নাগরিকদের বিভিন্ন অধিকারের দাবীতে আন্দোলনে অংশ নেয়া কোন অপরাধ হতে পারে না।

”–নাগরিকদের বিভিন্ন অধিকারের দাবীতেআন্দোলনে অংশ নেয়া কোন অপরাধ হতে পারে না।

–আন্দোলনে সমর্থন জানানো কিংবা আরেকজনকে সমর্থনের আহবান জানানোর অধিকার প্রতিটি নাগরিকের, সমর্থনকে ‘উস্কানি’ বলে অপরাধীকরণের প্রচেষ্টা সমস্যাজনক।

– সরকারের বিরোধিতা করা যে কোন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার, সরকার বিরোধিতা মানে রাষ্ট্র বিরোধিতা নয়।

–জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সমর্থনে খাদ্য কিংবা অর্থ সহায়তা দেয়া কোন ফৌজদারি অপরাধ নয়।

–জনগণের কোন একটি অংশের আন্দোলনে কোন বৈধ রাজনৈতিক দলের কর্মী/সমর্থকদের অংশ নেয়া, সে আন্দোলন সফল করতে চাওয়া কোন অপরাধ নয়।

-আন্দোলনে অংশ নেয়া ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক কিনা, তার পরিবারের কেউ রাজনীতি করে কিনা ইত্যাদি তথ্য কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

–কারো বিরুদ্ধে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে, তথ্য প্রমাণ সহ আদালতে বিচার হবে, পক্ষে বিপক্ষে শুনানির পর যদি অপরাধ প্রমাণিত হয় তাহলে আইন অনুযায়ী তার কারাদন্ড হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তথ্য প্রমাণ ছাড়া ধরে নিয়ে গিয়ে রিমান্ডের মাধ্যমে কথিত স্বীকারোক্তি আদায় কোন সভ্য দেশের আইনি প্রকৃয়া হতে পারে না।

এগুলো খুব সাধারণ গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু বাংলাদেশে আজ এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যে এইসব খুব সাধারণ ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোও নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই সংগ্রাম করতে হবে।”

অতএব নাগরিকদের ওপর এই দমনপীড়ন নির্যাতন ও মিথ্যাচার বন্ধ করুন। আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে আটক সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দিন।

Kallol Mustafa-র সাথে সম্পূর্ণ একমত: – আনু মুহাম্মদের ফেসবুকের স্ট্যাটাস থেকেঃ

‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় কিছু সংবাদকর্মী, বিশেষ করে ফটো সাংবাদিকরাও নির্মমভাবে আক্রমণের শিকার হন। এই আক্রমণকারীদের ছবি, পরিচয় জাতীয় দৈনিকগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হলেও এখনও কাউকেই আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হয়নি। শুধু তাই নয়, কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক— এই দুই আন্দোলনেই আমরা দেখছি যে, যেসব ছাত্ররা পুলিশ এবং দুর্বৃত্তদের হাতে অত্যাচারিত,আহত নিগৃহীত হয়েছে, তাদেরকেই সম্পূর্ণ বেআইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার ও নাজেহাল করা হয়েছে এবং হচ্ছে। পক্ষান্তরে, যারা এই ভয়ঙ্কর নিপীড়ন সংঘটিত করেছে, তাদের বিস্তারিত পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরেও এখনও একজনের বিরুদ্ধেও কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ধরনের নির্লজ্জ পক্ষপাতমূলক আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং গর্হিত অপরাধ। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এবং শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত এই হামলা ও নিপীড়নে আমরা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত।’