডালাসের মুসলমান অভিবাসী। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজ চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তিনি। ২০০১ সালের ২১শে সেপ্টেম্বরের ঘটনা। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসের একটি গ্যাস স্টেশনের কাউন্টারে কাজ করছিলেন রইস ভূঁইয়া। এ সময় দুই বাহুতে ট্যাটু আঁকা ও স্বাস্থ্যবান এক ব্যক্তি কাউন্টারে হেঁটে যান ও একটি শটগান বের করেন। আতঙ্কে রইস ক্যাশ রেজিস্টার থেকে টাকা বের করে তাকে দিতে যান। কিন্তু, টাকার দিকে তার কোন খেয়াল ছিল না। সে অবিচল থেকে জিজ্ঞেস করে, আপনার দেশ কোথায়? উত্তর জানামাত্রই রইসের মাথায় গুলি করে মার্ক স্ট্রোম্যান। সৌভাগ্যবশত, মাত্র কয়েক মিলিমিটারের জন্য শটগানের গুলিটি রইসের মস্তিষ্কে লাগেনি। তার একটি চোখ প্রায় অন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ওয়াকার হাসান ও বসুদেব পাটেল নামে দুই ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল স্ট্রোম্যান। এরপরই স্ট্রোম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক হওয়ার সে জানতে পারে তার হাতে হতাহতদের কেউই আসলে আরবের নাগরিক নন। পুরোটাই ছিল তার ভ্রান্ত ধারণা। মানবিক বোধসম্পন্ন রইস উদ্দিন স্ট্রোম্যানকে মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে রক্ষারও চেষ্টা করেন। কিন্তু, তাতে লাভ হয় না।WWH ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার পর আরবের অভিবাসীদের ওপর যে ঘৃণা জন্ম নিয়েছিল স্ট্রোম্যানের সেখান থেকে সে হয়ে ওঠে এক কুখ্যাত খুনী। শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে আদালত। এ গল্প ধরেই এগিয়েছে ‘দ্য ট্রু অ্যামেরিকান’-এর কাহিনী।