তালাকে এগিয়ে স্ত্রীরা

0
8

image

রাজধানীতে সংসার ভাঙার ঘটনা বাড়ছে। বেশিরভাগ হচ্ছে মেয়েদের পক্ষ থেকে। স্ত্রীরা স্বামীকে তালাক দিচ্ছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হিসাব মতে, মোট তালাকের ৭৫ ভাগই দিচ্ছেন নারীরা। বছরে নগরীতে পাঁচ হাজারের বেশি বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। বছর ঘুরতেই এর মাত্রা বাড়ছে বলে করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে।

সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুটি কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ বাড়ছে। প্রথমত, মেয়েরা আগের চেয়ে বেশি শিক্ষিত হচ্ছেন। তারা এখন অনেক সচেতন। মুখ বুজে নির্যাতন সহ্য না করে তালাকের পথ বেছে নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, মোবাইল, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, ফেসবুকে আসক্ত হয়ে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা হারাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিয়ে বিচ্ছেদের বেশিরভাগ ঘটনা ঘটছে উচ্চবিত্তের ক্ষেত্রে। পরকীয়া, যৌতুক ও শারীরিক নির্যাতন, মাদকাসক্তসহ নানা কারণে বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে।

করপোরেশনের হিসাব মতে, ২০০৫ সালের বিয়ে বিচ্ছেদের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৫২৫টি, ২০০৬ সালে তা বেড়ে ৬ হাজার ১২০টি, ২০০৭ সালে এ সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ২০০টি, ২০০৮ সালে এর পরিমাণ কিছুটা কমে আসে। সে বছর বিয়ে বিচ্ছেদের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৭৮টি। ২০০৯ সালে তা আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭০৪টি। ২০১০ সালে এ সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৯০৫টিতে। ২০১১ সালে ৭ হাজার ৯০৬টি। ২০১২ সালে ৭ হাজার ৬৭২টি আর ২০১৩ সালে ৮ হাজার ২১৪টি ডিভোর্সের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ডিভোর্সের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৮৮টি। এর মধ্যে সাড়ে ৬ হাজার ডিভোর্সের ঘটনা নারীদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে।

গুলশান মডেল টাউনের বাসিন্দা গৃহবধূ পেশায় মিডিয়া কর্মী। স্বামী ব্যবসায়ী। ১ ছেলে ও ১ মেয়ের মা। দেবরের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। পরে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দেবরকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছু দিন পর দেবরের স্ত্রী ঘটনাটি জেনে তীব্র প্রতিবাদ করেন। এ কারণে দেবর আগের স্ত্রীকে তালাক দেন। একমাত্র মেয়ে লন্ডনে এমবিবিএস পড়ছিল। বাবার এ কাজে হতাশ হয়ে লেখাপড়া ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসেন। মায়ের সঙ্গে এখন তিনি গুলশানে বসবাস করছেন। করপোরেশনের (গুলশান) অঞ্চল-৯ এ দুটো তালাক কার্যকর হয়েছে।

উত্তরা মডেল টাউনের বাসিন্দা এক যুবক। বনিবনা না হওয়ার কারণ দেখিয়ে স্ত্রীকে তালাক দেন। স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় স্ত্রী বাবার বাড়ি অবস্থান করছিল। তালাকের আবেদনে স্ত্রীর ঠিকানা ভুল দেয়ায় ৯০ দিনে ৩টি নোটিস করে জবাব না পাওয়ায় করপোরেশন এ তালাক কার্যকর করে। এরপর ঘটনাটি স্ত্রী পক্ষ জেনে অনেক চেষ্টা করলেও কিছুই হয়নি। জানা যায়, আরেকটি বিয়ে করতে ঐ যুবক এ ঘটনা ঘটান।

তবে এসব তালাকের ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা থাকে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুনসুর আহমেদ বলেন, ডিভোর্স যেই দিক দেনমোহর স্বামীকে পরিশোধ করতে হবে। এজন্য পারিবারিক আদালতে স্ত্রীকে মামলা করতে হবে। এমনকি স্ত্রী ডিভোর্সের পর গর্ভজাত সন্তানের ভরণপোষণ দাবি করতে পারবেন। এগুলো তার অধিকার।

ঢাকাটাইমস