সড়ক নিরাপদ রাখার দায়িত্ব কার?

0
32

সড়ক নিরাপদ রাখার দায়িত্ব কার?

মীর আব্দুল আলীম

কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, আর হবেও না। আমাদের সড়ক অনিরাপদই থেকে যাবে। আমরা ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আর নিরাপদে বাড়ি ফিরার আশা করতে পারি না। নিজেদের মসনদ পাকাপোক্ত করতে আন্দোলন, সভা সেমিনার হয়। মসনদ লাভের আশায় জ্বালাও পোড়াও, মানুষ খুন হয়; আমাদের সড়ক নিরাপদ হয় না। আমাদের প্রাণহানিতে সড়ক নিয়ে কেউ ভাবে না, কেউ কথা বলে না। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারিগণ বেতন ভাতা বাড়ানো ও নিজেদের সুখ শান্তির জন্য দিনের পর দিন অনশন করেন। অথচ একজনও নিরাপদ সড়কের জন্য কথা বলেন না। শিক্ষক, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, উকিল, নার্স সবাই নিজেদের লাভের খোঁজে রাস্তায় নানা কিসিমের আন্দোলন করেন, কেউ নিরাপদ সড়কের জন্য টু শব্দটি করেন না। মন্ত্রী আমলাগণ সারা দিনই নানা ইস্যুতে মিষ্টি মিষ্টি লোক ভুলানো, মনজুড়ানো কথা বলেন। অথচ নিরাপদ সড়কের ব্যাপারে তাদের মুখে কুলুপ আঁটা থাকে। উল্টো সড়কে আমাদের সন্তানদের পিষ্ট করলে শাহজাহান খান মার্কা হৃদয়ে চোঁট লাগার মতো কথা বলেন। অফসোস, কেউ নিরাপদ সড়ক নিয়ে কথা বলেন না। তাই আমাদের সড়ক মহাসড়ক অনিরাপদই থেকে যাচ্ছে। আমাদের সড়কগুলো দানবীয় রূপে আবির্ভূত হচ্ছে। প্রতিদিন সড়কে ১০/১২ জন করে মানুষ মরছে। এটা কি সহজ কথা! এটা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু নয়, এটা হত্যা। এদেশে খুনখারাপি, দাঙ্গা-হাঙ্গায়, গুম-খুনে যত মানুষ মরে, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মারা যায় গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে। কি করছি আমরা, কি করছে সংশ্লিষ্টরা, আর সরকারই বা কি করছে?

আমাদের নিরাপদ রাখার কোন দায়িত্ব কি সরকারের নেই? আসলে সড়কের ব্যাপারে কেউ তেমন ভাবে না। এরশাদ সরকার, খালেদার সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার সড়ক নিরাপদ করতে কে কি করেছেন? আপনারা কি খুঁজে পান জানি না। তাঁদের সকলের কর্মের খাতা শূন্যই রয়ে গেছে। তাঁরা কিছু একটা যদি করতেন বা করেন, তা হলে আমাদের সড়ক এত অনিরাপদ কেন? দেশে নতুন নতুন সড়ক হচ্ছে, যমুনায় সেতু হয়েছে, স্বপ্নের পদ্মাসেতু হচ্ছে, উন্নত বিশ্বের আদলে ফ্লাইওভার হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে সুন্দর লেক হয়েছে, ফোয়ারা হয়েছে, উন্নত বিশ্বের মতো মেট্রো রেলও হওয়ার পথে। নিরাপদ সড়কের কি হবে? কিছুই হবে না। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। এত মানুষ প্রতিদিন মারা যাচ্ছে, অথচ সরকারের টনক নড়ছে না। সরকারের মন্ত্রী আমলারা নির্দয় ও নিষ্ঠুর আচরণ করছেন। স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার কোমল মতি শিশুরা রাস্তায় পিষ্ট হচ্ছে, ওদের কচি মাংস থেতলে, পিষ্টে সড়কে এবড়ো দেবড়ো যাচ্ছে, তাদের শরীরের টকবগে রক্ত পিচ ঢালা কালো রাস্তা রঞ্জিত করছে। অথচ শাসকদলের হৃদয় বলে কি কিছু নেই? তারাই কি এতই নিষ্ঠুর? শাসকদের ভাবনা কেন কম তা জানি। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা সড়কে চলতে গেলে পুলিশ র্যাব সবাই তাদের জন্য সড়ক নিরাপদ করে রাখে। তাদের মার্কাওয়ালা গাড়ি দেখলে দানবীয় ড্রাইভাররাও ভয় পায়। এ জন্যই কি তারা নির্ভয়ে আছেন? এ জন্যই কি তারা ঘাপটি মেরে সাধারণ মানুষের লাশ দেখে মজা পান ? সরকার এবং রাষ্ট্র প্রধানদের চিন্তা করা উচিত যে এভাবে দেশ চলেনা কিংবা দেশ চালানো যায়না। তাই বলছি: সরকার এবং রাষ্ট্র প্রধান- দয়া করে দেশের মানুষের কথা একটু ভাবুন। মানব রক্ত, কচি শিশুর থেতলে যাওয়া মাংস ইউটিউব ফেসবুকে দেখুন। তাতে দিলমন নরম হয় কি না। আপনারা সরকারে আছেন তাতে কি? দেশে এখন প্রতিবাদ করতে রাস্তায় মানুষ নামে না তাতে কি? সবাইতো এক? সব বিড়ালেরইতো এক রা। তাই এখন জনগণ প্রতিবাদ করে কম। যারাই মসনদে যাবে তারা সবার রূপই এমন হবে, জেনে গেছে জনগণ। জনগণ তা ভালই বোঝে। তাই দেশে আন্দোলন সংগ্রাম কম হয়। আগের মতো জনগণ আর দৌড়ে রাস্তায় নামে না। আন্দোলন হলে তো ব্যবসা বাণিজ্য হয় না। গরিবের রুটি রুজি হয় না। তাই জনগণ ভাবে যে ভাবে চলছে সেভাবেই চলুক, মন্দ কি? একটা গণ-আন্দোলন কিন্তু খুব দরকার। সড়ক নিরাপদ করতে চাই একটা গণ-আন্দোলন। সবাই সে আন্দোলনে সামিল হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, এরশাদ, মন্ত্রী, আমলা, লিখক, সাংবাদিক, উকিল, নাজির, উজির সকলেই রাস্তায় নেমে আসুন নিরাপদ সড়কের দাবিতে। আমরা কজন মাঝে মাঝে চেঁচামেচি করি। ইলিয়াস কাঞ্চন কোন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে রাস্তায় নামেন তাতে কি হয়। নাথিং। ভোগাস সব। সবাই মাঠে নামুন নিরাপদ সড়কের দাবিতে। রাষ্ট্র সড়ক নিরাপদ করতে ব্যবস্থা নিক।

সড়ক দুর্ঘটনা যেন অলঙ্ঘনীয় ব্যাপার; মৃত্যুদূত ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার মতো। ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঘরে ফেরা যাবে কি- এমন সংশয় বরাবরই থেকে যায়। এ প্রশ্নের ইতিবাচক জবাব পাওয়াও কঠিন বাংলাদেশে। তাই প্রতিদিন গণমাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি সড়ক দুর্ঘটনার অসংখ্য বীভৎস ছবি, দেখতে পাই স্বজন হারানোদের আহাজারি। আমাদের সড়ক যেন এখন মরণফাঁদ। এমন কোন দিন নেই, যেদিন অকালে প্রাণ ঝরছে না, প্রিয়জন হারানোর বেদনায় বাতাস ভারি হয়ে উঠছে না। দেশে যেভাবে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে তাতে, নিরাপদ সড়ক বলে আর কিছু নেই। প্রতিদিন এমন হত্যাকান্ড ঘটলেও সংশ্লিষ্টদের কাছে এটি গা-সওয়া হয়ে গেছে। সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে নেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তাই বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার নামে ধারাবাহিক হত্যাকান্ড চলছে। এ অবস্থায় আজকাল আর কেউ ঘর থেকে বের হলে পৈত্রিক প্রাণটা নিয়ে ফের ঘরে ফিরতে পারবেন কিনা সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না।

বাংলাদেশ এখন রীতিমত খুনীদের দেশ। সড়ক দুর্ঘটনা প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট কারণ। তাহলে এমন মৃত্যুকে আমরা কেন খুন বলবো না? সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা পরোক্ষভাবে হত্যারই শিকার হন। কিন্তু হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জনকাক্ষিত উদ্যোগ নেই বাংলাদেশে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা না কমে জ্যামিতিক হারেই বেড়ে চলেছে। এমন কোনো দিন নেই, যে দিন সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে না। বিগত এরশাদ সরকারের আমলে সড়ক দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে সরকার দুর্ঘটনা সংঘটনকারী গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করেন। চালকের দায়িত্বে অবহেলার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু ঘটলে চালককে নরহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করার বিধান রাখা হয়। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে পরে তা রহিত করতে বাধ্য হয় সরকার। এরপর থেকে বিভিন্ন সরকারকে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি দাওয়ার কাছে প্রায় জিম্মি থাকতে দেখা যাচ্ছে। এভাবে দুর্ঘটনা সংঘটনকারী চালকদের শাস্তি না হওয়া, ট্রাফিক আইন লংঘন, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক কর্তৃক গাড়ি চালানো, আনফিট গাড়ি রাস্তায় চালানো, সড়ক যোগাযোগে অব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কারণে ইদানিং সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্ঘটনার সাথে জড়িত চালকদের বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে আসার ঘটনা বাংলাদেশে বিরল। দেখা গেছে, প্রায় সব ক’টি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই চালকরা পার পেয়ে গেছে। কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি তাদের বিরুদ্ধে। উৎকোচ কিংবা অর্থ ভাগাভাগির মধ্যে দিয়েই সমাপ্তি ঘটেছে এসব ঘটনার।

সরকারি হিসাবে গত ১০ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেছে ৩৪ হাজার ৯১৮ জন। প্রতি বছর মারা যায় ৩ হাজার ৪৯১ জন। থানায় মামলা হয়েছে এমন দুর্ঘটনার হিসাব নিয়ে পুলিশ এ তথ্য দিয়েছে। বেসরকারি হিসাবে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে ২০ হাজার ৩৪ জন। প্রতিদিন গড়ে মারা যায় প্রায় ৫৫ জন। পুলিশের দেয় তথ্য ও বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান থাকার কারণ হল, দুর্ঘটনার পর পুলিশকে ৬৭ ধরনের প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। এ ঝামেলার কারণে অনেক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ রেকর্ডভুক্ত করে না। যাহোক, পুলিশের দেয় তথ্যানুযায়ী ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে প্রায় ২ হাজার ১৪০ জন। মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে ১ হাজার ১৮৬ এবং সামান্য আহত হয়েছে ১৫৭ জন। অন্য একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭২ হাজার ৭৪৮টি। মারা গেছে ৫২ হাজার ৬৮৪ জন। আহত ও পঙ্গু হয়েছে আরো কয়েক হাজার মানুষ। ২০০৯ সালের এক আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায় এশিয়া, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার ১৫টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নেপালে বেশি, দ্বিতীয় বাংলাদেশ। সবচেয়ে কম যুক্তরাজ্যে। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার নিবন্ধিত যানবাহনের দুর্ঘটনায় নেপালে মারা যায় ৬৩ জন এবং বাংলাদেশে ৬০ জন। যুক্তরাজ্যে এ হার মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ। সে গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রায় ৩২ শতাংশ ১৬ থেকে ৩২ বছর বয়সের মধ্যে। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় দেশে যানবাহন দুর্ঘটনায় বছরে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং আহত ও পুঙ্গ হয়ে পরনির্ভরশীল জীবন কাটাতে বাধ্য হয় এর চাইতেও অনেক বেশী মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতির সাম্প্রতিক এক গবেষণা তথ্যে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় ফি বছর ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদহানি হয়। এটি দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৯৫ শতাংশের সমান। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার উন্নত দেশসমূহের তুলনায় শতকরা ৫০ ভাগ বেশি। এক গবেষণা জরিপ হতে জানা যায়, ৪৮ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী যাত্রীবাহী বাস, ৩৭ শতাংশ দায়ী ট্রাক। এক গবেষণায় দেখা যায়, নানা কারণে দেশে প্রতি ১০ হাজার মোটরযানে ১০০টি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। উন্নত দেশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক হাজার মোটরযানে দুই দশমিক পাঁচ ভাগ থেকে তিন দশমিক পাঁচ ভাগ। অন্যদিকে আমাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার যানবাহনে ১৬৩ জন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সরকারি হিসাব মতে, ১৯৯৯ সালে ৪ হাজার ৯১৬ জন, ২০০০ সালে ৪ হাজার ৩৫৭ জন, ২০০১ সালে ৪ হাজার ৯১ জন, ২০০২ সালে ৪ হাজার ৯১৮ জন, ২০০৩ সালে ৪ হাজার ৭ ৪৯ জন, ২০০৪ সালে ৩ হাজার ৮২৮ জন, ২০০৫ সালে ৩ হাজার ৯৫৪ জন, ২০০৬ সালে ৩ হাজার ৭৯৪ জন, ২০০৭ সালে ৪ হাজার ৮৬৯ জন, ২০০৮ সালে ৪ হাজার ৪২৬ জন, ২০০৯ সালে ৪ হাজার ২৯৭ জন, ২০১০ সালে ৫ হাজার ৮০৩ জন, ২০১১ সালে ৩ হাজার ৬৮৮ জন, ২০১২ সালে ৫ হাজার ৯১১ জন, ২০১৩ সালে ৪ হাজার ৮৬৫ জন এবং ২০১৪সালে ৩ হাজার ৯৭৫ জন, ২০১৫ সালে ৮ হাজার ৬৪২ জন, ২০১৬ সালে ৭ হাজার ৪২৭ জন, ২০১৭ সালে ৮ হাজার ৬৯৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০১৮তে চলতি জুন পর্যন্ত হিসাবে বিগত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। প্রতিবছরই এভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মরছে আর তা রোধ করা যাচ্ছে না কেন? অদক্ষ ও দু নম্বরী লাইসেন্স প্রাপ্ত চালকগণই যে এসব দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী তা বলাই বাহুল্য। এর প্রতিকার কেউ করছে না।

দেশে সন্ত্রাস দমনে যদি বিশেষ র‌্যাব বাহিনী গঠন করা যায়, দুর্ঘটনা রোধে এ জাতীয় বাহিনী নয় কেন? এক হিসেবে দেখা গেছে, দেশে সন্ত্রাসীদের হাতে শতকরা ৩০ জন লোক মারা গেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ৭০ জন। ৩০ জনের জীবনসহ অপরাপর জানমাল রক্ষায় সরকারের একটি বাহিনী থাকলে শতকরা ৭০ জনের জীবনসহ অসংখ্য আহত ও ডলারে কেনা পরিবহন রক্ষায় সরকার সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাহিনী গঠন করছে না কেন? দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দুর্ঘটনা রোধে চরমভাবে ব্যর্থ সরকারকে দেশের মানুষের স্বার্থে যথাসম্ভব দ্রুত ভাবতে হবে। আমরা জেনেছি, কেবল সড়ক দুর্ঘটনায়ই দেশে গড়ে প্রতিদিন ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটছে। এ হিসেবে মাসে ৯০০ জন এবং বছরে ১০ হাজার ৮০০ জন মারা যাচ্ছে। তবে বিআরটিএ’র পরিসংখ্যানমতে, এ সংখ্যা দিনে ১৬ এবং বছরে পাঁচ হাজার ৭৬০ জন। আইন না মানাই হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ। এ ক্ষেত্রে সবাইকে আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশসহ চলমান প্রশাসন এ আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে তাদের ঢেলে সাজাতে হবে, অন্যথায় দুর্ঘটনা রোধে নতুন করে র্যাবের মতো দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ বাহিনী গঠন করতে হবে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে — ১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল, ২. মোবাইল ফোন ব্যবহার, ৩. অতিরিক্ত যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন, ৪. ট্রাফিক আইন না মানা, ৫. নিয়োজিতদের দায়িত্বে অবহেলা, ৬. চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা ও অসতর্কতা এবং ৭. অরক্ষিত রেললাইন। আর এসব কারণে প্রতিদিনই ঘটছে হতাহতের ঘটনা।

দুর্ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে, ঘটবেও। কেন তা রোধ করা যাচ্ছে না? আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় দেশে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রুখতে হবে? যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। সে মৃত্যু যদি অকাল ও আকস্মিক হয়, তবে তা মেনে নেয়া আরও কঠিন। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একের পর এক অকালমৃত্যু আমাদের শুধু প্রত্যক্ষই করতে হচ্ছে না, এ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বিভীষিকাময় ও অরাজক পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা আমাদের কারও কাছেই কাম্য নয়। আমরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহন মালিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সমন্বিত আন্তরিক, সচেতন, দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আমরা আশা করি।
সাংবাদিক।