৮০ হাজার একর অব্যবহূত জমি ইজারার পরিকল্পনা সওজের

image

সারা দেশে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) প্রায় ৮০ হাজার একর অব্যবহূত জমি ইজারার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৪’। বর্তমানে সড়ক-মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা এসব জমির কিছু অংশ বিভিন্ন সময় বেদখল হয়েছে। অব্যবহূত জমি থেকে সওজের আয়ও নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, নীতিমালা চূড়ান্তের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে নীতিমালার খসড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৪ চূড়ান্ত হবে। এর পর অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

নীতিমালার আওতায় সারা দেশে ভূমির তথ্য সংরক্ষণ ও মালিকানা নিশ্চিত এবং ভূমির রেকর্ডপত্র হালনাগাদ হবে। পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও অব্যবহূত জমি সুষ্ঠু ব্যবহারে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নমূলক কাজ ছাড়াও ভাস্কর্য ও স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন, যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা সিএনজি-পেট্রল পাম্পে যাতায়াতে রাস্তা নির্মাণ, বিলবোর্ড স্থাপন, মত্স্য চাষ, কৃষিকাজ ইত্যাদি ক্ষেত্রে জমি ইজারা ও ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার কথা ভাবছে সওজ।

এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক বণিক বার্তাকে বলেন, নীতিমালার খসড়া সংশ্লিষ্ট সবার কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জনমতও যাচাই হচ্ছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সওজের ভূমি ব্যবহার নীতিমালার চূড়ান্ত হবে। এর পর অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

নীতিমালায় উল্লেখ আছে, সওজ গঠনের সময় বেশকিছু জমি উত্তরাধিকার হিসেবে পায় সংস্থাটি। এছাড়া সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় প্রচুর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হস্তান্তরের মাধ্যমে বেশকিছু জমির মালিকানাও লাভ করে সওজ। এর বড় অংশ সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হলেও প্রায় ৮০ হাজার একর অব্যবহূত থেকে যায়।

তবে কোনো জমি বিক্রি বা স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেবে না সওজ। এছাড়া নিরাপদ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা ও ভবিষ্যত্ সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও সংরক্ষিত থাকবে। তবে অব্যবহূত জমি সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো সংস্থার প্রয়োজনে অস্থায়ীভাবে ইজারা দেয়া হবে। সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হবে। এজন্য সওজকে দিতে হবে নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও বার্ষিক নবায়ন ফি। তবে প্রয়োজনে যে কোনো সময় জমি ফিরিয়ে নিতে পারবে সওজ।

এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী এম ফিরোজ ইকবাল বলেন, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এসব জমি ঠিকমতো ইজারা দেয়া যাচ্ছে না। তাই নীতিমালা করা হচ্ছে।

নীতিমালার তথ্যমতে, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য জমি ইজারা দেয়া যাবে। বিদ্যুত্, গ্যাস, পানি, অপটিক্যাল ফাইবারসহ বিভিন্ন পরিষেবা সংযোগ লাইন স্থাপনে এসব জমিতে কোনো ধরনের ফি নেবে না সওজ। তবে যে কোনো প্রয়োজনে ৪৫ দিনের নোটিসে তা ফেরত নিতে পারবে সংস্থাটি। একইভাবে যাত্রী ছাউনি নির্মাণে কোনো ইজারামূল্য নেয়া হবে না। তবে চালকের দৃষ্টি প্রতিবন্ধক হয়, এমন জায়গায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা যাবে না। যাত্রী ছাউনির ভেতরে অস্থায়ী ভিত্তিতে দোকান বা বিলবোর্ড স্থাপনেও জমি ইজারা দিতে পারবে সওজ।

জানা যায়, সড়ক-মহাসড়কের পাশে বিলবোর্ড স্থাপনে তিন বছরের নবায়নযোগ্য শর্তে জমি ইজারা দেবে সওজ। ধরনভেদে জাতীয় মহাসড়কে বিলবোর্ড স্থাপনে এককালীন ফি দিতে হবে ২ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। আঞ্চলিক মহাসড়কে বিলবোর্ড স্থাপনে এককালীন ফি ১ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার টাকা আর জেলা সড়কে ৮০০ থেকে ১৬ হাজার টাকা। এককালীন ইজারামূল্যের ১০ শতাংশ অর্থবার্ষিক নবায়ন ফি হিসেবে দিতে হবে। ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যুত্ বিলও গ্রাহককে দিতে হবে। এছাড়া প্রতি বছর এককালীন মূল্য ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। আর বিলবোর্ডে সরকার প্রতি বছর বিনা ভাড়ায় সর্বোচ্চ ৩০ দিন নিজস্ব বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবে।

সওজের সড়ক দ্বীপের ওপর ভাস্কর্য ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেও এককালীন মূল্য পরিশোধ শর্তে জমি ইজারা দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মৌজার জমির মূল্য ও ব্যবহূত জমির পরিমাণের ভিত্তিতে এককালীন মূল্য নির্ধারিত হবে। তবে সড়ক দ্বীপের বাইরে কোনো স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণ করা যাবে না। এছাড়া সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনে ৪৫ দিনের নোটিসে ভার্স্কয সরিয়ে নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে।

সড়ক-মহাসড়কের পাশে নিরাপদ দূরত্বে স্থাপিত বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন বা পেট্রল-সিএনজি স্টেশনে যাতায়াতে রাস্তা নির্মাণে জমি ইজারা নেয়া যাবে। সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদে নবায়নযোগ্য ইজারার জন্য এককালীন মূল্যের পাশাপাশি বার্ষিক নবায়ন ফি পরিশোধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মৌজার জমির মূল্য ও ব্যবহূত জমির পরিমাণের ভিত্তিতে এককালীন মূল্য ও বার্ষিক নবায়ন ফি নির্ধারিত হবে।

সওজের স্থানীয় কার্যালয়ের অনুমতি নিয়ে সড়কের ঢালে সামাজিক বনায়ন করা যাবে। এজন্য কোনো ধরনের চার্জ বা ফি দিতে হবে না। উল্লিখিত ক্ষেত্র ছাড়াও সওজের অব্যবহূত জমি কৃষিকাজ ও মত্স্য চাষে তিন বছরের নবায়ন শর্তে ইজারা নেয়া যাবে। এছাড়া সড়ক মেরামতের সামগ্রী রাখতে জমি ইজারা নিতে পারবেন ঠিকাদাররা। তবে এক্ষেত্রে এক বছরের ইজারা দেয়া হবে।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ ইকবাল জানান, সারা দেশে সওজের সব জমিই প্রয়োজনীয়। তাই অস্থায়ীভাবে এসব জমি ইজারা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু নিজস্ব প্রয়োজনে সওজ যে কোনো সময় চুক্তি বাতিল করে জমি ফিরিয়ে নিতে পারবে।