ইসিকে সহায়তায় আগ্রহ দাতাদের

0
21

ইসিকে সহায়তায় আগ্রহ দাতাদের

রাজনৈতিক ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সহায়তা করতে চায় দাতারা। এর মধ্যে ইসির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য স্মার্ট ভোটকেন্দ্র তৈরি এবং ভোটারদের সচেতন করতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিসহ ছয় ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সম্প্রতি ইসির সঙ্গে ইউএনডিপির বৈঠকে এ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। এ দিকে ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান প্রকল্পে আবারও অর্থায়ন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। অন্য দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতিসংঘের মাধ্যমে আরও এক ডজন দেশ সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে সুইডেন নির্বাচনের কারিগরি সহায়তা করতে ৮ কোটি টাকা দিতে চেয়েছে। তবে এসব বিষয়ে ইসি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। জানা যায়, দশম সংসদ নির্বাচনে ইউএনডিপি ইসিকে কোনো সহযোগিতা না করলেও এবার সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ভোটারদের সচেতন করতে সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকে ইউএনডিপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচারণা চালাবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিন ১০ বার করে ছয়টি টিভিতে প্রচারণা চালাবে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র স্মার্ট করাসহ ছয় ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে এখন ইসি এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সূত্র জানায়, ইসির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ প্রচারণা ছাড়াও ছয় ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ইউএনডিপি।

প্রস্তাবগুলো হলো :
১. ভোটার রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে সহায়তা : ভোটার তালিকা প্রণয়নে ইসির যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার লাইসেন্স ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতির প্রক্রিয়া উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া। যাতে ভোটার রেজিস্ট্রেশন ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিষয়ে ইসির নিজস্ব শক্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠে। আর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফান্ড ছাড়াই এসব কার্যক্রমে সক্ষমতা অর্জনের দক্ষতা গড়ে তোলা।
২. জনসচেতনতা বাড়ানোর কৌশল : বিশেষ করে নারী ও যুবকদের মধ্যে ভোটার সংক্রান্ত শিক্ষা দেওয়া ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করা।
৩. দ্বন্দ্ব-সংঘাত প্রশমন : দ্বন্দ্ব-সংঘাত প্রশমনের আওতায় সহিংসপ্রবণ জেলাগুলোয় সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক সম্প্রীতি ও সচেতনতা সৃষ্টি করার বিষয়ে কৌশল বিনিময়। পাশাপাশি নির্বাচনি সংঘাত বন্ধ এবং আইনবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা ও মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করা। সহিংসতার খবর ইসি যাতে দ্রুত পেয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে, সেই কৌশলগত সহযোগিতা করা।
৪. অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা : জেন্ডার, জাতিগত ও সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় ইসির সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করা।
৫. প্রশিক্ষণ : নির্বাচন কর্মকর্তা এবং নির্বাচনের স্টেকহোল্ডারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
৬. ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন : ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে সব কেন্দ্রে সম্ভব না হলেও কিছু কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো।
এ দিকে ইউএনডিপির কাছ থেকে ইভিএম, উন্নতমানের এনআইডি, ভোটার সচেতনতা, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ ১০ ধরনের কারিগরি সহায়তা চেয়েছে ইসি। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে ইউএনডিপি সহযোগিতা করে আসছে। বিশেষ করে ২০০৫ সাল থেকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নানা ধরনের সহযোগিতায় তাদের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যে ১০টি কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে আগামী পাঁচ বছরে যারা ভোটার হবেন, তাদের এনআইডি দেওয়া। সেই সঙ্গে ইভিএম ভোটারদের সচেতনতার জন্য ভোটার এডুকেশন, নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য স্বয়ংক্রিয় সিল, স্মার্ট গোপন ভোটকক্ষ, স্মার্ট অমোচনীয় কালি, ট্রেনিং ম্যানুয়াল, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে। ইসি কর্মকর্তারা আরও বলেন, কোনো শর্ত দিয়ে কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা নেওয়া হবে না। সহযোগিতা নেওয়া হবে নিঃশর্তভাবে। ইউএনডিপি ছাড়াও আগামী সংসদ নির্বাচনে জাতিসংঘের মাধ্যমে এক ডজন দেশ সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে সুইডেন নির্বাচনের কারিগরি সহায়তা করতে ৮ কোটি টাকা দিতে চেয়েছে।
এ দিকে আবারও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের প্রকল্পগুলোয় অর্থায়ন করে সহায়তা করতে আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর আগে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ২০১১ সালে ইসির আইডিইএ প্রকল্পের চুক্তি হয়। তবে কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। পরে কাজ শেষ না হওয়ায় বিশ্বব্যাংক ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ায়। বর্তমানে তারা ইসির কোনো প্রকল্পে সঙ্গে নেই। আগামীতে ইসির নতুন এনআইডি প্রকল্পগুলোর সঙ্গে থাকতে আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংক।