পণ্য কিনে ঠকলে আপনার অধিকার কি

পণ্য কিনে ঠকলে আপনার অধিকার কি:
ড. বদরুল হাসান কচি
image
অনেকে হয়ত জানে না পণ্য কিনে ঠকলে বা কোনো প্রতারণার সম্মুখীন হলে তা প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ জানানোর অধিকার তার রয়েছে। ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের দণ্ডের বিধান রেখে ২০০৯ সালে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ প্রণীত হয়েছে।  যেসব অপরাধে জরিমানা করা হয় সেগুলোর মধ্য রয়েছে মোড়কের গায়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের খুচরা বিক্রিমূল্য, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ইত্যাদি লেখা না থাকা, পণ্য ও সেবামূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করা, নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্য দাবি করা।

এছাড়া ভেজাল পণ্য বা ওষুধ বিক্রি, ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যমিশ্রিত পণ্য বিক্রি, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাসাধারণকে প্রতারিত করা, প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রি বা সরবরাহ না করা। বাটখারা বা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে, পরিমাপে, দৈর্ঘ্য পরিমাপক ফিতা বা অন্য কিছুতে কারচুপি করা, জরিমানা পণ্যের নকল প্রস্তুত বা উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রি, সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্নকারী কাজ, অবহেলা করে সেবাগ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য ইত্যাদির ব্যাঘাত ঘটানো।

অপরাধের শাস্তি:
উপরোক্ত অপরাধগুলোর জন্য আইনে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে অনূর্ধ্ব তিন বছর পর্যন্ত কারাদ- এবং অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।

বিচার পদ্ধতি:
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচার করা হবে। কোনো ব্যক্তি কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালক কিংবা অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দায়ের করবেন এবং অভিযোগ দায়েরের ৯০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল না হলে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করবেন না। ম্যাজিস্ট্রেটের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা জজের আদালতে আপিল করা যাবে। উল্লেখ্য, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য।

মামলা করার সীমাবদ্ধতা:
এই আইনের অধীনে ভোক্তা অধিকারবিরোধী কাজের অভিযোগে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোনো মামলা সরাসরি দায়ের করা যায় না। মামলা দায়েরের এখতিয়ার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রয়েছে মাত্র। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ে অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ না করলে তা গ্রহণও করা হবে না।

জরিমানার টাকায় অভিযোগকারীর অংশ:
অভিযোগের সত্যতা মিললে জরিমানার ২৫ শতাংশ নগদ টাকা অভিযোগকারীকে দেওয়া, গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করে সরাসরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার সুযোগসহ নানা বিষয়ে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে বেড়েছে ভোক্তাদের অধিকারের আওতা।
এছাড়া গত বছরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে গণশুনানি। প্রতি সোমবার কারওয়ানবাজারে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে যেকোনো ভোক্তা অংশগ্রহণ করে সরাসরি অভিযোগ, পরামর্শ জানাতে পারেন। এছাড়া আইন সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলেও তা করার সুযোগ রয়েছে।
মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জরিমানার টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ করার পর তার সত্যতা মিলতে হবে। তাহলেই জরিমানা করা হয়।

অভিযোগ পাঠানোর নিয়ম ও ঠিকানা
অভিযোগ অবশ্যই লিখিত হতে হবে। এছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস করে বা ফ্যাক্স, ই-মেইলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মাধ্যমেও অভিযোগ করা যাবে : মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ১, কারওয়ানবাজার (টিসিবি ভবন ৮ম তলা), ঢাকা এবং উপ-পরিচালক জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র।
এছাড়াও সকল জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর অভিযোগ করা যাবে।
ই-মেইল: dncrp@yahoo.com এছাড়া অধিদপ্তরের www.dncrp.gov.bd   ওয়েবসাইটেও এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে।

http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_pdf_part.php?id=1014

লেখক: আইনজীবী ও সম্পাদক, ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম