পোশাক খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১১০০০ কোটি টাকা

পোশাক খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১১০০০ কোটি টাকা

এমএম মাসুদ | ১৩ জুলাই ২০১৫, সোমবার, ১:১১

 সদ্য সমাপ্ত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান খাত পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ কম। তবে আগের অর্থবছরের (২০১৩-১৪) চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশের কাছাকাছি। এদিকে বিদায়ী বছরে মোট রপ্তানি আয়ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ৬.০৩ শতাংশ। তবে আগের বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৩৫ শতাংশ বেশি। রপ্তানি আয়ের এ প্রবৃদ্ধি গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। অবশ্য মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশই এসেছে তৈরী পোশাক খাত থেকে; যা অর্থের হিসাবে ২ হাজার ৫৪৯ কোটি ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বিজিএমইএ’র রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ চিত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, গত অর্থবছরের শুরুর দিকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ইউরো ও রুশ মুদ্রা রুবলের দরপতন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চাহিদায় কিছুটা মন্দাভাব, গ্যাস-বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততা প্রভৃতি কারণে রপ্তানি আয় কমেছে।

ইপিবি সূত্রে জানা যায়, নিটওয়্যার ও ওভেন মিলে পোশাক শিল্পে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার। নিট ও ওভেন খাত মিলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ১৪০ কোটি ৫৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। টাকার অঙ্কে যা ১০ হাজার ৯৬৫ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার (১ ডলার=৭৮ টাকা হিসাবে)।

এককভাবে হিসাব করলে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানির মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩২১ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১ হাজার ২৪২ কোটি ৬৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে নিটওয়্যার খাতে আয় কমেছে ৭৮ কোটি ৮৮ লাখ ২০ হাজার ডলার, শতকরা হিসাবে যা ৫.৯৭ শতাংশ। তবে নিটওয়্যারে আগের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছে ৩.১৩ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩৬৮ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ৬১ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা শতকরা হিসাবে ৪.৫১ শতাংশ। তবে ওভেনখাতে আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ শতাংশ।

বিজিএমইএ তথ্যে দেখা যায়, ২০০২-০৩ থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি অর্থবছরের মধ্যে সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরেই সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০০২-০৩ অর্থবছরে ৬৫৪ কোটি ডলার আয় হয়েছিল। তাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.৩৮ শতাংশ। তার আগের ২০০১-০২ অর্থবছরে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। আর ১৩ অর্থবছরের মধ্যে ২০১০-১১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৪১.৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। তখন রপ্তানি আয় ছিল ২ হাজার ২৯২ কোটি ডলার।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, বছরের প্রথমদিকে অর্ডার খুবই কম এসেছে। সংস্কার কার্যক্রম করতে গিয়ে অনেক কারখানা বসে গেছে। তবে বর্তমানে অর্ডার বাড়তে শুরু করায় আগামীতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, প্রধান কারণ হচ্ছে ২০১৫ সালের শুরুর ৪ মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা। ওই সময় আমরা ঠিকমতো পণ্য রপ্তানি করতে পারিনি। রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও পোশাক শিল্পে দুর্ঘটনা, অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের বাড়াবাড়ি, ইউরো জোনে ইউরোর দরপতন এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন-এসব কারণেও রপ্তানি আয় কমেছে।

বিদায়ী অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৩২০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ১১৯ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মোট রপ্তানি আয় কমেছে ২০০ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ৬.০৩ শতাংশ। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় মোট রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০১ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার বা ৩.২৫ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে মোট রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩ হাজার ১৮ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার ডলার।

এদিকে তৈরী পোশাক শিল্পে এবং সামগ্রিক রপ্তানিতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হলেও বেশির ভাগ পণ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, তেমনি প্রবৃদ্ধিও হয়নি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি পণ্যের তালিকায় থাকা ৬৯টি মূল পণ্যের মধ্যে ৩০টিতে ঋণাত্মক ও ৩৯টিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ইপিবি’র তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১১৩ কোটি, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৮৬ কোটি, হোম টেক্সটাইলে ৮০ কোটি, কৃষিজাত পণ্যে ৫৮ কোটি, হিমায়িত খাদ্যে ৫৬ কোটি, প্রকৌশল পণ্যে ৪৪ কোটি, চামড়াবিহীন পাদুকায় ১৮ কোটি, বাইসাইকেলে ১২ ও প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে ১০ কোটি ডলার আয় হয়েছে।