শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫৮ শতাংশ:

0
2

শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫৮ শতাংশ:

image

০৭ মার্চ, ২০১৫
চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় খেলাপি হয়ে পড়েছেন দেশের অনেক  ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ী। গত ডিসেম্বর শেষে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা ২০১৩ সালের একই সময়ে ছিল ১১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে ।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্থিরতা শুরু হলেও নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভালো ব্যবসা করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা; যার ফলে ব্যাংকঋণও শোধ করতে পারেননি তারা। চলমান অস্থিরতার কারণে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বিশেষ সুবিধার আশায়ও অনেকে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হচ্ছেন।  জানা গেছে, ২০১৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প খাতে ৮০ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছিল। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে। এর মধ্যে সরকারি খাতের সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক বিতরণ করে ২ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। কিন্তু সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আগের বছরের চেয়ে বাড়ে ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৪ সালের শেষ ছয় মাসে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। তবে বিশেষায়িত ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় দেড় হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। একইভাবে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণও ১৩১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা; আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা।

গত বছরের শেষ ছয় মাসে শিল্প খাতে বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। এ সময় খেলাপি ঋণও ৪ হাজার ৭৪ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২২৮ কোটি টাকা।

বিদেশী ব্যাংকগুলো ২০১৪ সালের শেষ ছয় মাসে বিতরণ করে ১৪ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। একইভাবে খেলাপি ঋণও ৪১২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬২১ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা