বাপের দেশে কী দিলেন ওবামা?

বাপের দেশে কী দিলেন ওবামা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সফর উপলক্ষে কেনিয়ায় শুরু হয় এমন উন্মাদনা। ছবি: এএফপি
বাপের দেশ কেনিয়া গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ছেলে ঘরে আসছে। তাই কেনিয়াজুড়ে তখন সাজ সাজ রব। তাঁর সফর ঘিরে অনেক স্বপ্ন বুনেছে কেনিয়া। কিন্তু তাদের আবেগ বা প্রত্যাশা নিয়ে ওবামা কতটা ভেবেছেন, এ হিসাব মেলানোর সময় এসেছে। দুই মেয়াদে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ওবামার সময় আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন কিছু পেয়েছে কি না, তা নিয়েও ভাবার অবকাশ রয়েছে।

কেনিয়া সফরের সময় ওবামা অনেক আশার কথা শুনিয়েছিলেন। আফ্রিকাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ভাবছে বলেও জানান তিনি। আশা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকাকে নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, ওবামার সফরের পর তা কমবে।
পেছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময় আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্টের প্রচলন হয়। ওই অ্যাক্টের আওতায় আফ্রিকার দেশগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়ও আফ্রিকার এইচআইভি ও এইডস কর্মসূচিতে অনেক অর্থ বা তহবিল বরাদ্দ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওবামার প্রশাসনে এসব কর্মসূচির খুব বেশি রদবদল হয়নি। খুব বেশি অগ্রগতিও হয়নি। আফ্রিকার জন্য চোখে পড়ার মতো কোনো উদ্যোগ বা কর্মসূচি ওবামাকে নিতে দেখা যায়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে ওবামার সময়ে সুযোগ-সুবিধা কমেছে আফ্রিকায়।
ওবামা আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্টের নবায়ন করেছেন। আমেরিকান ত্রাণ সংস্থা ইউএসএইড এখনো আফ্রিকার বিভিন্ন জায়গায় এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১১ সালে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়। এ সময় এসব খাতে মার্কিন সরকারের সাহায্য কমে যায়।

এ সময় আফ্রিকার দিকে বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দেয় চীন। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পশ্চিমা বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায় চীন। আফ্রিকার দেশগুলোর উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অধিক জনসংখ্যা। কেনিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নগরায়ণ, প্রযুক্তি, দুর্নীতি খাতসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা থেকে বের হতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে চায় তারা। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারির হোয়াইট হাউস সফরের মধ্য দিয়ে সেই পথটি সহজ হয়ে যায়। তাঁর সফরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেনিয়া সফরে যান।

সফরে গিয়ে ওবামা আফ্রিকায় সুশাসন, অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের কথা বলেছেন। কিন্তু তাঁর কথার সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যায়নি। গত বছর সমকামী বিষয়ক আইন পাস করায় যুক্তরাষ্ট্র উগান্ডায় ত্রাণ কমিয়ে দেয়। ওবামার সময় আফ্রিকার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো বাণিজ্যিক চুক্তিও হয়নি। তাই ওবামাকে ঘিরে আফ্রিকাবাসীর স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে গেছে। কেনিয়া সফরের পরও অবস্থা খুব বেশি বদলায়নি। তাঁকে নতুন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে