শিল্পীদের সম্মান এবং সম্মানীর বিষয়ে ফোবানা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী সম্পাদকের যুক্ত বিবৃতি:

শিল্পীদের সম্মান এবং সম্মানীর বিষয়ে ফোবানা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী সম্পাদকের যুক্ত বিবৃতি:

image

একথা স্বীকার করতেই হবে যে ফোবানা সম্মেলনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্ব হচ্ছে বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পীদের ৩ দিনব্যাপী উপভোগ্য পরিবেশনা। এজন্য প্রতি বছর ফোবানার হোস্ট কমিটিকে গুনতে হয় একটি বিশাল অঙ্কের টাকা।

প্রথমেই একটা বিষয় পরিষ্কার করে নেয়া ভালো তা হল ‘ফোবানা’ একটি সংগঠনের নাম যার বাৎসরিক সম্মেলনের নামও ‘ফোবানা’। ফোবানা ‘সংগঠন’ পরিচালনা করে ফোবানার এক্সিকিউটিভ কমিটি যারা প্রতি বৎসর একটি সদস্য সংগঠনকে দ্বায়িত্ব দেন তাদের বাৎসরিক সম্মেলন আয়োজন করতে। ফোবানা সংগঠন বা এক্সিকিউটিভ কমিটি ফোবানা সম্মেলনের বিশেষ করে অর্থ কড়ির ব্যাপারে কোনভাবেই জড়িত নয়।
image

দুইভাবে এই সব শিল্পীরা ফোবানার হোস্ট কমিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন- প্রমোটারদের মাধ্যমে অথবা সরাসরি। ফোবানা এক্সিকিউটিভ কমিটি কখনোই কোন শিল্পীর সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করে না।
তাই শিল্পীরা যাদের সঙ্গে চুক্তি করবেন তাদের কাছ থেকেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পারিশ্রমিক আদায় করে নেবেন। শুধু তাই নয় তারা তাদের যাবতীয় চাওয়া পাওয়া চুক্তিতে লিখিত আকারে নিয়ে নেবেন। অনুষ্ঠানের দিন বা সম্মেলনের মাঝখানে ফোবানার চেয়ারম্যান বা এক্সিকিউটিভ কমিটির কোন সদস্যকে এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে আসতে বললে বা একটা অতিরিক্ত হোটেল রুম দিতে বললে বা মধ্যরাতে খাবার সরবরাহ করতে বললে বা তাদের জন্য ভিআইপি টিকেট এনে দিতে বললে তারা সবিনয়ে অপারগতা প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করতে পারবেন না। সাধারণত শিল্পীরা ব্যাক স্টেজ পাস পেয়ে থাকেন ভিআইপি টিকেট নয়।
শিল্পীরা আরো বেশি মর্মাহত হবেন যখন দেখবেন যে সম্মেলনের পর ফোবানা এক্সিকিউটিভ কমিটি তাদের পাওনা আদায়ের ব্যাপারে কিছুই করতে পারছেন না। এটা তাদের  দ্বায়িত্বও নয়।

একটা উদাহরন দিলে হয়তো ব্যাপারটা বুঝতে আরো সহজ হবে। ধরুন এক ব্যক্তি এক শপিং মলে গেলেন কেনাকাটা করতে। এরপর বাড়ি ফিরে দেখলেন যে একটা জিনিস তার পছন্দ হচ্ছে না এবং তা তিনি ফেরত দিতে চান বা বদলাতে চান। এখন এই ব্যক্তি কি ওই শপিং মলের মালিকের কাছে এই জিনিস ফেরত দিতে যাবে নাকি যেই দোকান থেকে কিনেছেন সেই দোকানে ফেরত দিতে যাবে? তিনি যেখান থেকে কিনেছেন অবশ্যই তাকে সেখানেই ফেরত দিতে হবে অন্য কোন স্থানে নয়। এই শিল্পীদের পারিশ্রমিক দেবার ব্যাপারটাও অনেকটা এই রকম। তারা যাদের সঙ্গে চুক্তি করবেন তাদের কাছ থেকেই চুক্তি অনুযায়ী পাওনা বুঝে নেবেন।

অতীতে এমন অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার কারণে আমরা সব সম্মানিত শিল্পীদের এই ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কোন কোন শিল্পী অমুক ভাই, তমুক আপার সঙ্গে ফোনে কথা বলেই চলে আসেন অনুষ্ঠান করতে। তারা জিজ্ঞেস পর্যন্ত করেন না যে কবে কখন তারা গান গাইবেন, নাচবেন, নাটক করবেন। কেউ কেউ আবার এক/দুদিন বা এক সপ্তাহ আগেই চলে এসে উঠে পড়েন আত্মীয়ের বাড়িতে।

এরপর অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে শুরু হয় মতপার্থক্য। এই অবান্তর ও অস্বস্থিকর অবস্থা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায় যদি উভয় পক্ষ পুরো ব্যাপারটা কাগজ পত্রে সাক্ষরসহ লিখিত করে নেন।

শিল্পীদের সম্মান আমাদের সবার সম্মান। তাদের অপমান আমাদের সবার অপমান। তাই সবরকম চেষ্টা করা উচিত যেন তারা তাদের প্রাপ্য সম্মানী এবং সম্মান যথা সময় পেয়ে যান। কখনো কোনভাবেই উচিত না তাদেরকে প্রতারিত করা। আবার একইভাবে শিল্পীদেরও উচিত না চুক্তিবহির্ভুত অন্যায় আবদার করা। যা ব্যবসা, তা ব্যবসা হিসেবে নেয়াটাই উত্তম। ব্যবসার মাঝে ব্যক্তিস্বার্থ জড়িত হলেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
এরপরও বলে রাখা ভালো যে, আমরা যত রকম পদক্ষেপই নেই না কেন তারপরও কেউ না কেউ প্রতারিত হতেই পারেন কারণ এমন সুযোগ সন্ধানীর অভাব নেই আছে যারা উঠতি শিল্পীদের প্রতারিত করার জন্য বসে আছে, ঠিক তেমনি অনেক নব্য শিল্পী আছেন যারা সামান্য সুযোগের জন্য চুক্তিতে কি লেখা আছে তা না দেখেই সাক্ষর করে দেন। আশা করি আমাদের এই সাবধান বার্তা সামান্য হলেও তাদের উপকারে আসবে।

ডিউক খান
চেয়্যারম্যান,ফোবানা
E-mail: dukekhan@gmail.com

আজাদুল হক
এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি, ফোবানা
E-mail: fobanaec@gmail.com

Author: Manzurul Rumi
Khabar Editor
জর্জিয়াবাংলা ডেস্ক।