দিকনির্দেশনাহীন বাজেট : অর্থমন্ত্রীর আশাবাদই ভরসা

দিকনির্দেশনাহীন বাজেট : অর্থমন্ত্রীর আশাবাদই ভরসা

দিকনির্দেশনাহীন বাজেট : অর্থমন্ত্রীর আশাবাদই ভরসা

সোহেল রহমান, দ্য রিপোর্ট : আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন ও অর্থায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলের সংশয় থাকলেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কোনো সংশয় নেই। বাজেট বাস্তবায়ন ও অর্থায়ন বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। আর এ আশাবাদের মূল ভিত্তি হচ্ছে তার ব্যক্তিগত ধারণা ও বিশ্বাস।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুক্রবার বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও কী প্রক্রিয়ায় এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে— সাংবাদিকদের এ সব প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব অর্থমন্ত্রী দেননি। বাজেট বক্তৃতায়ও এ সব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

সাংবাদিকদের এ সব প্রশ্নের জবাবে ‘রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী’ স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি এ রাজস্ব আদায় খুবই সম্ভব। শুধু একটা ধাক্কা দিতে হবে।’

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বপক্ষে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব বোর্ডের জনবল ঘাটতি পূরণ, তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, রাজস্ব বোর্ডের আধুনিকায়ন ও করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এটা বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪১ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা বেশি।

বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে আগামী অর্থবছরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যদি ব্যাহত হয়, বাজেট ঘাটতি পূরণে কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক সহায়তা যদি না পাওয়া যায়, বিনিয়োগ না বাড়ে তাহলে এ বাজেট কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে– এ সব প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি মুহিত। এ সবের পরিবর্তে তিনি শুধু তার আশাবাদের কথা বলেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এটাই। বাস্তবায়নের কোনো প্রক্রিয়া বা দিকনির্দেশনা বাজেটে অনুপস্থিত।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ’ও (সিপিডি) এ বিষয়ে বলেছে, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থায়নই বড় দুশ্চিন্তা। কারণ সরকার রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে তার একটি অংশ অর্জিত হবে না। আর এর জন্য সুনির্দিষ্ট যে পথ-নকশার প্রয়োজন, সেটি এ বাজেটে নেই। ফলে বোঝা যাচ্ছে না যে, কোথা থেকে, কীভাবে এ অর্থের সংস্থান হবে। আয়ের লক্ষ্য পূরণ না হলে বাজেটে ঘোষিত অন্যান্য লক্ষ্য পূরণে তা বাদ সাধবে।’

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ঋণনির্ভর সম্প্রসারণমূলক ব্যয় কাঠামো’ বলেও আখ্যায়িত করেছে সংস্থাটি।

এদিকে বিদায়ী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মূল বাজেটের আকার, উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাসহ প্রায় সবকিছুই কাটছাঁট করা হয়েছে। তবে সবকিছু কমলেও বাজেট ঘাটতি ও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বেড়েছে। বৈদেশিক ঋণ সহায়তার ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। বাজেটের আর্থিক কাঠামোর দুর্বলতাই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এসব দুর্বলতা প্রস্তাবিত বাজেটেও রয়েছে। একই সঙ্গে বিদায়ী অর্থবছরে এসব খাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিটি ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে, যা কি না নতুন বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বা সংশয়ের একটা বড় কারণ।

(দ্য রিপোর্ট/জুন ০৬, ২০১৫)