অভিজিৎ হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করল এফবিআই

image

বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ও বাংলা একাডেমি এলাকা পরিদর্শন করেছেন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সদস্যরা। শুক্রবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে চার সদস্যের এফবিআই প্রতিনিধি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় পৌঁছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা টিএসসি ও বাংলা একাডেমি এলাকা পরিদর্শন করে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তারা ওই স্থান ত্যাগ করেন।

এফবিআই সদস্যরা অভিজিৎ হত্যার ঘটনাস্থলে বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন, ঘটনাস্থলের ছবি তোলেন।

image

ডিবি পুলিশের উপকমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, এফবিআই প্রতিনিধি দলটি অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের স্থান ও বাংলা একাডেমি এলাকা ঘুরে দেখেছেন। তারা এ হত্যার ঘটনায় আমাদেরকে টেকিনিক্যাল সহযোগিতা করছে। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সহযোগিতা তারা করবে।

তিনি বলেন, ডিবি ও এফবিআই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ হত্যার তদন্ত কাজ শুরু করেছে। তারা ঘটনাস্থলে এসে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তদন্ত উল্লেখযোগ্য সফলতা এলে আমরা গণমাধ্যমকে জানাবো।

এর আগে, ঘটনা তদন্তে সহায়তার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘চার সদস্যের প্রতিনিধি দলটি আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করেছে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ বৈঠক হয়। এ সময় তারা আমাদের কাছে অভিজিৎ হত্যার প্রাথমিক ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আমরা তাদের এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অবহিত করেছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এর দল ঢাকার আসার কারণ সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা অভিজিৎ হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে নয়, আমাদের তদন্তে সহায়তা করতে এসেছে।’

প্রতিনিধি দলটি তদন্তে সহায়তার জন্য কয়েক দিন ঢাকায় অবস্থান করবে বলেও জানান তিনি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক লেখক দম্পতি অভিজিৎ রায় ও রাফিদা আহমেদ বন্যা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় অভিজিতের। গুরুতর আহত বন্যাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন বন্যা।

এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি নিন্দা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার চাইলে তদন্তে সহযোগিতা করার কথাও জানায় দেশটি।

এরপর ১ মার্চ হত্যাকাণ্ড তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নেওয়া হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

(দ্য রিপোর্ট/মার্চ ০৬, ২০১৫)