শিক্ষা খাতে বাড়লেও কমেছে স্বাস্থ্যে

ব্যাংকিং খাতের সিএসআর ব্যয়
শিক্ষা খাতে বাড়লেও কমেছে স্বাস্থ্যে
সাকিব তনু | তারিখ: ২৪-০৮-২০১৩
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর শিক্ষা খাতে সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) অর্থের ব্যবহার বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে কমেছে এ ব্যয়। তবে শিক্ষার মতো স্বাস্থ্য খাতকেও সমান গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ২০১২ সালে সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলো ব্যয় করে ৩০৪ কোটি টাকা। এর ৩২ শতাংশ ব্যয় হয় শিক্ষা খাতে। শিক্ষা খাতে ৩০ শতাংশ অর্থ ব্যয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা জারির কারণেই এ ব্যয় বেড়েছে। ২০০৯ সালে শিক্ষা খাতে ব্যয় ছিল ১৭ শতাংশে।
শিক্ষা খাতে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় বাড়লেও কমছে স্বাস্থ্যে। ২০০৯ সালে সিএসআর ব্যয়ের ৪৪ শতাংশ এ খাতে ব্যয় হলেও ২০১২ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ শতাংশ। মাঝে ২০১০ ও ২০১১ সালে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৩০ ও ২৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মাহফুজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, সিএসআরের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি প্রণীত হলে তা মেনেই ব্যাংকগুলোকে অর্থ ব্যয় করতে হবে।
২০১২ সালে ব্যাংকগুলোর খাতভিত্তিক ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিক্ষায় সিএসআরের অর্থ গেছে গরিব পরিবারের মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি প্রদানে। অনেককে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতেও এ অর্থ ব্যয় হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতের অর্থ গেছে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও চিকিত্সাকাজে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, অনেকে সিএসআরের অর্থ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ব্যয় করে থাকে। অনেকে আবার ব্যাংকের মাধ্যমেও ব্যয় করে। ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের ইচ্ছাতেই ব্যবহার হয় এ অর্থ। শিক্ষা খাতের অর্থ সাধারণত পরিচিতজনরাই পেয়ে থাকে। তবে স্বাস্থ্য খাতে যে অর্থ ব্যয় হয় তার সুফল ভোগ করে পুরো এলাকাবাসী। তাই সিএসআরে স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
২০১২ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে ৩৫টি ব্যাংক আর কমিয়েছে ১২টি ব্যাংক। গত বছর রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক এ খাতে ব্যয় করেছে ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ও অগ্রণী ব্যাংক ১০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। একই সময়ে বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ব্যয় করেছে ৫২ কোটি ৭৬ লাখ, ট্রাস্ট ব্যাংক ১৩ কোটি, প্রাইম ২৯ কোটি ৫৬ লাখ, এক্সিম ৩৯ কোটি ৯০ লাখ, ইসলামী ব্যাংক ৩০ কোটি ৯১ লাখ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৭ কোটি ৯১ লাখ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৯ কোটি, মার্কেন্টাইল সাড়ে ৮ কোটি, ব্যাংক এশিয়া ৯ কোটি ৫৮ লাখ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ব্যাংকগুলো এ অর্থের ২৬ শতাংশ ব্যয় করেছে মানবিক ও দুর্যোগ সহায়তায়, খেলাধুলায় ৬, শিল্প-সংস্কৃতিতে ৭, পরিবেশে ৫ ও অন্যান্য খাতে ১০ শতাংশ।
ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ভাইস চেয়ারম্যান ও পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমেদ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া সিএসআরের কিছু নির্দেশনা মেনে তারা এ অর্থ ব্যবহার করছেন। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা মওকুফ সুবিধা পাওয়া যায়— এমন খাতেই ব্যাংকগুলো অর্থ ব্যয়ে বেশি আগ্রহী। নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে এ অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা আসবে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য খাতটি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।