পূর্ণ ধসের মুখোমুখি ইয়েমেন: জাতিসংঘ

পূর্ণ ধসের মুখোমুখি ইয়েমেন: জাতিসংঘ

কলেরা ছড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেনেকলেরা ছড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেনে

জাতিসংঘের শীর্ষ মানবিক সহায়তা সমন্বয়ক স্টেফেন ও’ব্রায়ান জানিয়েছেন, ইয়েমেন এখন সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ ধসের মুখোমুখি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এখনই এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।ইয়েমেনের মানবিক সংকটে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। কলেরা ছড়িয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে ৫০০ মানুষ মারা গেছেন। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৯ হাজার মানুষ। আগামী ছয় মাসে এ সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়াতে পারে বলে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

ও’ব্রায়ান বলেন, ‘ইয়েমেনিদের এ দুর্দশা হঠাৎ করে হয়নি, অথবা তা এমন কোনও শক্তির কাজ নয়, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বরং বিশ্বশক্তির মদদে এ দ্বন্দ্বে যারা জড়িত তাদের ভুলের জন্যই এ অবস্থার সৃষ্টি।’

সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীসৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী

তিনি আরও বলেন, ‘ইয়েমেনের সুবিধাবঞ্চিত জনগণ আজ রোগ ও মৃত্যুর মুখোমুখি। আর বিশ্ববাসী তা তাকিয়ে দেখছে। সংকট তৈরি হচ্ছে বা বেড়ে উঠছে না, বরং আজ আমাদের চোখের সামনে আমরা মানবতার মৃত্যু দেখছি।’

ও’ব্রায়ান জানান, মানবিক সাহায্যের জন্য যে ২১০ কোটি ডলারের তহবিল প্রয়োজন, তার মাত্র ২৪ শতাংশ আমরা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সময় শিয়া হুথি বিদ্রোহী ও তাদের মিত্ররা দেশটির প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহকে হটিয়ে রাজধানী সানাসহ বেশ কিছু এলাকার দখল নেয়। এ সময় প্রেসিডেন্ট সালেহকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে হুথি বিদ্রোহীরা।  এক বছর পর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট হুথি বিদ্রোহীদের উৎখাতে ইয়েমেনে আগ্রাসন শুরু করে।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে অন্তত আট হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। আহত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪৪ হাজার মানুষ। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, এক কোটি ৮৮ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

/  সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন