জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ার বাড়লো

জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ার বাড়লো

দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বাড়িয়ে ‘দ্য সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানিতে জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ার পাঁচ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ধরনের মামলায় সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার দুই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা এবং সিনিয়র সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে যুগ্ম জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ারে কোন পরিবর্তন হয়নি। কারণ তিনি যে কোন মূল্যের জমিসংক্রান্ত দেওয়ানি মামলার বিচার করতে পারেন। গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানিয়ে বলেন, বর্তমানে সম্পত্তির মূল্য অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে সংগতি রেখে দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। এজন্য মন্ত্রিসভা সংশোধিত এ আইন অনুমোদন দিয়েছে। সংশোধিত আইন বাস্তবায়নের বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, এতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। কারণ বর্তমানে যে মামলা উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য যায়, তা এখন নিম্ন আদালতে বিচারের জন্য যাবে। এতে মানুষের কষ্ট অনেক লাঘব হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেওয়ানি মামলায় সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার হলো দুই লাখ টাকা। মামলা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্য যদি দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হয় তবে তা সহকারী জজ আদালতে বিচার হয়। এ সীমা বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। ১৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলা সহকারী জজ আদালতে বিচার্য হবে। এর ওপরে রয়েছেন সিনিয়র সহকারী জজ। বর্তমানে তাদের আর্থিক এখতিয়ার হচ্ছে চার লাখ টাকা। সংশোধিত আইনে তা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এরপর রয়েছেন যুগ্ম জেলা জজ। তাদের ক্ষেত্রে আর্থিক এখতিয়ার সংশোধনের প্রয়োজন হয়নি। কারণ তাদের ক্ষমতা আনলিমিটেড (অসীম)। এ-সংক্রান্ত আপিল আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অ্যাপিলেট কোর্টের ক্ষেত্রে বর্তমানে জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ার পাঁচ লাখ টাকা। এটা বৃদ্ধি করে করা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। অর্থাৎ যে সম্পত্তির মূল্য পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত তার আপিল মামলার শুনানি জেলা জজ আদালতে হবে। এর ওপরে হলে তা হাইকোর্ট বিভাগে যাবে। এখন সম্পত্তির মূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলে হাইকোর্টে যেতে হয়। সংশোধিত আইন কার্যকর হলে পাঁচ কোটি টাকার বেশি হলে হাইকোর্টে যেতে হবে। মোশাররাফ হোসাইন বলেন, এতে অনেক কম লোককে হাইকোর্টে আসতে হবে। দেশের দূরদূরান্তের অনেক লোককে ঢাকায় আসতে হবে না। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোস্টগার্ড আইন-২০১৫-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। আইনটি বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ আইনের আদলে করা হয়েছে। কোস্টগার্ড আইনেও বিদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।