রাজনৈতিক নিয়োগে অস্থিরতায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান

0
8

রাজনৈতিক নিয়োগে অস্থিরতায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান 101.jpeg

আমিনুর রহমান রাসেল : রাষ্ট্রীয়মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে রাজনৈতিক নিয়োগ বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থায় আছে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানিগুলো।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে শীর্ষ কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১২ জন সাবেক নেতা, মহিলা আওয়ামীলীগের সাবেক এক নেত্রী, রিয়েল স্টেট এন্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) দুই নেতা এবং তিন ব্যবসায়ী মিলে নিয়ন্ত্রণ করছে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আওয়ামীলীগের ছাত্রসংগঠন এবং মহিলা আওয়ামীলীগও আওয়মীলীগের অঙ্গসংগঠন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রমালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পদে রাজনৈতিক নিয়োগ এর আগে কখনও দেখা যায়নি।

এসব পদে সাধারণত বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের লোক নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ নতুন পরিচালকদের কেউই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অভিজ্ঞ নয়।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, নতুন করে আগতদের কারণে রাষ্ট্রমালিকানাধীন এসব কোম্পানিতে এক ধরনের আস্বাভবিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, নতুন পরিচালকদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া এবং তাদের পূর্ব নির্ধারিত লোকজনকে টেন্ডার দেয়ার জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নানাভাবে চাপ দেয়া হয়।
এসব খাত সম্পর্কে নতুন পরিচালকদের তেমন জ্ঞান না থাকায় বোর্ড মিটিংগুলোতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর চেয়ে নগণ্য ইস্যুগুলোতে বেশি জোর দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, ‘তারা শুধু নতুন নিয়োগ আর নতুন নতুন টেন্ডারের ব্যাপারেই আগ্রহী। তারা কোম্পানি পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেন।’

ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) অধীন কোম্পানিগুলোতে বর্তমানে পরিচালক পদে আছে কর্ণফুলি গ্যাস কোম্পানির রাশেদুল মাহমুদ রাসেল, তিতাস গ্যাসে খান মইনুল ইসলাম মুশতাক, সিলেট গ্যাস ফিল্ডের মাকসুদুল আলম ডাবলু, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানিতে হাসানুজ্জামান মজুমদার লিটন, সুন্দরবন গ্যাসে মো. কাওসার আহমেদ, বাখরাবাদ গ্যাসে শেখ ফারুক হোসেন হিটলু, রুপান্তরিকা প্রাকৃতিক গ্যাসে এমএএস ইমন, এবং জালালাবাদ গ্যাসে মো. সাইফুল ইসলাম।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অধীন কোম্পানিগুলোর মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়ামে ইশতিয়াক আহমেদ শিমুল, পদ্মা অয়েলে মো. আরিফুজ্জামান মিয়া এবং যমুনা অয়েলে আছে সাইফুদ্দিন নাসির।

এ ব্যাপারে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের নবনিযুক্ত পরিচালক মাকসুদুল আলম ডাবলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ খাতে তার কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও শুধু ছাত্রলীগ করার কারণেই তাকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) আরেক নবনিযুক্ত পরিচালক বনশ্রী বিশ্বাস স্মৃতিকণা তার নিয়োগ বিষয়ে বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে এবং আমি রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পেতেই পারি। এতে সমস্যা কী?’
তিতাস গ্যাসের নবনিযুক্ত পরিচালক লিয়াকত আলি ভূইয়া বলেন, ‘আমাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই। আমরা অভিজ্ঞ নাও হতে পারি। আমাদের দায়িত্ব কোম্পানি সঠিকভাবে চলছে কিনা তা দেখা। এবং আমরা তা সঠিকভাবে তা করে যাচ্ছি।’

নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী তাদের দলীয় নেতা ও সমর্থক ব্যবসায়ীদের নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারকে রাজি করিয়েছে। তিনি রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি।
তিনি আরও জানান, প্রতিমন্ত্রী এসব পদে তার ব্যক্তিগত সহকারিদের পর্যন্ত নিয়োগ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানার জন্য ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিমন্ত্রী কেনো জবাব দেননি।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, এ ধরনের নিয়োগ দেখে তিনি হতাশ। জ্বালানি বিভাগের এ ধরনের কিছু নিয়োগ সে বন্ধ করার চেষ্টা করেছে।
কোম্পানি আইন অনুসারে এসব পদে কাউকে নিয়োগ দিতে হলে তা অবশ্যই বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদিত হতে হবে।
অনুবাদ: রাশেদ শাওন
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন।