মার্কিন নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী

মার্কিন নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী

চলতি বছরের নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। তার আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মঙ্গলবার প্রাইমারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী রয়েছে। যে কারণে এবারের নির্বাচন নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

মঙ্গলবার মিশিগানে ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল ইল-সাঈদ যদি অঘটন ঘটাতে পারেন তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম গভর্নর হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবেন তিনি।

কিন্তু ৩৩ বছর বয়সী ইল-সাঈদের জন্য এই পথটা খুব একটা মসৃণ হবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি করপোরেট অর্থ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ভারমন্টের সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স এবং গেল জুনে নিউ ইয়র্কে প্রাইমারি জয়ী ডেমোক্রেট অ্যালেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোরটেজ তার নির্বাচনী প্রচারণায় হাজির হয়ে তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

তবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ইল-সাঈদের সামনে আরও কঠিন ও দীর্ঘ পথ রয়েছে। মতামত জরিপে দেখা গেছে, ইল-সাঈদের চেয়ে বেশ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন রাজ্য সিনেটের সাবেক ডেমোক্রেট নেতা গ্রেটচেন হুইটমার। তবে ইল-সাঈদের সমর্থকরা অবিশ্বাস্য কিছুই আশা করছেন। যেমনটা ঘটেছিল ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাইমারিতে। তখন হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে দেয় বার্নি স্যান্ডার্স।

আর যদিওবা হুইটমার হারিয়েও দেন ইল-সাঈদ, তারপরও তাকে এই অঙ্গরাজ্যে জিততে বেশ বেগ পেতে হবে। কারণ ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যে জয় তুলে নিয়েছেন তৎকালীন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে ৩৪ লাখ মুসলমানের মধ্যে এবার রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নাগরিক অংশগ্রহণ নিয়ে কাজ এমন একটি সংস্থা জেটপ্যাক জানাচ্ছে, এ বছর স্থানীয়, রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ৯০ জনের বেশি মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের বেশিরভাগই অবশ্য ডেমোক্রেট দল থেকে লড়াই করছেন। জেটপ্যাক জানাচ্ছে, ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার পর চলতি বছরই এই সংখ্যাটা এতো বেশি।

মিশিগানেরই আরেকজন মুসলিম প্রার্থী রাশিদা তালিব। তিনি অবশ্য কংগ্রেসের জন্য লড়াই করছেন। তিনি যদি মঙ্গলবারের প্রাইমারি বিজয়ী হন তাহলে একইসঙ্গে দুটি ঐতিহাসিক প্রথম ঘটনা ঘটবে- একটি হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ে তিনিই প্রথম নির্বাচিত মুসলিম নারী হবেন। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে তিনিই হবেন প্রথম আরব-আমেরিকান মুসলিম নারী। এর আগে কংগ্রেসে দুজন মুসলিম পুরুষ নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা দুজনই আবার আফ্রিকান-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্য।

এই ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন আরও একজন আরব বংশোদ্ভূত মার্কিনি নারী। তিনি হচ্ছেন লেবানিজ-আমেরিকান ফেরোজ সাদ। মঙ্গলবারের প্রাইমারিতে বিজয়ী হলে তিনিও কংগ্রেসের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবেন।

কিন্তু কেন এতো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন?
ধর্ম, পারিবারিক জীবন ও মার্কিন রাজনীতি নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় লেখালেখি করেন ওয়াজাহাত আলি। তিনি বলেন, ৯/১১-এর পর মুসলিম আমেরিকান এবং কমিউনিটির অন্যান্যরা সংস্কৃতি থেকে রাজনীতিসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে যে মুসলিমবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি মুসলমানরা রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স জানিয়েছে, ২০১৭ সালে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তিনশটি হেইট ক্রাইমের রিপোর্ট পেয়েছে তারা। যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।

ওয়াজাহাত আলি বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াইয়ের একটি পথ হচ্ছে শুধু মুসলিমদের নয় বরং মার্কিন মূল্যবোধ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করা।

তেমনই একজন হচ্ছেন অ্যারিজোনা থেকে ডেমোক্রেট দল থেকে মার্কিন সিনেট পদপ্রার্থী দিদরা আব্বুদ। এই মুসলিম নারী ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত হন।
আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মী আব্বুদ বলেন, অন্যান্য অভিবাসী গ্রুপগুলোর মতো মুসলিম আমেরিকানরাও ১৫ বছর আগে রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে খুব একটা নিশ্চিত ছিল না। কিন্তু ৯/১১-এর ইসলামোফোবিয়ার ঢেউয়ে অনেককেই মাথা নিচু করে রাখতে হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর মুসলিম আমেরিকানরা যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল সেটি ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার খুব বেশি না।

কিন্তু মূলধারার রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো হলেও হয়রানি বন্ধ হতে হয়তো আরও কয়েক বছর লেগে যাবে।