ভারতে অস্ত্রের শীর্ষ জোগানদার হবে যুক্তরাষ্ট

ভারতে অস্ত্রের শীর্ষ জোগানদার হবে যুক্তরাষ্ট

ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে অস্ত্র রপ্তানি বাড়ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে অচিরেই ভারতে অস্ত্র রপ্তানিতে শীর্ষ পৌঁছে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি : রয়টার্স

ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে অস্ত্র রপ্তানি বাড়ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে অচিরেই ভারতে অস্ত্র রপ্তানিতে শীর্ষ পৌঁছে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি : রয়টার্স

পূর্বে ভারতে অস্ত্র রপ্তানিতে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল রাশিয়ার। সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের নীতিরও পরিবর্তন ঘটেছে। গত এক দশকে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্রের রপ্তানি বেড়েছে ভারতে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভারতে অস্ত্রের এক নম্বর রপ্তানিকারক হতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশি দিন লাগবে না।

প্রতিরক্ষা বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি চুক্তি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এগিয়ে গেছে গত জুনে স্বাক্ষরিত ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে। এ ছাড়া গত আট বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভারতের অস্ত্র কেনার এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় ভারতের প্রতিরক্ষা কেনাকাটাবিষয়ক সংস্থা ডিএসির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি চারটি  পি-৮১ বিমানকেনার বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে ভারতের বহরে পি-৮১ বিমান আছে। আরো চারটি বিমান কেনায় খরচ হবে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।

এরই মধ্যে ভারতের রাষ্ট্রীয় কেনাকাটাবিষয়ক কমিটি সিএনসি আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন শুধু ডিএসির অনুমোদনের অপেক্ষা। আর সেখানে একবার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের আগে অর্থমন্ত্রণালয়ে যাবে।

এর আগে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আটটি পি-৮১ বিমান কেনার জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে ভারতের ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়। তামিল নাডুর আরাক্ষনাম নৌবিমান ঘাঁটিতে থাকা রাডারসমৃদ্ধ পি-৮১ বিমান ভারত সাগরের ওপর ‘নজরদারিতে’ ব্যবহার হয়। এ ছাড়া প্রতিটি বিমানে আছে হারপুন ব্লক-টু মিসাইল, এমকে-৫৪ হালকা টর্পেডো, রকেট। এই বিমান থেকে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনে আঘাত হানা সম্ভব।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ও ভারতের কেন্দ্রীয় সচিবালয় সাউথ ব্লক অস্ত্র কেনার একটি চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৭৭ কোটি মার্কিন ডলারে এম-৭৭৭ হালকা কামান কেনার কথা বলা হয়েছে।

১৫৫ মিলিমিটার ও ৩৯ ক্যালিবারের হালকা এই কামান ২৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে। আর হালকা এই কামান সহজেই বিমানে করে উঁচু এলাকায় নেওয়া যায়। এমন হালকা কামান চীনের সঙ্গে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত ‘লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে’ ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক অস্ত্রনির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেম যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে অবস্থিত এদের অস্ত্র তৈরির ফ্যাক্টরির আদলে ভারতেও একটি উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করবে। এতে অংশীদার হিসেবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানও থাকবে। অংশীদার হতে ইচ্ছুক রাষ্ট্রীয় অর্ডিনেন্স ফ্যাক্টরি বোর্ডসহ প্রাইভেট এল অ্যান্ড টি, মাহিন্দ্র, টাটা ও রিলায়েন্সের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২২টি অ্যাপাচি, ১৫ টি চিনক হেলিকপ্টার কিনবে ভারত। এর অর্থমূল্য হতে পারে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার।