0
12

গ্রামীণফোন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী
একজনের লাইসেন্স ব্যবহার করছেন অন্যজন
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৭-০৮-২০১৩
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, গ্রামীণফোনের লাইসেন্স অবৈধ। লাইসেন্সটা নিয়েছেন একজন আর ব্যবহার করছেন অন্যজন। গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রতিবেদনেও একই কথা বলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, কঠোরভাবে আইন অনুসরণ করা হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু যেহেতু গ্রামীণফোন বৈদেশিক বিনিয়োগের বৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠান, তাই লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়নি। এছাড়া গ্রামীণফোনের অধিকাংশ শেয়ার হচ্ছে টেলিনরের। তারা তো গ্রামীণ ব্যাংককে চেনে না। তারা চেনে গ্রামীণ টেলিকমকে। তাদের সম্পর্ক হচ্ছে ড. ইউনূসের সঙ্গে। গ্রামীণফোনের আরো গভীরে গিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

আজমালুল হোসেন কিউসির প্রতিবেদনটি ‘আংশিক’ মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তবে প্রতিবেদন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আগামী এক মাসের মধ্যেই গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশ নির্বাচন করা হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংককে রক্ষা করা এবং এর বৈশিষ্ট্য ও এখানে যারা কর্মরত আছেন তাদের স্বার্থ রক্ষা করা। এটা করতে গিয়ে অন্য কোথাও ছাড় দিতে হতে পারে।

গ্রামীণ ব্যাংক একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সালে সরকারি অর্থায়নেই গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস এটাকে নিজের প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন। যেভাবে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের নাম ব্যবহার করেছেন ও ব্যাংকের পরিচালকদের জন্য নিজে যে বিধান চালু করেছেন তা অবৈধ।

গ্রামীণফোনের কাছ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রাপ্য টাকা প্রসঙ্গে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘এটি ইউনূস সাহেব জানেন। আর এখানে টাকা লেনদেনের প্রক্রিয়াটিও গোলমেলে। কমিশন পুরো বিষয়টি এখনো বের করতে পারেনি।’

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউনূস সাহেবই এগুলো করিয়েছেন। চাপ অনুভব করেছি এ কারণে যে, একেক দিন একেক দেশের মন্ত্রী ও কংগ্রেসম্যানরা চিঠি লেখেন। আর সেটা তারা লেখেন প্রকাশ্যে। তাদের এসব চিঠির জবাব দিতে গিয়ে আমার অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।’

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ড. ইউনূসের প্রচারণা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ড. ইউনূস এটা করছেন। তিনি রাজনীতিবিদ কিন্তু রাজনীতিবিদের পোশাক পরেন না।

তিনি আরো বলেন, ড. ইউনূস যখনই বিপদে পড়েছেন সরকারের সাহায্য চেয়েছেন। যখন সুখে ছিলেন তখন সরকারের কাছে আসেননি, যা খুশি তা-ই করেছেন।

এদিকে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজেদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলের হলরুমে ‘মাল্টি এজেন্সি ট্রেনিং প্রোগ্রাম অন অ্যাসেট রিকভারি’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সরকারের একটি বড় সাফল্য উল্লেখ করে মুহিত বলেন, দুদক সিঙ্গাপুর থেকে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে যেভাবে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে, তেমনি অন্যদের পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে দুদক তাদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে পারে।