ভয়েস রেকর্ডিং সিস্টেম চালু হচ্ছে নিম্ন আদালতে:

ভয়েস রেকর্ডিং সিস্টেম চালু হচ্ছে নিম্ন আদালতে:

image

দেশে প্রথমবারের মতো কোর্ট রেকর্ডিং সিস্টেমের অধীনে আসছে নিম্ন আদালতসমূহ। সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তন এনে বিচার বিভাগকে ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে আদালতে সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করতে ভয়েস রেকর্ডিং সিস্টেম চালু হচ্ছে।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সহযোগিতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) অর্থায়নে জুডিসিয়াল স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্টের (জাস্ট) আওতায় বিচার বিভাগে এই ডিজিটালাইজেশন আসছে বলে জানা গেছে।

দেশের প্রথম হিসেবে সিলেট জেলা আদালতের মাধ্যমে এই পদ্ধতি শুরু হচ্ছে। সিলেট জেলা আদালতে সর্বমোট ৪৪টি কোর্ট রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০টি কোর্টে ভয়েস রেকর্ডিং সিস্টেম শুরু হবে বলে জানা গেছে। সিলেট জেলার পর চট্টগ্রাম জেলা আদালতকে এ পদ্ধতির আওতায় আনা হবে বলেও জানা গেছে।

প্রাথমিক কাজ শুরু করতে ৩৫-৪০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে বলে জাস্ট সূত্র জানিয়েছে। সুপ্রীম কোর্টে স্থাপিত জাস্টের প্রধান কার্যালয় থেকে এই পদ্ধতির সকল দেখভাল করা হবে।
এই পদ্ধতিতে আদালতে সাক্ষীর সামনে একটি ভয়েস রেকর্ডার থাকবে, যার মাধ্যমে সাক্ষী যে সাক্ষ্য দেবেন তা আদালতে রেকর্ড অবস্থায় লিপিবদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে এই সাক্ষ্য কম্পিউটারাইজড সিস্টেমে লেখা হবে।
এর ফলে বিচারকদের আর সাক্ষ্যগ্রহণ করতে হবে না, সাক্ষীদের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করতে বিচারকদের নিজ হাতে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখতে হবে না।

কোর্ট রেকর্ডিং সিস্টেমে আদালতের ভেতরে পাঁচটি কম্পিউটার থাকবে। একটি বিচারকের সামনে, একটি আসামি, একটি সাক্ষী, একটি আইনজীবীদের ও অপরটি সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকারী কর্মকর্তার সামনে। সাক্ষী তার সাক্ষ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মকর্তা কম্পিউটারে সেটা লিখবেন এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই দেখতে পারবেন। ফলে কোনো তথ্য বাদ যাওয়া কিংবা ভুল লেখার সম্ভাবনা থাকবে না।

সনাতন পদ্ধতিতে দেখা যায় একজন বিচারকের হাতের লেখা আরেকজন বিচারক বা অন্য আদালত বুঝতে পারেন না অথবা অনেকে দাবি করেন যে, বিচারক কিছু কথা লেখেননি বা তিনি কিছু কথা মিস করে গেছেন। এই পদ্ধতিতে সেই সমস্যার সমাধান হবে।

এ বিষয়ে সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম মিডিয়াকে বলেন, সিলেটের মাধ্যমে এটা শুরু হচ্ছে। আস্তে আস্তে দেশের সবগুলো জেলা আদালতে এই পদ্ধতি চালু হবে।

এই পদ্ধতির ফলে দ্রুত বিচার ও সাক্ষ্যগ্রহণে নির্ভুলতা রক্ষায় কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন রেজিস্ট্রার জেনারেল।
এ বিষয়ে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. সাব্বির ফয়েজ মিডিয়াকে বলেন, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে সিলেট জেলায় কোর্ট ভয়েস সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। খুব শীঘ্র্রই এর উদ্বোধন করা হবে বলে জানান তিনি।
সাব্বির ফয়েজ বলেন, বিচার বিভাগকে ডিজিটাল করার যে প্রচেষ্টা রয়েছে, এটা তারই অংশ। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল আদালতে এই সিস্টেম চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিচার বিভাগের কার্যক্রমকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এর আগে নিম্ন আদালতের মামলার তথ্যসংবলিত কজলিস্ট চালু করা হয়। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও রাঙ্গামাটি জেলা আদালতের মামলার দৈনন্দিন কার্যতালিকা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানা যায়।

www.bdcourts.gov.bd এই ওয়েবসাইটে নিম্ন আদালতের কজলিস্টগুলো পাওয়া যাবে। প্রতিদিনের মামলার তালিকা, মামলার আদেশ ও রায় ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এর ফলে মামলার পক্ষগণকে আদালতের আদেশ বা রায় জানার জন্য আইনজীবীর নিকট যেতে হবে না। তারা ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ সব তথ্য জানতে পারবেন।

এই প্রজেক্টের আওতায় রাজশাহী, রংপুর ও কুমিল্লা জেলা আদালতকে নিয়ে আসতে কাজ প্রায় শেষের দিকে বলে জাস্টের দাফতরিক সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষ প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম