মার্কিন দূতাবাসে ১০ বছর ধরে কাজ করছিল রুশ গুপ্তচর

মার্কিন দূতাবাসে ১০ বছর ধরে কাজ করছিল রুশ গুপ্তচর

ঠিকানা ডেস্ক : একজন সন্দেহভাজন রুশ গুপ্তচর এক দশক ধরে মস্কোর মার্কিন দূতাবাসে কাজ করছিল বলে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারলে গত বছর তাকে চুপচাপ বরখাস্ত করা হয়।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, ওই রুশ নারী গুপ্তচরকে নিয়োগ দিয়েছিল ইউএস সিক্রেট সার্ভিস। ২০১৬ সালে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট রুটিন চেকআপের সময় তাকে সন্দেহ করে। পরে তদন্তে দেখা যায় ওই নারী বিনা অনুমতিতে নিয়মিত রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির সঙ্গে বৈঠক করত। এরপর তাকে বরখাস্ত করা হয়।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি- তাদের সবাই এফএসবির সঙ্গে বৈঠক করত, কিন্তু ওই মহিলা তাদেরকে অনুচিতভাবে অনেক বেশি তথ্য দিচ্ছিল। আমরা জানতাম এটা ঘটছে। তাকে নিন্দিষ্ট একটি তথ্য দিলে সে সেটি এফএসবিকে দিচ্ছে কিনা তা যাচাই করে দেখার প্রক্রিয়াটি শুধু বাকি ছিল।’ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ইন্টারনেট ও ই-মেইল ব্যবস্থায় ঢুকতে পারতেন ওই নারী গুপ্তচর। এই ব্যবস্থায় বর্তমান ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তাদের স্ত্রীদের দৈনিক কর্মসূচি সংরক্ষিত থাকে। এর মধ্যে হিলারি ক্লিনটন সম্পর্কেও তথ্য ছিল। অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য দেখার অধিকার ওই গুপ্তচরের ছিল না বলে জানান এ মার্কিন কর্মকর্তা। রাশিয়া তাদের কূটনৈতিক মিশন থেকে ৭৫০ জন মার্কিন কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের দাবি জানানোর ঠিক আগে আগে ওই গুপ্তচরকে বহিষ্কার করার ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়। একটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানায়, ‘ওই নারীকে বরখাস্ত করে সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষা ব্যবস্থায় ফাটলের বিষয়টি চেপে যেতে চাইছিল। ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এতে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং ওই নারী আর কাউকে আরও তথ্য সরবরাহের জন্য নিযুক্ত করেছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে সিক্রেট সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোনো অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেনি। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। গত মাসে মারিয়া বুটিনা (২৯) নামের আরেক রুশ নারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকে গুপ্তচরবৃত্তি করছেন এই অভিযোগ ওঠার ঠিক পরই, মস্কো দূতাবাসের গুপ্তচরের বিষয়টি প্রকাশ পেল। সূত্রঃ ঠিকানা