বিচারিক আদালতের প্রতি সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ নির্দেশনা

বিচারিক আদালতের প্রতি সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ নির্দেশনা:

image

মামলাজট কমাতে বিচারিক আদালতের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট। এতে কার্যদিবসের দ্বিতীয়ার্ধে কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে দেশের সব জেলা ও মহানগর দায়রা জজ বরাবর সম্প্রতি এ সংক্রান্ত লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি অধিকাংশ জেলা আদালতের বিচারিক কর্মঘণ্টার দ্বিতীয়ভাগে আইনজীবীরা উপস্থিত না থাকায় বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে। সারাদেশের বিচারিক আদালতে প্রায় ২৮ লাখ মামলা বিচারাধীন। সেক্ষেত্রে আদালতের বিচারিক কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহার একান্ত জরুরি।

সম্প্রতি এক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ‘নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এত মামলা অনিষ্পন্ন রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয় না।’ এ পরিস্থিতিতে বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায় বিচারপ্রাপ্তি, বিচার লাভের সহজগম্যতা নিশ্চিত করা ও বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদালতগুলোর মামলাজট হ্রাসের নিমিত্তে বিচারিক আদালতের বিচারকদের তিনটি নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা আছে বিচারকরা আবশ্যিকভাবে বিচারিক কর্মঘণ্টার দ্বিতীয়ভাগে বিবিধ মামলাগুলো বিশেষ করে ফৌজদারি বিবিধ মামলার আবেদনপত্র সংক্রান্ত শুনানি গ্রহণ করবেন। এরপরও সময় অবশিষ্ট থাকলে আপিল, রিভিশন ইত্যাদি মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন। দ্বিতীয়ত যেসব আদালতে বিবিধ মামলা বিচারাধীন নেই সেসব আদালতে কর্মঘণ্টার দুই ভাগেই মূল মামলা, আপিল মামলা, রিভিশন মামলার শুনানি গ্রহণ করে বিচারিক কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিচারিক আদালতগুলোর মামলাজট নিরসনে প্রত্যেক জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে ‘মামলা ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

/ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম