আমার প্রবাস আমার ভাষা আমার বিকাশ

আমার প্রবাস আমার ভাষা আমার বিকাশ — ফেরদৌস সাজেদীন

এক: নতুন নতুন জাগরণের আয়োজন ও প্রতিশ্রæতি পৃথিবী জুড়ে, আমি সেই জাগরণের শব্দ শুনছি। এত এত বিশাল প্রাপ্তিযোগ বিশ্বময়, নতুন প্রজন্ম এনে দিচ্ছে অভাবনীয় সব নিত্যনতুন ফসল, এত কর্মযোগ, জীবনের এত জয়গান, এত স্বাধীনতার সুবাতাস, জীবন এত ধাবমান, গতির এত শক্তি, এক হয়ে যাওয়ার এত আকুতি ও কৌশল, আমি এই অনুভব ধারণ করে কেবলই শিহরিত হচ্ছি।
সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের একদল মানুষ, নতুন পৃথিবীর খোঁজে অচেনা, অজানা পৃথিবীর, দূরের একটি মহাদেশে এসে, একদিন এরকম করেই শিহরিত হয়েছিল, জীবন-উদ্ভাসের লীলায়িত সব আয়োজন প্রত্যক্ষ করে। তখন তাদের বয়স ছিল পাশে, আর সেকারণেই ছিল সেই দলটির বুকভরা সাহস। অস্থির, চঞ্চল আর খ্যাপা। তারও বেশি ছিল জীবনআশ্রিত অতল বিশ্বাস।

তারা ছিল উন্মূল , কিন্তু স্বভাবে নয়। একলা, কিন্তু হৃদয়াবেগে নয়। বৈরী পরিবেশ কিন্তু আলিঙ্গনে নয়। নয় বলেই, সার্বিকভাবেই সর্বহারা হয়েও, সব পাওয়ার দেশে এসে, দলটি স্বপ্ন দেখার কৌশল ও আগ্রহটি কখনো হারিয়ে ফেলেনি। কর্মযোগ উত্থিত জীবন বন্দনা, তাই, দিনে দিনে একটি পরিপূর্ণ ঊষাগামী সঙ্গীত রচনা করতে সক্ষম থেকেছে। বিলাতের প্লিমাউথ থেকে আমেরিকায় আসা, প্রায় ৫০০ বছর আগে, পিলগ্রিমদের মতই এই দলটি আজ বাংলাদেশি অভিবাসী দল, বিকশিত এই মহাদেশের উত্তর অঞ্চলে নানা শাখায়, প্রগতির, প্রযুক্তির আর প্রাণ প্রবাহের সকল সমারোহে। অন্য আরও অনেক অভিবাসী দলের অনেক অনেক আগমন, স্থিতিলাভ ও সুকৃতির বহু বচন আমরা অবগত, তবুও, নিজ দলের অনুরূপ বিশিষ্টতার বিকাশলাভের কথকথায় যথার্থ কারণেই আমার পক্ষপাত রয়েছে। সেই পক্ষপাতের প্রকাশ যদি এই রচনাবক্ষে স্পর্ধিত হয়, আর তার দায়ভার বহন করার প্রয়াস যদি ঘটে, তা পাঠকক‚লের অনুমোদন পোষ্য হবে বলেই আমি বিবেচনা করি।

দুই: একুশকে নিয়ে আমাদের অতল অহংকার। এটা বলার জন্যে বলা, তা না, এটা জীবন-উদগত এক পরম সত্য উপলব্ধির উচ্চারণ। একুশ রক্তাহুতি-উত্থিত আশা, বাঙালির ভাষার এবং তার বাঁচার। সুপ্রাচীনকাল থেকে রাঢ় সুবাসিত, চর্যাপদ স্নাত ও আদ্রিত বাংলা, যে বাংলা কখনই তার যৌবন হারাবে না বলে একুশের জন্মক্ষণে সকলের জন্যে চিরদিনের হল, উদ্দীপ্ত, স্থিতির স্বপ্ন-সহায়ক হল, একুশ আজও সেই একুশ। আমাদের জাতীয় সত্ত¡া, স্বভাব ও সংস্কৃতি স্পর্শিত সচলায়তনে একুশ একক, অ¤øান ও অদ্বিতীয়। একুশকে নিয়ে কোন অনৈক্য নেই। একুশকে আমরা দলে দলে ভালবাসি। একুশের বিজয়াগমনে যে সঙ্গীত রচিত হয়েছিল এবং সুরারোপিত হয়েছিল, আজকের শিশুর কণ্ঠে তা এখনো তুলে দেয় তার মা। একুশের জন্যেই আজও মাকে ‘মা’ ডাকতে পারি, একুশের জন্যেই জীবন, মরণ, ভালোবাসা, বিরহ, অভিমান, অনুরাগ, বিরাগ, শত্রæ মিত্র, কাছের-দূরের, আকাশ, বাতাস, পরিবার-পরিজনে ‘আমি’ ‘আমি’ সকল সময় ‘আমরা’ হয়ে দলে দলে বা একা একা অর্পিত হতে পারি। নীড়ে যেমন পাখি ফেরে দিন শেষে, আমরাও ফিরে আসি একুশেই, ফিরে ফিরে সকল অলিগলি হেঁটে হেঁটে। কী দেশে, কী বিদেশে। পৃথিবীজুড়ে সকল বাংলাদেশি অভিবাসীর প্রাত্যহিকতায়, বারে বারে। ফিরে আসি বা আসতে পারি, কেননা, এইখানে একুশের কোন বিকল্প নেই। আমাদের নানা কর্মযোগে একুশ ছাড়া সবাই অসহায়। আমরা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ব্যবহার করতে পারি, কিন্তু অন্তরে বাইরে ‘বাংলা’ অবিরল নির্মল, আহ্লাদস্নাত, চিরকামনার ও দিবস রজনী পোষ্য। একুশের জঠর উদ্গত বাংলা মায়ের ভাষা-‘মা’, ‘মাগো’ কী মিষ্টি এই উচ্চারণ। এই উচারণ অনতিক্রম্য এক হৃদয়াবেগের খরস্রোতা ধারায় আমাদের জীবনে প্রবহমান, কী দেশে কী বিদেশে। একুশের এই সুষমাকে আমরা সবাই ক্লান্তিহীন তুলে ধরতে ব্যাকুল হই, এই তুলে ধরাতেই আমাদের বাঁচা, আশা ও সম্ভ্রম। পৃথিবীর সর্বত্র যত মানুষের মুখে বাংলা ফুটে, তাদের কাছে, একুশ আসছে মানেই প্রভাত ফেরীর শিশিরের স্পর্শ খালি পায়ে, একুশ আসছে মানেই শহিদ মিনারের মুর‌্যাল, একুশ আসছে মানেই জীবনের জয়গান যুগে যুগে। কী দেশে, কী প্রবাসে, দেশে দেশে। একুশের ‘বাংলা’ আমরা শুধু মুখে উচ্চারণই করিনা, এই ‘বাংলা’ আমাদের বাঁচার আশ, আর তাই, এই ভাষা আমরা সর্বদা বহন করি।

তিন: একথা সত্যি যে, স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরপর বিশেষ বিশেষ কিছু পেশার লোকজন এদেশে আসার সুযোগ পেলেও, এর বহু আগে থেকেই উত্তর আমেরিকায় বদ্বীপ উদ্গত বঙ্গসন্তানদের বিচ্ছিন্নভাবে আগমন ঘটেছে। এই বিচ্ছিন্ন আগমন, শিক্ষার জন্যে, সফরের জন্যে বা কর্মযোগের জন্যে, যে কারণেই হোক, সর্বদাই বিচ্ছিন্ন বসতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এই সংখ্যার দীনতায় বিদ্ধ মানুষ, একটা বিলীনতার বিষাদ ও বিপন্নময়তার জগতে, নিজ নিজ ক্ষেত্রে, শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেও, সমষ্টিগতভাবে কখনোই একটি অভিবাসীর দল হিসেবে নিজেদেরকে অনুভব করতে সক্ষম হয়নি। তবুও বাংলাদেশি-আমেরিকান বা প্রবাসী বাংলাদেশি এই হাইফেনেটেড জাতি হিসেবে আমরা নিজেদেরকে দলবদ্ধ করার সুস্পষ্ট অভিজ্ঞ্যান ধারণ করি, আর আমার অনুমান এই যে, এই দলটির নাবিক হিসেবে, ইতিহাস সেই বিচ্ছিন্ন নিঃসঙ্গ দেশত্যাগী মানুষদেরকেই প্রশ্নাতীতভাবে আখ্যায়িত করবে। সেই নাবিকের দল একদা কূলের সন্ধান পেয়েছিল বলেই, আজ বঙ্গসন্তানেরা এখানে কূলে কূলে পুরোহিত হয়ে উঠেছে।

মূলত গত শতাব্দীর আশির শেষ থেকে আজ অবধি নানাবিধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের মানুষ আমাদের শহরে তথা উত্তর আমেরিকায় জড়ো হয়েছে। আমরা, বাংলাদেশিরা, এখন দ্রæত উঠতি একটি অভিবাসীর দল, বিরাট বিরাট হৈ চৈ ফেলে দেবার ক্ষমতা ধারণ করার সকল লক্ষণ ও অভিপ্রায় নিয়ে জেগে উঠার সিঁড়িতে পা দেব বলে আয়োজন সম্পন্ন করছি।

একজন মানুষ যখন দেশত্যাগী হয়, সেই ত্যাগে দৃশ্যত দেশ দেহ হারালেও, দেহ কখনোই দেশ ছাড়া হয় না, কেননা, সেই দেহের মনটি, যাত্রা যত দূরের হয়, ততই জড়িয়ে জড়িয়ে ধরে দেশের সমস্ত সুষমা। পৃথিবীর সমস্ত জাতির পারাপারের পরতে পরতে আমরা প্রত্যক্ষ করি এই একই হৃদয়াবেগের ধারা। সেই ধারাপথের বাঁকে বাঁকে একটু একটু করে উঁকি দেয় আলোর মতো হারানো সব প্রাণের খুঁটিনাটি জিনিশ, ঘটে আপন আপন রুচি ও অভ্যাসের বিনিময়, নতুন জীবনের আস্তানায় জন্ম নেয় আমাদের ডায়াস্পরা।

জন্ম নেয়, তাই, সকল শ্রমের সঙ্গে শরিক হয়ে, আপাদমস্তক গলদঘর্ম-দিবস-রজনী দিনের পর দিন রচনা করেও, ফেলে আসা সকল সুষমা আবেশ ছড়ায় তার ভিন্ন সংস্কৃতি-আবেষ্টিত যাপিত জীবনে। যে মানুষ একুশের সকল অলি গলিতে পা ফেলে, ঊনসত্তুরের গণআন্দোলনের অগ্নিতে অনির্বার আহরণ করেছে স্বতন্ত্র অস্তিত্বের উৎক্ষেপ, যার ফলশ্রæতিতে প্রাপ্ত হয়েছে একটি মুক্তিযুদ্ধ দেশের স্বাধীনতার জন্যে, এই একুশ, এই গণ আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাই হয়ে উঠেছে তার ডায়াস্পরার নির্যাস। ফেলে আসা দেশের এইসব মহান প্রাপ্তিযোগ বীজ বপন করে একটি সতেজ ও সবল বৃক্ষের, যে বৃক্ষতলের ছায়ায় বসে সেই মানুষ যত পায় দেশকে, ততই তার শেকড় প্রবেশ করে বিদেশভূমির গভীরে, তার জীবন-আস্বাদের ঠিকানার শাখা-প্রশাখায়। আজকের বাংলাদেশি অভিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহের দিকে দৃকপাত করলেই তার প্রমাণ মেলে।
আমাদের, এই চারযুগের মধ্যেই, প্রাপ্তিযোগ ঘটেছে অপ্রত্যাশিতভাবে অনেক। গানের মেলা, নাচের মুদ্রা, আজ আর কোনভাবেই হেলাফেলায় পরিবেশিত হয় না। এখন রয়েছে গানের স্কুল, নাচের স্কুল, নাটকের দল, কবির দল, ছবির মানুষ, রাজনীতির মানুষ, সমিতির মানুষ, সভার মানুষ, ব্যবসার মানুষ, লেখার মানুষ, লিখিয়ে নেয়ার মানুষ। আছে ডাক্তার, আছে ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, ফার্মাসিস্ট, জার্নালিস্ট, আইনজীবী, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, আরও আরও। আছে মানবসেবা নিয়ে দরদী সব মানুষের নানারকম আয়োজন। কত কত বিচিত্রসব বিপণী। হচ্ছে টেলিভিশন, একটি নয়, অনেকক’টি। হচ্ছে বই প্রকাশ, একটি নয়, অনেক ক’টি। বসছে, লেখকদের আড্ডা, কবিরা কবিতা পঅঅঅড়ছেন সমবেত হয়ে একই সামিয়ানার নিচে মাসের পর মাস। আর হয়েছে ‘প্রবাসী’র পথ ধরে ‘ঠিকানা’র সফল প্রয়াস, যার ফলশ্রæতিতে আজ ডজনেরও বেশি সাপ্তাহিক খবরের কাগজ। আমরা যে দিনে দিনে স্ফীত হচ্ছি আমাদের ভাষা আর সংস্কৃতি নিয়ে, এইসব খবর সংবাদ মাধ্যমে আমারা প্রতিদিন পাই।
আর কয়টা অভিবাসীর দল আমাদের এই প্রিয় শহরে তথা সারা আমেরিকায় মাত্র চার যুগ সময়ের মধ্যে, এতসব ‘আছে’ ‘আছে’ নিয়ে হৈ চৈ করার ক্ষমতা ধারণ করে, তা আমার জানা নেই। জানা না থাকলেও, অনুমান করি, আমাদের অভিবাসী দলটির সমূহ অর্জনের সঙ্গে তুল্য করে নিতে পারি এমন অভিবাসীর দল আর খুব একটা নেই। নেই তা নয়, আছে, আরও অনেক অর্জন নিয়েই আছে, কথা হচ্ছে, এত দ্রæত এত বেশি? না, এই সমীকরণ কটি সমিল রচনা করে না খুব একটা, এই অনুভব করি।

আমাদের চরিত্র বৈপরীত্যে ভরা জানি। মোটা দাগের সেই বৈপরীত্য, এও মানি, কিন্তু এতসবের মধ্যেও বদ্বীপ উদ্গত সন্তানের দল, চার যুগ পরে, অভিজ্ঞতার উজ্জ্বল উদ্ধারের মধ্যে একটি চিত্র অতিসহজেই চিনে নিতে সক্ষম হয় যে, সারাজীবনের শ্রম তাদের বৃথা যায়নি। তাদের প্রজন্মের দল আজ জীবনের যে জয়গান গাইছে এদেশের প্রায় সকল কাজকর্মের শাখা প্রশাখার ছত্রছায়ায়, তার উপাখ্যান উত্থাপিত করি সেই ভাষা ও শক্তি আমার কোথায়? না নেই। এতো সুকৃতির খবর তৈরি হচ্ছে রোজ রোজ যে, গর্বে আমাদের বুক ভরে যায়।
আমাদের বাহন, জীবনযুদ্ধে, আমাদের ভাষা। ভাষার শক্তির উপর একটি জাতির বা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিন সমৃদ্ধি নির্ভর করে। আমাদের প্রজন্ম, আজ, এদেশের মূলস্রোতের চালিকা শক্তির অংশীদারিত্বে যে ভূমিকা রাখছে তা নিঃসন্দেহে গৌরবের ও অভিনন্দনযোগ্য। তারা আজ কোথায় নেই? সর্বত্র তাদের বিচরণ। এই যে তাদের এগিয়ে থাকা, তার পেছনে রয়েছে মূলত, তার বেড়ে-উঠার-পথে অনন্য এক সংস্কৃতির সুবিশাল সহানুভ‚তি। এদেশে পাওয়া তার নিত্যদিনের মুখের ভাষা যে তার মায়ের ভাষার রাঙতা দিয়ে মোড়া, আর, এর শক্তি যে অযুত, সে অনুভব করুক না করুক, দুই ভাষার মিলনে সে হয়ে উঠছে শ্রমজয়ী, অনলস হয়ে উঠছে তার স্ববববববপ্নের মিছিল, নতুন নতুন আবিষ্কারে, সেবার কৌশলে, মানবকল্যাণের বিরামহীন কর্মযজ্ঞে ভালবাসার নিষ্ঠায়, জীবনের ছোট বড় সকল গৌরবগাথার জয়ধ্বনি সহযোগে, সে সম্পন্ন করছে সকল আয়োজন, বিশ্বমানবক‚লের স্পর্শে স্নাত হবে বলে।

আর আমরা যারা আমাদের উত্তরাধিকারদের এই সাফল্যে স্বস্তিপ্রাপ্ত হচ্ছি, তারাও অনুভব করে নিতে পারি, আমরাও আজ আর একা একা দৌড়ে যাচ্ছি না। আমাদের জীবন যাপনের পথে পাশাপাশি দেখি এদেশের অন্য অন্য অভিবাসীও পথিক হয়ে ডায়াস্পরার সম্মিলন-যাত্রাকে সচল ও সুন্দর করে তুলছে। আমরা মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন নই, বরং, আমাদের যা কিছু অনুসঙ্গ জীবনের, তার সবই হয়ে উঠছে এদেশেরই অনুসঙ্গ, আমরাও অন্যান্য হাইফেনেটেড জাতির মত আজ নিজ সংস্কৃতির সুষমায় বসতি গড়ছি। এদেশের সংস্কৃতিতে আমাদের এই জীবন যাপনের রূপরেখা ধীরে ধীরে তার উদ্ভাস রচনা করছে, আমি সর্বান্তকরণেই তা বিশ্বাস করি।
শুরুতে বলেছি, পৃথিবী জাগছে জাগরণের আয়োজনে। আমি বিশ্বাস করি, যুদ্ধ ও দেশে দেশে মনকষাকষির এই দুঃসময়ের মধ্যেই এই জাগরণের কাজ চলছে। সেই অনুভবের পথ ধরেই, যখন আমাদের অভিবাসী দলটির দিকে ফিরে তাকাই, পৃথিবীর জাগরণের আয়োজনের সঙ্গে এই অভিবাসীর জাগরণের একটি অঙ্গাঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে, অনুভবের উপর এই বোধটিকে শিহরিত হতে দেখি। আমি জানি, নিশ্চিত করেই জানি, উন্মূল হয়েও, একটা ঠিকানার সমস্ত ভিত্তিমূলে আমাদের জীবনের আনন্দ, দুঃখ, ভালোবাসা ও বিরহবেদনা মিলেমিশে মোহরপ্রাপ্ত হচ্ছে।

এ লেখা যে কাগজে পত্রস্থ হল, এই ‘ঠিকানা’র মধ্যেও আমরা দেখি সেই মোহরপ্রাপ্তি। আমরা ভাল-মন্দ নিয়ে যে জীবন বন্দনা রচনা করছি, কেবল আমাদের আচার আচরণই আমাদের বেলাশেষের প্রাপ্তি নয়, আমরা বাংলাদেশিরা নতজানু-না-হতে-জানা জাতি প্রজ্বলিত হবার জন্যে কাঙাল হই বারবার সময়ের ডাকে। এই জাতি জেগে থাকার জাতি, এই জাতি জীবনে জীবন ঘসে বাঁচার জাতি।
ভালো থাকুন, উৎফুল্ল থাকুন।
লং আইল্যান্ড।