‘বড় খেলাপির বিশেষ সুবিধা নৈতিক সমস্যা তৈরি করবে’

‘বড় খেলাপির বিশেষ সুবিধা নৈতিক সমস্যা তৈরি করবে’

image
'নীরব দেশত্যাগ, হুন্ডি ও অভিবাসন' বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ অন্য অতিথিরা

৫০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি থাকা ঋণগ্রহীতার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বিশেষ সুবিধা নৈতিক সমস্যা তৈরি করবে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। গতকাল ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক ড. মামুন রশীদের লেখা ‘নীরব দেশত্যাগ, হুন্ডি ও অভিবাসন’ শিরোনামের একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক হানিফ মাহমুদ, বইয়ের প্রকাশনা সংস্থা আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্সের এমডি মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন চৌধুরী বক্তব্য দেন।

ড. মামুন রশীদ জানান, তাঁর বইটি বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা প্রবন্ধের সংকলন। দেশে-বিদেশে ব্যাংকিং ও নিরীক্ষায় কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় ওই বইতে উল্লেখ করেছেন তিনি। বই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপির জন্য নতুন নীতিমালা কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা প্রশ্নসাপেক্ষ। এতে ‘মোরাল হ্যাজার্ড’ (নৈতিক সমস্যা) তৈরি করবে। যত বেশি দোষ, তত বেশি উপকৃত হব-এ দর্শন থেকে এ নীতিমালা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন যার ৪৯০ কোটি টাকার কুঋণ আছে তিনি সুবিধা পেতে আরো ১০ কোটি টাকা খেলাপি হতে চাইবেন।’

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে আসলে এতগুলো ব্যাংকের কোনো প্রয়োজন নেই। ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় সুদের হার কমছে না।’

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এখন রিলেশনশিপ ব্যাংকিং চলছে। ব্যাংকগুলো ঋণগ্রহীতাকে ঋণ দেয়, সে ঋণ নিয়ে কী করে খোঁজ নেয় না। একবার দেওয়ার পর আবার দেয়। ফলে ঋণ এখন কিছু ব্যক্তি ও এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে।’

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর অনেক খেলাপি ঋণ আসলে ঋণই নয়। সেগুলো দেওয়াই হয়েছে লুটপাটের জন্য।’ খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য তিনি আলাদা আদালত প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমাদের দেশের নীরব দেশত্যাগ সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। এ দেশে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা কমে ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আমরা একটি সহিঞ্চু ও উদার দেশে বসবাস করি। তার পরও সংখ্যালঘুরা কেন নিজেদের নিরাপদ বোধ করছে না তা ভেবে দেখা দরকার।’ ড. আকবর আলি খান বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসন নিয়ে ভাবার কারণ আছে। কারণ এখান থেকে যাচ্ছে উচ্চ শ্রেণির মানুষ। কেন যাচ্ছে তা চিন্তা করা দরকার।

– সূত্র: কালের কন্ঠ