ঈদে হাজার খাবারের ভিড়েও সুস্থ থাকতে..

ঈদে হাজার খাবারের ভিড়েও সুস্থ থাকতে..

file (4)ঈদ মানেই মজার সব খাবারের আধিক্য। সারামাস রোজা করার পর হঠাৎই তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, মাংস, জর্দা, ফিরনি, সেমাই, হালুয়া ইত্যাদি খাবারের চাপ পড়ে। মুখরোচক এসব খাবার খেয়ে অনেকেরই হতে পারে হজমে সমস্যা, ফুড পয়জনিং, হার্টবার্ন অথবা উচ্চরক্তচাপের সমস্যা। ঈদের আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হতে পারে এর যেকোনো একটি অসুস্থতার কারণে। এসব সমস্যা এড়াতে খাবারের ব্যাপারে থাকতে হবে সচেতন। সঙ্গে রাখতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। কাছের কেউ যদি অসুস্থ হয়েই যায়, তবে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জেনে রাখুন কিছু প্রয়োজনীয় উপায়।

হজমে সমস্যা

অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের কারণে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।  এছাড়া অনেকের আবার স্বাভাবিক কারণেও হজমে সমস্যা বা বদহজম হতে পারে। তাই কখনোই খুব বেশি ভরপেট খাবার খাওয়া যাবে না। চুকা ঢেঁকুর উঠলে, পেটে গ্যাস হলে, পেট ব্যাথা করলে অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ খেতে হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান এবং হজমে সহায়ক কিছু ওষুধ বা ডাইজেসিটভ মেডিসিন খেলে উপকার পাবেন। তবে সমস্যা বেশি মনে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ফুড পয়জনিং

সাধারণত অতিভোজন, বাইরের খাবার, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি না করা খাবার খাওয়া, জীবাণুযুক্ত খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার অথবা পঁচা-বাসি খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে। ফুড পয়জনিং হলে আক্রান্ত ব্যক্তি বা শিশুর পেটে ব্যথা, বমি, পাতলা পায়খানা, সঙ্গে জ্বরও হতে পারে। ফুড পয়জনিং সমস্যার চিকিত্সা ও করণীয় হচ্ছে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া। ফুড পয়জনিং হলে রোগীকে খাবার স্যালাইন খেতে দিতে হবে। পাশাপাশি রোগীর অবস্থা অনুযায়ী জীবাণুনাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তবে ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ খেলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। এসব সমস্যা এড়াতে যত্রতত্র ফার্স্টফুড, সফট ডিংকস, আইসক্রিম না খাওয়া ভালো।

অ্যালার্জি

অ্যালার্জি শব্দটির সঙ্গে আমরা কমবেশি পরিচিত। খাদ্যে, ধুলা-ময়লা, রঙ, নতুন কাপড়, প্রসাধন সামগ্রী, সফট ড্রিংস, ফাস্টফুড, টিনজাত ফুড, জুস থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। সাধারণত অ্যালার্জির কারণ জেনে চিকিৎসা নিলে অ্যালার্জি থেকে ভালো থাকা যায়। এছাড়া যাদের খাদ্যে অ্যালার্জি আছে তাদের ইলিশ মাছ, গরুর মাংস, ডিম, বেগুন, চিংড়ি মাছ পরিহার করা ভালো। এ ছাড়া অনেক সময় সিনথেটিক কাপড় ও ব্যবহার্য প্রসাধন সামগ্রী, সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার, কেমিক্যাল থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। এক্ষেত্রে যেকোনো অ্যান্টি-হিস্টামিনজাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে অ্যালার্জির তীব্রতা মারাত্মক হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হার্ট বার্ন

হার্ট বার্ন বা বুক জ্বালাপোড়া একটি জটিল সমস্যা। বিশেষ করে যাদের পেটের সমস্যা আছে তারা যদি অধিক মসলাযুক্ত বা স্পাইসি খাবার আহার করেন, তাদের বুক জ্বালাপোড়া বা আলসার আরও বেড়ে যেতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত আহারের ফলে পাকস্থলীর খাবার উপরের দিকে উঠে বুকে ব্যথা হতে পারে। ডাক্তারী ভাষায় বলা হয় হার্ট বার্ন। অনেকে এ ধরনের বুকের ব্যথা হার্টের ব্যথা মনে করেন। মনে রাখতে হবে হার্ট অ্যাটাকজনিত বুকে ব্যথা হলে বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা, শরীরে ঘাম, অস্থিরতা থাকবে। আর হার্ট বার্ন বা বুকজ্বালা পোড়াজনিত বুকে ব্যথার কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই এবং অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবনে উপকার পাওয়া যায়। এরপরও বিস্তারিত জানতে হলে কোনো মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

উচ্চরক্তচাপ সমস্যা

রেডমিট বা লাল মাংস আহারে রক্তচাপ বাড়তে পারে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের রক্তচাপ আরও বাড়তে পারে। তাই এ সময় পরিমিত আহার বাঞ্ছনীয়। যেকোনো ধরনের গুরুতর স্বাস্থ্য-সমস্যায় নিকটস্থ চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

সবচেয়ে বড়কথা হল, রোদ আর বৃষ্টির লুকোচুরিতে অস্থির আবহাওয়ায় এবারের ঈদ। বৈরি আবহাওয়াতে সুস্থ থাকাটা কষ্টকর। তাই হঠাৎ করে হাজারো খাবারের ভিড়ে নিজেকে সুস্থ রাখতে দরকার সচেতনতা। আর সেজন্যই খাবার খেতে হবে বেছে বেছে। বেশি করে তরল জাতীয় খাবার, ডাবের পানি, ফ্রেস জুস আপনাকে রাখবে অনেক বেশি সজীব।