Home বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বাংলাদেশে চালু হয়েছে বিশ্বের প্রথম ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অ্যাপ্লিকেশন

বাংলাদেশে চালু হয়েছে বিশ্বের প্রথম ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অ্যাপ্লিকেশন

বাংলাদেশে চালু হয়েছে বিশ্বের প্রথম ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অ্যাপ্লিকেশন

যে কোন ধরণের সড়ক দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক মেডিক্যাল সেবা না পাওয়াটা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে খুব সাধারণ এক ঘটনা।এবার সেই দুঃসময়ে সাহায্য করার মত একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে।বিশ্বের প্রথম তাৎক্ষণিক মেডিক্যাল সেবা দেয়ার জন্য ‘ক্রিটিকালিংক’ নামে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি পরীক্ষামূলক ভাবে বাংলাদেশে চালু হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ১০% এর কম সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার সময় এম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যায়। ১৫ কোটি মানুষের দেশে এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে দুর্ঘটনার সময় এই দেশে মেডিক্যাল সেবা পাওয়া আরও বেশী অপ্রতুল। এমনকি দুর্ঘটনার সময় হট লাইনে ফোন করেও কোন সমাধান পাওয়া যায় না।

সেই সমস্যার সমাধানই নিয়ে এসেছেন ক্রিটিকালিঙ্ককের সিইও আমেরিকান ডাক্তার জেনিফার ফেরেল। ডিউক এলুমনাস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকা থেকে ডাক্তারি পাশ করে এসে বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত মানুষদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

1cdd698e-6de0-4a8c-9b6f-85ea9dc76200-427x480ফেরেল শেষ বর্ষের ছাত্রী থাকার সময়ই উন্নয়নশীল দেশের মানুষের জন্য ট্রমা চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে যেতে কাজ করে যাচ্ছিলেন।চার বছর ধরে ভলান্টিয়ার হিসেবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার জেল হাজত এবং স্কুলে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ট্রেনিং করান।একই রকম ট্রেনিং তিনি এশিয়া অঞ্চলেও করান। এভাবে তিনি এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষকে ট্রেনিং করিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিল ৫০০ জন অবৈতনিক ভলান্টিয়ার যাদের বয়স ২১ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।

এনটু হাইওয়েতে মারাত্মক দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানার পর, তিনি উন্নয়নশীল দেশের মোবাইল টেকনোলজি ব্যবহার করে কিভাবে দুর্ঘটনার সময় মানুষকে সাহায্য করা যায় তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা শুরু করে দেন।তারই পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি করা হয়েছে এই অ্যাপ্লিকেশনটি।

খুব সহজেই কাজ করে এই অ্যাপ্লিকেশনটি। এই ক্রিটিকালিংক্স অ্যাপলিকেশনটির কাজের ধরণ অনেকটা ইউবারের মত। খুব সহজেই এই অ্যাপটি বাঁচিয়ে দিতে পারে মানুষের জীবন। দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথেই একটি ফোন কল চলে যাবে কল সেন্টারে। সেখানে ভলান্টিয়ার অপারেটর কাছাকাছি থাকা হাসপাতালে জানিয়ে দেবে সেই দুর্ঘটনার কথা। দুর্ঘটনার স্থান, ম্যাপসহ সব তথ্য তাৎক্ষণিক চলে যাবে সেই হাসপাতালে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এসে সাথে সাথেই দুর্ঘটনা আক্রান্ত ব্যক্তির ভাইটাল সাইন, মাথা এবং হৃদ-স্পন্দন ,পোড়া-ক্ষত স্থানে চিকিৎসা, সিপিয়ার এবং রক্ত প্রবাহ বন্ধ করার চিকিৎসা প্রদান করবে। প্রাথমিক চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।এজন্য ১২৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসককে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে।

65bcdb0c-7b5c-46de-be1d-4230077754f4-423x540এই অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে দুর্ঘটনা কবলিত বেশ কয়েকটি যায়গায় সফল ভাবে সেবা দেয়া সম্ভব হয়েছে।সম্প্রতি উত্তরায় একজন পোশাক কর্মিকে দুর্ঘটনার সময় সাহায্য করেছিল এই অ্যাপ্লিকেশনটি। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে অ্যাপ্লিকেশনটি এদেশের জন্য কতটা কাজে লাগতে যাচ্ছে।

প্রতিবছর সারা বিশ্বে ৫.৮ মিলিয়ন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক বেশী। তাই এমন অ্যাপ্লিকেশনটি বাংলাদেশের জন্য খুব কাজের কিছুই হতে যাচ্ছে। অন্তত বেশ কিছু মানুষ নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাবে।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.