নারী-শিশু নির্যাতনে সাজার হার ১ শতাংশের কম:

নারী-শিশু নির্যাতনে সাজার হার ১ শতাংশের কম:

image

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দেশে প্রতিবছর শত শত মামলা হলেও মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা পাওয়ার হার এক শতাংশেরও কম। দেশের তিনটি জেলায় ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার ৭৩টি মামলার নিষ্পত্তি হলেও এতে সাজা পেয়েছেন মাত্র ১৮৬ জন—যা শতকরা হিসাবে দশমিক ৯৪ শতাংশ মাত্র।

ঢাকা, কুমিল্লা ও পাবনা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের মামলা পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক তানজিনা শারমিন ও আতিয়া নাজনীন। এই গবেষণায় সহযোগিতা করেছে ইউকেএইড ও ইউএনডিপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ঢাকা, কুমিল্লা ও পাবনা জেলায় মোট মামলা হয়েছে ৩৭ হাজার ৯১৫টি। আর ছয় বছরে মোট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ২২ হাজার ৭৩টি। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ২ হাজার ৬০৮টি, ২০১০ সালে ২ হাজার ৬৪২টি, ২০১১ সালে ৩ হাজার ৩২টি, ২০১২ সালে ৪ হাজার ২৭৯টি, ২০১৩ সালে ৪ হাজার ৯৭০টি এবং ২০১৪ সালে ৪ হাজার ৫৪২টি। নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় সাজা পেয়েছেন মাত্র ১৮৬ জন। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৫৪ জন, ২০১০ সালে ৪৮ জন, ২০১১ সালে ২৩ জন, ২০১২ সালে ২৭ জন, ২০১৩ সালে ১৫ এবং ২০১৪ সালে ১৯ জন। সে হিসাবে ২০০৯ সালে সাজা পাওয়ার হার ১ দশমিক ৯২ শতাংশ থাকলেও ২০১৪ সালে তা দশমিক ৪০ শতাংশে এসে দাঁড়ায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ছয় বছরে মামলা থেকে খালাস পান মোট ১২ হাজার ৫৪ জন। ২০০৯ সালে মামলা থেকে খালাস পাওয়ার হার ছিল ৯৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, এই প্রতিবেদন থেকেই বোঝা যায়, বিচার প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ। দুর্বল তদন্ত প্রতিবেদনের কারণে সিংহভাগ অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।