একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে প্রবাসীদের শ্রদ্ধা নিবেদন

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে প্রবাসীদের শ্রদ্ধা নিবেদন:

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্যালিফোর্নিয়া ও ওসমানী স্মৃতি সংসদের পুষ্পস্তবক অর্পণ

লস এঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া: একুশের প্রথম প্রহরে লস এঞ্জেলেসের সান ফেরন্যান্ডো ভ্যালীর অস্থায়ী শহীদ মিনারের বিশাল মুদ্রিত পত্রের পাদদেশে শত প্রবাসীরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে লস এঞ্জেলেসের ভ্যালীর শহীদ মিনার। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বাভোয়ার পুষ্পস্তবক অর্পণ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে স্থানীয় সময় ১২টা ১ মিনিটে (২১ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক সংগঠন, বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল, প্রেস ক্লাবসহ সর্বস্তরের প্রবাসীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বিএনপি ক্যালিফোর্নিয়া ও বাফলার পুষ্পস্তবক অর্পন

লস এঞ্জেলেস ও আশেপাশের অনেক সংগঠন সম্মিলিতভাবে এক অনাড়ম্বর ভাবগম্ভীর পরিবেশে অস্থায়ী শহীদ মিনারের বিশাল প্রাচীরপত্র তৈরী করে ভাষা শহীদদের সন্মানে পুষ্পস্তবক অর্পন করে।

ফ্রেন্ডস ক্লাব অব লস এঞ্জেলেস ও উত্তরণ শিল্পীগোষ্ঠী ও দোহার সমিতির পুষ্পস্তবক অর্পণ

একুশের প্রথম প্রহরে প্রথম ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুল মালিক, আবদুল হান্নান ও ড: জয়নাল আবেদীন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পর একে একে পুস্পস্তবক অর্পন করে বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেস ভ্যাটারান অফিসার এসোসিয়েশন (বাভোয়া), উত্তরণ, দোহার সমিতি, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অফ লস এঞ্জেলেস (বাফলা), ফ্রেন্ডস ক্লাব অব লস এঞ্জেলেস, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ক্যালিফোর্নিয়া শাখা, তরঙ্গ অব ক্যালিফোর্নিয়া,ওসমানী স্মৃতি সংসদ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অব ক্যালিফোর্নিয়া ইনক্, এম সি কলেজ ও লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ।

একুশের প্রথম প্রহরে সান ফেরন্যান্ডো ভ্যালীর স্পাইস প্লাস রেষ্টুরেন্ট ও গ্রোসারীর সামনে প্রবাসীদের ঢল।

ভ্যালীর স্পাইস প্লাস রেষ্টুরেন্ট ও গ্রোসারীর বিশাল পার্কিংলটে সুশৃঙ্খলভাবে বাংলাদেশীরা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ সুরের সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৮ পালন করে।

সিলেট এম সি কলেজ এলুমনাই ও সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোটের পুষ্পস্তবক অর্পন

মহান একুশ উদযাপন উপলক্ষে দুই পর্বের অনুষ্ঠানমালায় ছিল কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন ওস্তাদ কাজী নাজির আহমেদ হাসিব, আমিরুল ইসলাম জামান, আমজাদ হোসেন, কাবেরী রহমান, নাহিদ সিমিম, সোনিয়া খুকু ও অনেকে। সঞ্চালনায় ছিলেন শামসুন নাহার মনি ও সৈয়দ নাছির উদ্দীন জেবুল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক।

সমবেত কন্ঠে একুশের সংগীতময় প্রথম প্রহরে সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোট ও জালালাবাদ এসোসিয়েশন অফ ক্যালিফোর্নিয়ার পুষ্পস্তবক অর্পণ

একুশ মানেই বাঙালীর অহংকার, বাঙালীর চেতনা, এই অহংকার আর চেতনার মাধ্যমেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জন। এ দিনটি বাঙালি জাতির জন্য গর্বের, গৌরবের আর অহংকারের। এ দিনটির মাধ্যমেই তো আমরা পেয়েছি আমাদের মাতৃভাষার পূর্ণ মর্যাদা। বিশ্ব দরবারে আমরাই একমাত্র জাতি যারা বুকের তাজা রক্ত উৎসর্গের মাধ্যমে নিজ মাতৃভাষার অধিকার ছিনিয়ে এনেছি। যার কারণেই তো বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাঙালি জাতির জন্য একটি নির্দিষ্ট দিবস পালিত হয়।

লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ভ্যালী একুশে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ফেরদৌস খান বক্তব্য রাখছেন।

সম্মিলিত গ্রেটার লস এন্জেলেস বাসীর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক ফেরদৌস খান তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পুষ্পস্তবক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শফিউল আলম বাবু।একুশ উদযাপন কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন এম কে জামান, জসীম আশরাফী, আনোয়ার হুসেন রানা, জাহান হাসান, আব্দুল বাছিত, নজরুল আলম, বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, ফয়জু সোবহান, আলী আহমেদ ফারিস, শফিউল আলম বাবু, শাহীন রশিদ, হিল্টন আহমেদ, আমিনুর রশীদ এমরান, আবুল হাসনাত রায়হান, শাহীন হক, কাজল নূর চৌধুরী জাহাঙ্গীর, মাসুদ আলম বদরুল, আবদুল হাই প্রমুখ।

লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটির’ ব্যানারে একুশে উদযাপন:

ভ্যালী ছাড়াও লস এঞ্জেলেসের শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টারে ‘লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটির’ ব্যানারে উদযাপন করা হয় সম্মিলিত একুশ। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। আলোচনা, সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটির স্মরণে কবিতা পাঠ করেন সাজেদ চৌধুরী ম্যাকলিন, ফিরোজ আলম,কামরান আহমেদ, এম হোসেন বাবু, কাজী মাশরুল হুদা, ফারাহ সাঈদ , আনুশে আলম ও প্রভাতি দেবী। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন সোনিয়া বড়ুয়া ও কাবেরী রহমান।

লস এঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে ভাষা সৈনিক ড: মোহাম্মদ সিরাজুল্লাহকে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের প্রেক্ষিতে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হয়।

‘একুশ সার্বজণীন ও একুশ ধর্মনিরপেক্ষ’ ব্যানারে হলিউডের চার্চ অব সাইন্টোলজীর অডিটোরিয়ামে উদযাপিত হয় ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামীলীগের অমর একুশে। এতে অংশ নেয় ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট যুব লীগ, সিটি যুব লীগ, ভ্যালী যুব লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট মহিলা আওয়ামী লীগ, এডাপ্ট এ হাইওয়ে, বেঙ্গলী আমেরিকান হিন্দু সোসাইটিসহ বেশ কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

লস এঞ্জেলেসের কন্সাল জেনারেলের প্রতি প্রবাসীদের ক্ষোভ:

একুশের প্রথম প্রহরে পুষ্পদানের ঐতিহ্যগত অবস্থান থেকে দূরে সরে আসছে স্থানীয় কনসুলেট। আমন্ত্রন সত্বেও লস এঞ্জেলেস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটের কোন সদস্যদের ভ্যালীর বিশাল আয়োজনে যোগদান করতে দেখা যায় নাই, এতে কমিউনিটিতে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বানী এবং দেশমাতৃকার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের দৃঢ়প্রত্যয়ের ভূমিকা প্রবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে দেবার জন্য কনসুলেটের শুন্য উদ্যোগকে কমিউনিটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক দলের নেতৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়েছে। কনসুলেটের সীমিত পরিসরের অনুষ্ঠানমালায় সাধারণ প্রবাসীদের সংযুক্তি খুবই কম। মুখচেনা কতিপয় আমন্ত্রিত প্রবাসীদের নিয়েই সাধারণত: কনসুলেটে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলি পালিত হয় যেখানে আওয়ামীলীগপন্থী দের মাঝে অনুষ্ঠান নিয়ে কোন্দল নিয়মিত একটি আচারে পরিণত হয়েছে। সাধারণ প্রবাসীরা সেখানে প্রচণ্ডভাবে অবহেলিত। প্রবাসীদের আয়োজনে জাতীয় দিবসের কোন অনুষ্ঠান মালায় অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কথা না ভেবে সাধারণ প্রবাসীদের কথা ভাবা উচিৎ ছিলো বলে লস এঞ্জেলেসের তিনটি একুশের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন।