মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে পৃথিবী!

image

জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর ফলে প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের বিভিন্ন প্রজাতির উচ্চ গতিতে বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে মানুষের বসবাসের জন্যও পৃথীবি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার প্রকৃতির উপর মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রভাব সম্পর্কিত এক বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

২০০৯ সালে পৃথীবিতে মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসস্থলের সীমানা নির্ধারণ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে ১৮ জন বিশেষজ্ঞ আরো বিশদভাবে কাজ করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। প্রতিবেদনে বনাঞ্চল উজাড় এবং কৃষি জমিতে ব্যবহৃত সার থেকে নির্গত নাইট্রোজেন ও ফসফরাস নির্গমণের ফলে পরিবেশ দূষণ সম্পর্কেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

ওই ১৮ গবেষকের একজন স্টকহোম রেজিলিয়েন্স সেন্টারের সারাহ কর্নেল বলেন, আমি মনে করি না যে আমাদের গ্রহটিকে আমরা ইতোমধ্যেই ভেঙ্গে ফেলেছি। কিন্তু আমরা দিন দিন গ্রহটিকে মানুষের বসবাসের জন্য অযোগ্য করে তুলছি।

সায়েন্স নামক বিশ্বখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আমরা চারটি ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই সীমা অতিক্রম করে গিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাণী জগতের বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্তি, ভুমির ব্যবহার এবং সার ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ এই চারটি ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই বিপদসীমা অতিক্রান্ত হয়েছে।

তবে, স্বাদু পানির ব্যবহার, সমুদ্রের পানিতে এসিডের পরিমাণ বেড়ে সৃষ্ট দূষণ, ওজন স্তরের ক্ষয় এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। আর বায়ু দূষণের বিষয়টি এখনো সঠিকভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাণী জগতের বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্তিকেই উদ্বেগের প্রধান দু’টি ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই দু’টি ক্ষেত্রের বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত গতিতে চলতে থাকলে পৃথীবির চেহারাই বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

বায়ুমণ্ডলে প্রধান গ্রিন হাউজ গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বায়ুমণ্ডলে নিরাপদ কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা হল ৩৫০ পিপিএম, যা ইতোমধ্যেই ৩৯৭তে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পরিবেশ দূষণ এবং বনাঞ্চল উজাড়ের ফলে প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটছে নিরাপদ সীমার চেয়ে ১০ থেকে ১০০ গুন বেশি হারে।

স্টকহোম রেজিলিয়েন্স সেন্টার এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক উইল স্টিফেন বলেন, একে একে প্রতিটি ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রমের মাধ্যমে পৃথীবিকে আমরা দিনদিন মানুষের জন্য বসবাসের অযোগ্য করে তুলছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের শেষদিকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিশ্বের ২০০ দেশের সরকার অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে বন্যা, খরা, তাপদাহ এবং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি প্রতিরোধে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য এক জলবায়ু সম্মেলনে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উৎসঃ   ঢাকাটাইমস২৪