‘সব সময় টেনশনে থাকি’

‘সব সময় টেনশনে থাকি’

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Dis 3ক্ষমতাসীন দল ও এর অঙ্গসংগঠনের মধ্যেকার অর্ন্তদ্বন্দ্ব এবং অন্যান্য কারণে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়া, ঘরের ভেতরে ঢুকে ব্লগার হত্যাসহ এ বছরেই চার জন ব্লগার হত্যা, বেশ কয়েকজন শিশু-কিশোরকে পাশবিক নির্যাতনে নিহত করা, অনেক নারী ধর্ষণ ও যৌন সন্ত্রাসের ঘটনা এবং হত্যাকাণ্ড, সহিংসতার বিস্তার সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষ বিপন্ন এবং শঙ্কিত। তারা আরও ভীত হয়ে পড়েছেন এই কারণে যে, প্রত্যাশিত আইনের শাসনের অনুপস্থিতি,বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিরাজমান থাকায় দায়মুক্তির একটি সংস্কৃতি সমাজে সৃষ্টি হয়েছে -যা মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। এ ব্যাপারে সমাজের বিভিন্নস্তরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় অনেকেই এড়িয়ে গেছেন সঙ্গত কারণেই। তারপরেও কয়েকজন তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা এবং অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলছে এবং এটা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং সাম্প্রতিককালে যা দেখা যাচ্ছে, সংঘর্ষের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সহিংসতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের উপরে জনগণের আস্থা কমে যাবার ফলে কেউ কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এই অবস্থায় যার দরকার তাহলো – আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করার মতো প্রশাসন, আইন, বাজেট বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাতে তারা ‘ভীতির মধ্যেই আছেন’ এমনটাই জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফররুখ মাহমুদ বলেন, আমার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি ভীতিকর ও নৈরাজ্যমূলক বলেই মনে হচ্ছে। কারণ একের পর এক ব্লগার হত্যা, পাশাপাশি শিশু হত্যা ও নির্যাতন হচ্ছে এবং একই সাথে সরকারি দলের অর্ন্তদ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট ঘটনাবলী – সব মিলিয়েই এমনই এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং রুখে দাড়ানোর চেষ্টা থাকতো, এখন আর তেমনটি নেই। তাছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তাতে আইনের শাসনও প্রতিষ্ঠিত নয়।

গ্রিনরোড এলাকায় বসবাস করেন আরজু, একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি জানালেন, সন্ধ্যার পরে ঘর থেকে বের হওয়ার তো কোনো প্রশ্নই উঠে না। কারণ যেসব ঘটনা ঘটছে তার কোনোটিরই তো কোনো বিচার হয়নি। নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে,শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে আর বিচার না হওয়ায় যে আতঙ্ক ও ভয় তৈরি হয়েছে। সে কারণে সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে বের হওয়ার কোনো সাহসই আমরা পাই না।

খুলনা থেকে শাহাদত হোসেন জানান, বিচারহীনতার যে সংস্কৃতিটি গড়ে উঠেছে এবং আইনের শাসন না থাকায় প্রতিদিনই ঘটনা ঘটছে। দুর্বল শ্রেণী অর্থাৎ নারী এবং শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইনের শাসন ও বিচার পাওয়ার সংস্কৃতি না থাকলে জনগণ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে এবং তারা নিত্যনতুন ঘটনা ঘটাতে থাকে। আর এই অবস্থাই এখন বাংলাদেশের নিয়তি হয়ে দাড়িয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকির আহমেদ সোয়েব বলেন, বর্তমান সময়ে যে হত্যা, খুন, নির্যাতনের ঘটনাবলী ঘটছে তাতে আমি মারাত্মক পর্যায়ে ভীতি-সন্ত্রস্ত্র। সমাজের একজন তরুণ সদস্য হিসেবে আমি মনে করি, এ অবস্থা আমাদের তরুণ সমাজের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতিকে রুদ্ধ করে দেবে। সুতরাং অতিসত্ত্বর আমাদেরকে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হোক।

ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক সায়েদাবাদ এলাকার বাসিন্দা মাহবুব বলেন, মহা আতঙ্কের মধ্যে, টেনশনের মধ্যে থাকি। আমি একটি চাকুরি করি। আর এ কারণে যখন ঘরের বাইরে বের হই তখন আল্লাহর নাম জপতে জপতে বের হই এই আশংকায় যে, আমি আবার ফিরে আসতে পারবো কি না। অফিস থেকে যখন বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেই তখন আল্লাহর নাম করতে করতে বের হই। যখন বাসায় থাকি না তখন একটাই টেনশন কাজ করে- আমার চার মেয়ে ঠিকঠাক মতো আছে কিনা। আমার চিন্তাও আছে আবার মেয়েদের নিয়েও আমি চিন্তিত। সব সময় টেনশনে থাকি, আমার মেয়েরা যেন কোনো ঝামেলার মধ্যে না পড়ে।। প্রকাশক: আমাদের বুধবার