বড় ফ্ল্যাটে বেশি ভ্যাটঃ রেফারাল হাসপাতালে ৫% রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাঃ প্রবাসীদের টিভি আনায় শুল্ক কমল

বড় ফ্ল্যাটে বেশি ভ্যাট

বড় ফ্ল্যাটে বেশি ভ্যাট

২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে বড় ফ্ল্যাট কিনতে হলে রেজিস্ট্রেশনের সময় বেশি ভ্যাট দিতে হবে। তবে ছোট ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার কমানো হয়েছে।

বাজেটে ভ্যাটের প্রজ্ঞাপনে এ সংশোধনী আনা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ১৬০১ বর্গফুটের বেশি আয়তনের ফ্ল্যাট কিনলে রেজিস্ট্রেশনের সময় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। তবে ১১০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের জন্য ২ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে যেকোনো সাইজের ফ্ল্যাটের ওপর ৩ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হতো।

 

রেফারাল হাসপাতালে ৫% রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে হবে

রেফারাল হাসপাতালে ৫% রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে হবে

আগামীতে হাসপাতালগুলোকে রেফারাল হাসপাতাল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে মোট আসন সংখ্যার ৫ শতাংশ দরিদ্র রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। একইসঙ্গে বিদ্যমান রেফারাল হাসপাতালগুলো পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত সুবিধায় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানি করতে চাইলে রোগীদের একই সুবিধা দিতে হবে।

যে সব হাসপাতাল চিকিৎসাকার্যে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারে সেগুলোকে রেফারাল হাসপাতাল বলা হয়।

বাজেটে রেফারাল হাসপাতালের এসআরওতে এ সংক্রান্ত নতুন একটি শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।

ওই শর্তে বলা হয়েছে, ‘রেফারাল হাসপাতালের মোট আসন সংখ্যার অন্যূন ৫ শতাংশ আসন দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুবিধাদি প্রদানের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ থাকিতে হইবে।’

দেশে বর্তমানে ২৪টি রেফারাল হাসপাতাল রয়েছে। এগুলো হচ্ছে— ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল এ্যান্ড রিসার্স ইনস্টিটিউট, বারডেম, এ্যাপোলো হাসপাতাল, জয়নুল হক সিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল, খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ এ্যান্ড হাসপাতাল, ইব্রাহিম ইকবাল মেমোরিয়াল হাসপাতাল, জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতাল, আদ-দ্বীন হাসপাতাল, ডেল্টা হাসপাতাল, ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল, গ্রীন লাইফ হাসপাতাল, ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, এনাম মেডিক্যাল হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল, সুমনা হাসপাতাল, মুনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ এ্যান্ড হাসপাতাল, কেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল এ্যান্ড রিসার্স সেন্টার, শমরিতা হাসপাতাল, গাজী মেডিকেল কলেজ এবং আলী হাসপাতাল।

রেফারাল হাসপাতালগুলো ২৩টি এইচএস কোডে ২৩২টি যন্ত্রাংশ শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারে। এ সব যন্ত্রাংশের মধ্যে অধিকাংশ যন্ত্রাংশই জীবন রক্ষাকারী পথ্য এবং মেডিক্যাল টেস্টের কাজে ব্যবহৃত হয়।

প্রবাসীদের টিভি আনায় শুল্ক কমল

প্রবাসীদের টিভি আনায় শুল্ক কমল

বর্তমানের চেয়ে কম শুল্ক দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিদেশ থেকে টিভি আনতে পারবেন। ইঞ্চিভেদে ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা শুল্ক কমানো হয়েছে। এ ছাড়া স্যুটকেসের শুল্ক দৈর্ঘ্যের বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করা হয়েছে।

যাত্রী (অপর্যটক) ব্যাগেজ (আমদানি) বিধিমালা, ২০১২- তে এ সব সংশোধনী আনা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ২২ ইঞ্চি থেকে ২৯ ইঞ্চি প্লাজমা, এলসিডি, টিএফটি ও এলইডি টিভি আনতে হলে ১০ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে। বর্তমানে ১৫ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে।

৩০ ইঞ্চি থেকে ৩৬ ইঞ্চি টিভির শুল্ক ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। ৩৭ ইঞ্চি থেকে ৪২ ইঞ্চি টিভির শুল্ক ৩০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

৪৩ ইঞ্চি থেকে ৪৬ ইঞ্চি টিভির জন্য ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ৪৭ ইঞ্চি থেকে ৫২ ইঞ্চি পর্যন্ত টিভির শুল্ক ৭০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

৫৩ ইঞ্চির ঊর্ধ্বে টিভির শুল্ক ১ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৭০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

একইসঙ্গে স্যুটকেসের দৈর্ঘ্য ৩২ ইঞ্চি হওয়ার বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করা হয়েছে। শুধু ওজনের মাধ্যমে শুল্ক আদায় করা হবে। তবে ৬৫ কেজি ওজন পর্যন্ত নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র শুল্ককর ছাড়া খালাস করা যাবে।

ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী যে সব পণ্য শুল্ক ছাড়া আনা যাবে : মোবাইল, ১৯ ইঞ্চি পর্যন্ত এলসিডি কম্পিউটার মনিটর, সিডি, ডিভিডি, ২১ ইঞ্চি পর্যন্ত প্লাজমা টিভি, ১ কার্টন সিগারেট, ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার, সেলাই মেশিন, কফি মেকার, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, ফ্যাক্স মেশিন, কম্পিউটার স্ক্যানার, প্রিন্টার, ল্যাপটপ।

মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিকে কর দিতে হবে

মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিকে কর দিতে হবে

২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে সমবায় অধিদফতরের নিবন্ধিত মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিকে ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ ছাড়া পোল্ট্রি শিল্পের আয়ের ওপর নতুন করে করারোপ এবং গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, চিংড়ি চাষে করহার বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘বিদ্যমান বিধানে কো-অপারেটিভ সোসাইটির কোনো পৃথক কর হার নেই। দারিদ্র্য বিমোচনসহ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সমবায় আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশে সমবায় আন্দোলনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কৃষি ও কুটির শিল্প সংশ্লিষ্ট খাত ব্যতীত কো-অপারেটিভ সোসাইটির অন্যান্য আয়ের ওপর হ্রাসকৃত ১৫ শতাংশ হারে করারোপের প্রস্তাব করছি।’

এ ছাড়া বাজেটে নতুন করে পোল্টি শিল্পের আয়ের ওপর করারোপ হয়েছে। এতদিন পোল্ট্রি শিল্পের আয় করমুক্ত ছিল। এর সঙ্গে পোল্ট্রি ফিড, গবাদি পশু, বীজ, মৌমাছি চাষ, রেশম চাষ এবং হাঁস-মুরগি, চিংড়ি ও মাছের হ্যাচারি থেকে আয়ের করহার পরিবর্তন করা হয়েছে।

বর্তমানে পোল্ট্রি ফিড, গবাদি পশু, বীজ, মৌমাছি চাষ, রেশম চাষ থেকে আয়ের ওপর ৩ শতাংশ হারে কর ছিল। সাধারণ করহারে কর দিতে হতো হাঁস-মুরগি, চিংড়ি ও মাছের হ্যাচারি মালিকদের।

এ সব খাতের আয় ১০ লাখ টাকার বেশি হলে ৩ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

এ সব খাতে নতুন করে কর নির্ধারণের ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘মাছ আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টির একটি অপরিহার্য উপাদান। তবে মাছ চাষ খাতের আয় পূর্বে কখনো করমুক্ত আবার কখনো এর ওপর অতি স্বল্প হারে কর আরোপিত ছিল। এ করমুক্ত বা স্বল্প হারে করের সুযোগ অনেক অপব্যবহার করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে মাছ চাষ খাতের আয়ের ওপর স্বল্প হারে কর সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়।’

(দ্য রিপোর্ট/জুন ০৬, ২০১৫)