Home বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে

ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে

ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে

‘সাইবার-সন্ত্রাস’-কে নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন আইন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন আইনে সর্বোচ্চ ২০ বছরের সাজা এবং পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটকের বিধান থাকছে।

২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি আইন বহাল রাখার পাশাপাশি কঠোর বিধানসংবলিত নতুন এই আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।নতুন খসড়ায় বলা হয়েছে, অনলাইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তাকেই সাইবার-সন্ত্রাস হিসেবে গণ্য করা হবে।

আরও কিছু নতুন আইনের মধ্যে রয়েছে, পুলিশ সন্দেহজনক কম্পিউটার জব্দ করতে প্রয়োজনে ‘দরজা-জানালা ভাঙা’সহ যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সীমানার বাইরে এ-সংক্রান্ত কোনো অপরাধ হলে তা দেশের আদালতে বিচারের এখতিয়ারে থাকবে বলে এই খসড়ায় উল্লেখ করা আছে।

খসড়ায় কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া বা জ্ঞাতসারে অন্য কারও কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ক্ষতি করলে, তথ্য মুছে ফেললে বা বিকৃত করলে কিংবা কোনো ব্যক্তি প্রতারণার অভিপ্রায়ে প্রেরকের বরাবর ইলেকট্রনিক মেসেজে ‘বস্তুগত ভাবে ভুল’ তথ্য পাঠালে এবং তাতে কোনো ব্যক্তির লোকসান বা ক্ষতি হলে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধানে বলা হয়েছে, মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে হবে। এই সময়ে না পারলে কারণ লিপিবদ্ধ করে আরও তিন মাস সময় নিতে পারবেন আদালত। আর নয় মাসের মধ্যে বিচার শেষ করতে না পারলে হাইকোর্ট বিভাগ ও নিয়ন্ত্রককে জানিয়ে মামলা চলমান রাখতে পারবেন।

গোপনীয়তা লঙ্ঘন করার ক্ষেত্রেও অনেক কঠিন আইন করা হয়েছে।  গোপনীয়তা লঙ্ঘন সম্পর্কে বলা হয়েছে, হ্যাকিংসহ এ রকম লঙ্ঘনের দায়ে অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।  খসড়ায় বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা ও প্রকাশ বা প্রেরণ কারও ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন পরিস্থিতির’ ক্ষেত্রে অপরাধ হবে। ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের’ ব্যাখ্যায় বলা আছে, (অ) কোনো ব্যক্তি গোপনীয় ভাবে অনাবৃত হতে পারেন, এমতাবস্থায় তাঁর ব্যক্তিগত এলাকায় তাঁর নজর এড়িয়ে চিত্র বন্দী করা হয়েছিল; অথবা (আ) সরকারি বা ব্যক্তিগত এলাকা-নির্বিশেষে কোনো ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত এলাকার এমন কোনো অংশে ছিলেন, যা জনসাধারণের কাছে দৃশ্যমান হবে না।

আইনে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, দেশের ভেতরে ইন্টারনেট-সেবার পরিকাঠামোর প্রতি হুমকি বিবেচনায় দেশের যেকোনো স্থানে নিয়ন্ত্রক তদন্ত চালাবেন। এ ধরনের অপরাধে দোষী ব্যক্তির অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হবে। নতুন সাইবার আইনে আলাদাভাবে কয়েকটি অপরাধের মধ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটালে তা সাইবার-সন্ত্রাস বলে গণ্য করাও বিধান রাখা হয়েছে।কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কোনো কাজ করতে বা করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করাও হবে সাইবার-সন্ত্রাস। এতে ‘ব্যক্তি ও সত্তার’ পাশাপাশি ‘বিদেশি নাগরিকের’ শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সাইবার সন্ত্রাসের তালিকায় আরও উল্লেখ আছে,বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য জনসাধারণ বা জনসাধারণের কোনো অংশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার বা কোনো সত্তা বা কোনো ব্যক্তিকে কোনো কার্য করতে বা করা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তির কম্পিউটার ব্যবহারকে ব্যাহত করে বা করার চেষ্টা করে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করে অথবা এ রকম কাজে কোনো ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে বা প্ররোচিত করে অথবা কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ভাইরাস প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে, তাহলে তা সাইবার-সন্ত্রাস বলে গণ্য হবে।এই অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ২০ বছর ও সর্বনিম্ন চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

bangla.sdasia.co

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.