কনফেডারেট পতাকা সরানোর আহ্বান

কনফেডারেট পতাকা সরানোর আহ্বান

কনফেডারেট পতাকা সরানোর আহ্বান

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক ; বর্ণবিদ্বেষের জেরে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনার স্টেট হাউস থেকে কনফেডারেট পতাকা সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর। চার্লস্টনের একটি চার্চে হামলায় ৯ কৃষ্ণাঙ্গ নিহতের পর এ আহ্বান জানালেন তিনি। খবর আলজাজিরার।

গত সপ্তাহে ‘মাদার ইমানুয়েল’ নামে পরিচিত ইমানুয়েল আফ্রিকান মেথডিস্ট এপিস্কোপাল চার্চে হামলা চালায় ২১ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ তরুণ ডিলান রুফ। চার্চটিতে গুলি করে ৯ কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যা করেন তিনি। কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি ক্ষোভ ও কনফেডারেট রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতেই রুফ এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।

দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর নিক্কি হ্যালে সোমবার স্টেট হাউস থেকে পতাকাটি সরিয়ে ফেলতে আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হত্যাকারী এখন চার্লস্টনে বন্দী রয়েছেন। তার আশা, তার এ কর্মকাণ্ড বর্ণবাদী যুদ্ধ শুরু করবে। এখন আমাদের সামনে সুযোগ রয়েছে শুধু সে-ই (হত্যাকারী) ভুল নয়, ঠিক এর উল্টোটাই ঘটবে এটা দেখিয়ে দেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার আশা, আমাদের বিভক্তকারী প্রতীকটি সরিয়ে ফেলা হবে। আমরা আমাদের রাজ্যকে সম্প্রীতির পথে এগিয়ে নেব। আমরা স্বর্গবাসী নয়জনের আত্মার প্রতি সম্মান দেখাব।’

পতাকাটি রাজ্যটির কলম্বিয়ায় অবস্থিত স্টেট হাউসে প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে উড়ছে। কনফেডারেট রাষ্ট্রের চিহ্নবাহী পতাকাটি সরিয়ে ফেলার ব্যাপারে চলতি সপ্তাহেই রাজ্যের সংসদ অধিবেশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে চার্চে হত্যাকারী রুফের ব্যবহৃত ওয়েবসাইটে কনফেডারেট পতাকা হাতে নিয়ে বিভিন্ন বর্ণবাদী মন্তব্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানোর ছবির খোঁজ পাওয়া যায়।

কনফেডারেট পতাকা কী?

১৮৬১-৬৫ সালে আমেরিকান গৃহযুদ্ধকালীন বেশিরভাগ রাজ্যই দাসপ্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ওই সময়ই দেশটি থেকে দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘটান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন।

তবে যুগ যুগ ধরে কৃষ্ণাঙ্গদের দাস হিসেবে ব্যবহার করে আসার প্রথার পক্ষেও ছিলেন অনেকে। দাসপ্রথার সমর্থক এমন সাতটি রাজ্য ওই সময় দাসপ্রথা টিকিয়ে রাখতে যুদ্ধ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে আরও চারটি রাজ্য তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে।

গৃহযুদ্ধকালীন এই ১১টি রাজ্যের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত পতাকাই কনফেডারেট পতাকা হিসেবে পরিচিত। এখনও ওই রাজ্যগুলোতে প্রশাসনিকভাবে এই পতাকা ব্যবহৃত হয়। রাজ্যগুলো নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে এলেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এর স্বীকৃতি দেয়নি।

শুধু প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেই নয় ওই রাজ্যগুলোর যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এ পতাকা ব্যবহার করতে পারেন।

(দ্য রিপোর্ট/জুন ২৩, ২০১৫)