রিলায়েন্স-আদানিতে ভয় পাচ্ছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা

বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ

রিলায়েন্স-আদানিতে ভয় পাচ্ছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা

মহিউদ্দিন নিলয় | ২০১৫-০৬-০২ ইংরিলায়েন্স-আদানিতে ভয় পাচ্ছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে ভারতের বৃহৎ শিল্প গ্রুপ রিলায়েন্স। বড় বিনিয়োগে আগ্রহী আদানিও। যদিও বিদ্যুৎ খাতে ভারতীয় জায়ান্টদের আবির্ভাব নিয়ে ভয় পাচ্ছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। একক বিনিয়োগের পরিবর্তে তাই দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশী বিনিয়োগ উত্সাহিত করা হচ্ছে। রিলায়েন্স, আদানির মতো ভারতীয় কোম্পানির আগ্রহ তাই ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের বেসরকারি খাতের বৃহৎ তিন শিল্প গ্রুপের একটি রিলায়েন্স। বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগসহ আর্থিক খাতে ব্যবসা রয়েছে গ্রুপটির। ভারত ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ রয়েছে তাদের। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রাথমিকভাবে দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে তারা। পরবর্তীতে তা ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় গ্রুপটি।

সূত্রমতে, এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে মহেশখালী ও মেঘনাঘাটের দুটি স্থানকে বিবেচনা করছে রিলায়েন্স। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে এটিই হবে এলএনজিভিত্তিক দেশের প্রথম বিদ্যুেকন্দ্র।

ভারতের আরেক বৃহৎ শিল্প গ্রুপ আদানি। দেশটির বিদ্যুৎ, কয়লা খনি ও বন্দর পরিচালনায় বেসরকারি খাতে তারাই ভারতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। এককভাবে ভারতে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে আদানি। বাংলাদেশেও ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে গ্রুপটি। কক্সবাজারের মহেশখালীতে বিদ্যুেকন্দ্রটি স্থাপন করতে চায় তারা; যেখানে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট থাকবে। এজন্য যৌথ কোম্পানি গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে আদানি। তাতে বিদ্যুেকন্দ্রটির ৬০ শতাংশ মালিকানা আদানির ও ৩০ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের হাতে থাকার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ প্রস্তাবটি যাচাই করে দেখছে বলে জানা গেছে।

এ খাতের স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে দেশীয় কোম্পানিগুলো বিদ্যুতে ব্যাপক সক্ষমতা দেখিয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর করে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতাও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আরো কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। এমনকি এককভাবে ১০০ কোটি ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়নের সাহস দেখাচ্ছে দেশীয় উদ্যোক্তারা।

দেশের শীর্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, বিনিয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশে সব কোম্পানির জন্য সমান সুযোগ রাখা দরকার। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিকদের এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকা উচিত।

এককভাবে ভারতীয় কোম্পানির বিনিয়োগে দেশ উপকৃত হবে না বলেও মনে করছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা থাকলেও আর্থিক বিবেচনায় রিলায়েন্স, আদানির মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো সক্ষমতা নেই দেশীয় উদ্যোক্তাদের। তাই যৌথ বিনিয়োগ হলে নানাভাবে লাভবান হবে দেশ। বড় কোম্পানির সঙ্গে কাজ করলে দক্ষ জনবলও গড়ে উঠবে।

এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন রশীদ এ প্রসঙ্গে বলেন, সামগ্রিকভাবে বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে বিদেশী বড় কোম্পানিকে আসতে হবে। তবে তা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে।

বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বার্থেই ভারতীয় কোম্পানির বিনিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের নীতিগবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ারসেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তাদের অনেক দিন সুযোগ দেয়া হয়েছে। তারা কিছুটা সক্ষমতাও দেখিয়েছেন। কিন্তু তা দিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই বিদেশী বিনিয়োগকে উত্সাহিত করা হচ্ছে। তবে ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তাদের যৌথ বিনিয়োগকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

সূত্রমতে, আদানি গ্রুপ ভারতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করতেও আগ্রহী। একইভাবে রিলায়েন্সও ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার হাইড্রো বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রির কথা ভাবছে। বাংলাদেশও এসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে।

সূত্রঃ বনিক বার্তা