কমার্স ব্যাংকে ‘মেগা দুর্নীতি’র আশঙ্কা অর্থমন্ত্রীর

কমার্স ব্যাংকে ‘মেগা দুর্নীতি’র আশঙ্কা অর্থমন্ত্রীর

সাকিব তনু | ২০১৫-০৬-০২ ইং

কমার্স ব্যাংকে ‘মেগা দুর্নীতি’র আশঙ্কা অর্থমন্ত্রীর

কমার্স ব্যাংকে ‘মেগা দুর্নীতি’র আশঙ্কা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে আধা সরকারি চিঠি (ডিও) দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির সার্বিক অবস্থা ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রীকে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন গভর্নর। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ক্ষমতা কেড়ে নেয়া ও অনিয়মের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি গভর্নরকে ওই চিঠি পাঠান অর্থমন্ত্রী। চিঠিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, কমার্স ব্যাংকের এমডির ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানই এমডির ভূমিকা পালন করছেন। অনিয়মের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে কি আরেকটি ‘মেগা দুর্নীতি’ অপেক্ষা করছে।

কমার্স ব্যাংকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গভর্নরকে ডিও লেটার পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম।

এদিকে অর্থমন্ত্রীর চিঠির পরিপ্র্রেক্ষিতে কমার্স ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা ব্যাখ্যা করে গভর্নরও চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে গভর্নর বলেছেন, কমার্স ব্যাংকের এমডির ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার ঘটনা তদন্ত করা হয়েছে। অনিয়মের ঘটনায় এমডির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাই এমডিকে পদে বহাল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে আপনাকে এর আগেও অবহিত করা হয়েছিল। এছাড়া কমার্স ব্যাংকে নিয়োজিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষকের মতামতও জুড়ে দেয়া হয় অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে।

জানা গেছে, কমার্স ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২০৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এর মধ্যে ব্যাংকের বংশাল শাখায় অনিয়ম হয় ১৫৫ কোটি ১১ লাখ ও দিলকুশা শাখায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা। বংশাল শাখা থেকে যমুনা এগ্রো কেমিক্যাল ১০২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু সাদেক মো. সোহেলের সব ধরনের ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়। তবে তাকে পদে বহাল রাখা হয়। ফলে সেদিন থেকেই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী হাওলাদার এমডির দায়িত্ব পালন করেন। অনিয়ম ও এমডির ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিতে তদন্তে নামে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে বেরিয়ে আসে, যে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে, তার সঙ্গে এমডির যোগসূত্র নেই। যেসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে, তা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। উপরন্তু বর্তমান পরিচালনা পর্ষদও এসব অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে। এসব অনিয়মের দায় এমডির ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের আড়ালের চেষ্টা করে পরিচালনা পর্ষদ।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়। এমডিকে সব ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয় নিদের্শনায়। ব্যাংকটির সার্বিক অবস্থা জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়েও।

সূত্রঃ বনিক বার্তা