আ.লীগে রাজনৈতিক আশ্রয়!

0
13

আ.লীগে রাজনৈতিক আশ্রয়!
শরিফুজ্জামান | ১১ জুলাই, ২০১৫

image

কার্টুন : শিশির:
সাধারণত দলবদলের হিড়িক পড়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে। এবার ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা সরকারি দলে যোগ দিতে শুরু করেছেন। গত দেড় বছরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় এ রকম যোগদানের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৬২টি। আর যোগদানকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজারের বেশি।
বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবর, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য এবং যোগদানকারী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা, এমনকি বিএনপি বা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও মনে করছেন, দলবদলের এই প্রক্রিয়ায় আদর্শিক কোনো বিষয় নেই, পুরোটাই ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণ, আত্মরক্ষা এবং রাজনীতিতে টিকে থাকার কারণে ঘটছে।

দেড় বছরে যোগদানের চিত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত হওয়া বা টিকে থাকা, মামলা থেকে রক্ষা পাওয়া, নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া, পুলিশের ধাওয়া থেকে সুরক্ষা, আত্মীয়স্বজনের চাকরির সুযোগ, বিএনপির স্থানীয় কোন্দল, হতাশা ও যুদ্ধাপরাধের কালিমা জামায়াতের গায়ে মেখে যাওয়াসহ নানা কারণে ওই দুটি দল ছাড়ার ঘটনা ঘটছে। তবে জাতীয় পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা এখনো দলবদলের সারিতে আসেননি।
এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকেই বলছেন, বহুমুখী রাজনৈতিক সংকট অতিক্রম করে সরকার যখন ঘর গুছিয়ে ফেলছে, তখন অন্য দলের বিতর্কিত ও সুবিধাবাদী নেতা-কর্মীদের এভাবে বরণ করে নেওয়ার যুক্তি নেই।
মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের অনেকেই দলবদল করছেন। গত উপজেলা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এসব নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না। তাই নির্বাচনে জিততে চাইলে সরকারি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতেই হবে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচন গত মেয়াদে অনেক ভালো হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর আগামী স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে শঙ্কা আছে। এ কারণে অনেকে হয়তো নিজের পদ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সরকারি দলে ভিড় করতে পারেন।

এর আগে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলবদল বন্ধ করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একাধিকবার ছাত্রলীগে শিবিরের নেতা-কর্মীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বলেছেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ মেরু এক হতে পারে না। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির পরবর্তী সভায় বিষয়টি তোলা হবে। বিষয়টি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন বলেও জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আদর্শের জন্য নয়, মামলা থেকে রক্ষা বা অন্য কোনো কারণে এই দলবদল হচ্ছে বলে মনে হয়।’
বিএনপির নেতারাও মনে করছেন, আদর্শের জন্য এই দলবদল নয়। একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় নেতা প্রথম আলোকে বলেন, কিছু নেতা-কর্মী গেলে তাতে বড় দলের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, দলবদলের মাধ্যমে হয়তো কিছু লোক সাময়িক স্বস্তি খুঁজছে। মাঠপর্যায়ে নির্যাতন, অব্যাহত চাপ, পুলিশের তাড়া ও মামলা, ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা, নিশ্চিন্তে বাড়িতে ঘুমাতে পারার মতো কয়েকটি কারণ রয়েছে দলবদলের পেছনে।

রাজশাহীর বাগমারা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মতিউর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে গত ১০ এপ্রিল দলটিতে যোগ দেন জামায়াতের বাগমারা উপজেলা শাখার সম্পাদক নুরুল ইসলাম (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) l ছবি: প্রথম আলোবিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি-জামায়াত প্রভাবিত এলাকাগুলোতেই দলবদল হয়েছে বেশি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের বর্ষপূর্তির পরে যেসব এলাকায় সহিংসতা ও নাশকতা হয়েছে, সেসব এলাকায় দলবদলের প্রবণতা বেশি। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে রাজশাহী, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, নাটোর, কুমিল্লা, চাঁদপুর, গাইবান্ধা, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলা।

মাহবুবুর রহমানের মতে, কোনো কোনো এলাকায় সরকারি দলের লক্ষ্য হচ্ছে নিজেদের দল ভারী করা। যেখানে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা ভালো, সেখান থেকে কিছু লোক ভাগিয়ে নেওয়া। এ ছাড়া দলবদলের প্রক্রিয়ায় কিছু আর্থিক লেনদেন ও সুযোগ-সুবিধা ভাগাভাগি হয় বলেও জানান তিনি।

তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, ২০০১ সালের পর থেকে ক্ষমতায় থেকে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ও জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করা, এরপর ক্ষমতার বাইরে গিয়ে নাশকতা ও মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে।

জামায়াতের নেতা-কর্মী এবং সন্ত্রাস বা নাশকতায় অভিযুক্ত কাউকে দলে নিতে নিরুৎসাহিত করার কথা উল্লেখ করে হানিফ বলেন, কোনো সমাজসচেতন নাগরিক ভুল বুঝে ও সরকারের উন্নয়নকাজে আকৃষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চাইলে না বলাটা উচিত হবে না। প্রায় ১৬ কোটি মানুষের দেশে দেড় বছরে ১৯ হাজার নেতা-কর্মীর আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার নয় বলেও মনে করেন কেন্দ্রীয় ওই নেতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের সময়ে দলবদলের ঘটনা এতটাই অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে যে তখন কৌতুক হিসেবে বলা হতো, নয় বছরে নয় কোটির বেশি মানুষ জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।
নব্বইয়ে এরশাদের পতনের আগে তিন জোটের রূপরেখায় জাপা নেতাদের দলে না ভেড়ানোর অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু পরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জাতীয় পার্টি থেকে দলে দলে নেতা-কর্মীদের সরকারি দলে যোগ দিতে দেখা গেছে। এরপর থেকে এই ধারা চলতে থাকে। এখন তো জাতীয় পার্টির প্রায় পুরোটাই সরকারি দল হয়ে গেছে।

তবে ৫ জানুয়ারির আগে দলবদল সেই অর্থে হয়নি। তখন দলবদলের একটি ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের নেতা নওশের আলী স্থানীয় যুবলীগ আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সরকারি দল এর আগে বিভিন্ন ঘটনার পর বলেছে, এগুলো ঘটিয়েছে অনুপ্রবেশকারীরা। এখন তো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, যুদ্ধাপরাধের মামলা শুরু হওয়ার আগে জামায়াত বা খেলাফত এতটা ঘৃণিত ছিল না। এখনকার সরকারি দল তাদের সঙ্গে আন্দোলন করেছে, এক মঞ্চে বসেছে, খেলাফতের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছিল আওয়ামী লীগের।
এখনকার দলবদল নিয়ে ১৪ দলের শরিক সংগঠনগুলোর মধ্যেও প্রতিক্রিয়া আছে। ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ বিভিন্ন দল এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করছে। ১৪ দলের শরিক জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, যাদের বিরুদ্ধে লড়াই, তাদের ঘরে ডেকে আনলে লড়াই হবে কীভাবে এবং কার সঙ্গে—সরকার বা সরকারি দলের সেই ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাসদে কিছু জামায়াতের কর্মী ঢুকে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগে বিএনপি-জামায়াতকে যেভাবে স্বাগত জানানো হচ্ছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক ও বিস্ময়কর।

মিলেমিশে রাজনীতি করা: দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা অস্তিত্বের স্বার্থে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে থাকছেন। এর বড় উদাহরণ নারায়ণগঞ্জ। সেখানে সরকারি দলের গডফাদারখ্যাত একজন রাজনীতিকের সঙ্গে সখ্য রাখার জন্য বিএনপির নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একজন সাবেক সাংসদও গত বছরের ৫ জানুয়ারি পুলিশের করা মামলা থেকে জামিন পেয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের আশীর্বাদে। গত বছরের ২০ অক্টোবর আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগে যোগ দেন চার খুনের আসামি ও প্রভাবশালী বিএনপির নেতা আবুল বাশার।
স্থানীয় সাংসদ নজরুল ইসলামকে নৌকা প্রতীকসংবলিত সোনার কোটপিন উপহার দেন এই সাবেক চেয়ারম্যান। বিএনপির ২৫ নেতা-কর্মীকে নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি ভালোই আছেন। ২০০২ সালের ১২ মার্চ বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই বারেকসহ চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এক যুগ পর মামলাটি রায় ঘোষণার অপেক্ষায় আছে। এখন স্থানীয় সাংসদ এলাকায় গেলে নিহত বারেকের ভাই রফিকুল ইসলাম ও আসামি আবুল বাশার একই মঞ্চে থাকেন।

ফুল নিয়েছেন যেসব মন্ত্রী-সাংসদ: বিএনপি ও জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন করছে সরকারি দলের স্থানীয় কমিটি। যেসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বা সাংসদ অংশ নিচ্ছেন, সেগুলো গণমাধ্যমে প্রচার পাচ্ছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রী ও সাংসদদের মধ্যে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রমুখ। সাংসদদের মধ্যে আছেন সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, নজরুল ইসলাম, সুবিদ আলী ভূঁইয়া, এনামুর রহমান, হাবীবে মিল্লাত, জাহিদ আহসান, শামসুল আলম, আবুল কালাম আজাদ, নুর-ই-আলম চৌধুরী, আনোয়ারুল আজীম, আলী আজম প্রমুখ।

পরিকল্পনামন্ত্রীর উদারতা: ৪ জুলাই বিএনপির স্থানীয় নেতা শরিফুল ইসলামের হাত দিয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ উদ্বোধন করান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিএনপি-জামায়াতের প্রায় ২০০ নেতা-কর্মী ওই দিন মন্ত্রীর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
ইউনিয়ন বিএনপির নেতা শাহ আলমের যোগদানে মন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, ‘আপনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করেন নাই। তাই কাফফারা হিসেবে সবাইকে চা খাওয়াবেন।’ রাজনৈতিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় এ কাজ করেছেন বলে মুস্তফা কামাল জানান।

ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে আওয়ামী লীগে: ৪ জুলাই রাজশাহীর চারঘাটে ভোটকেন্দ্রে হামলাসহ কয়েকটি মামলার আসামি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের শলুয়া ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান ও জামায়াত-সমর্থক শিক্ষক হুমায়ূন কবির আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
ভোটকেন্দ্র পোড়ানোর মামলায় মোখলেছুরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তবে অনুষ্ঠানে মোখলেছুর রহমান বলেন, যে দলের নেত্রী দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও ভোট বানচাল করার জন্য নেতা-কর্মীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাঁর রাজনীতি আর করবেন না। মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগ দেখবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সোজা কথায় বলা যায়, বাঁচার জন্য এই দলবদল হচ্ছে। তবে আমাদের সমাজে কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ তো আছেই, যারা আর্থিক সুবিধার জন্য যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সেই সরকারের পেছনে ছোটে। আবার দলবদল না করেও টাকাপয়সা খরচ করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজকর্ম করার মতো স্থানীয় নেতার সংখ্যাও কম নয়।’

আটকের পরদিন আওয়ামী লীগে: ৫ জুলাই বিকেলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছালামত আলীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। ৬ জুলাই সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার পর বিকেলেই তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ছালামত আলী রাউজানের যুবলীগের কর্মী মোবারক হোসেন হত্যা মামলার আসামি।
আসামিকে আদালতে পাঠানোর পরিবর্তে দলে যোগদান করানো আইনসিদ্ধ কি না, জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকলে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।’ রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমারের মতে, স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হওয়ায় তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দলীয় ব্যবস্থায় এ ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত। তবে জামায়াতের কেউ যদি আদর্শিক কারণে দলবদল করতে চায়, তাহলে আমি দোষের কিছু দেখি না। কিন্তু অবস্থাটা এখন পর্যন্ত ঘোলাটে। কারণ, এসব দলবদল হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে একেক ধরনের বাস্তবতার ওপর ভর করে।’
তাঁর মতে, বিএনপি-জামায়াত এখন কোণঠাসা অবস্থায় আছে, রাজনৈতিক মাঠে খেলতে পারছে না। সেই সুযোগ হয়তো সরকারি দল স্থানীয় পর্যায়ে নিচ্ছে। কিন্তু এটা সরকারি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নয়, আবার কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ছাড়া মাঠপর্যায়ে এটা হতে পারে কি না, সেটিও একটি প্রশ্ন।