ম্যাককেইনের মৃত্যুতে বাবাকে হারাল বাংলাদেশের ব্রিজেটঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক

ম্যাককেইনের মৃত্যুতে বাবাকে হারাল বাংলাদেশের ব্রিজেট

বর্ষীয়ান মার্কিন সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জন ম্যাককেইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক জ্ঞাপন অব্যাহত থাকার মধ্যেই তার সঙ্গে থাকা বিশেষ সম্পর্ক স্মরণ করে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ম্যাককেইনকে একজন ‘সত্যিকারের আমেরিকান নায়ক’ ও ‘দেশের সেবায় নিয়োজিত এক মহান নেতা’ আখ্যা দিয়েছেন।

২০১৫ সালে ব্রিজেতের জন্মদিনে এই ছবিটি টুইটারে শেয়ার করেন ম্যাককেইন

বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা ম্যাককেইন পরিবারের বিশেষ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আলী লিখেছেন, ‘সিনেটর ম্যাককেইন ও তার পরিবারের বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা সম্পর্ক খুবই বিশেষ কারণ তার দত্তক সন্তান ব্রিজেট ম্যাককেইন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। আমরা প্রয়াত সিনেটর ম্যাককেইনকে বাংলাদেশের মহান বন্ধু হিসেবে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’

বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বিশেষ সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যপ্রয়াত সিনেটর জন ম্যাককেইন; আর এই সম্পর্কের সুতো ছিল তার দত্তক মেয়ে ব্রিজেট।

জন ম্যাককেইনের দত্তক মেয়ে ব্রিজেটকে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে

ম্যাককেইনের স্ত্রী সিনডি ম্যাককেইন প্রায় দুই যুগ আগে বাংলাদেশে এসে একটি এতিমখানা থেকে দত্তক নিয়েছিলেন একটি শিশুকে, সেই শিশুটি ম্যাককেইনের ঘরে মেয়ে হিসেবে ব্রিজেট নামে প্রতিপালিত হন।

ম্যাককেইন যখন ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তখন বাবার জন্য ভোটের প্রচারে ব্রিজেটও নেমেছিলেন।

মস্তিস্কের ক্যান্সারে ভুগে ৮১ বছর বয়সে রোববার মারা যাওয়া ম্যাককেইন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী সিনেটর। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বীর হিসেবে স্বীকৃত ম্যাককেইন তিন দশকের বেশি সময় ধরে অ্যারিজোনার সিনেটর ছিলেন।

তার পরিবারের সঙ্গে ব্রিজেটের বেড়ে ওঠাও অ্যারিজোনায়। এখন তার বয়স ২৭ বছর।

ম্যাককেইনের পরিবারে ব্রিজেট; ছবিতে বাম থেকে তৃতীয়

এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় একটি এতিমখানা পরিদর্শনে গিয়ে তালু ফাটা একটি শিশুকে দেখে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়েছিলেন ম্যাককেইনপত্নী সিন্ডি। পরে তাকে দত্তক নিয়ে নাম দেন ব্রিজেট। চিকিৎসার পর এখন ব্রিজেটের ঠোঁট প্রায় স্বাভাবিক।

ব্রিজেটসহ সাতটি সন্তান রেখে গেছেন ম্যাককেইন; তার চারটি ছেলে এবং তিনটি মেয়ে।

ম্যাককেইনের দ্বিতীয় স্ত্রী হলেন সিন্ডি। ম্যাককেইন প্রথম বিয়ে করেন ১৯৬৫ সালে ক্যারল শেপকে। ওই ঘরে তার তিন সন্তান। তার মধ্যে দুটি ছেলে ক্যারলের আগের স্বামী, যাদের ম্যাককেইন বাবার স্নেহে বড় করেন। ক্যারলের গর্ভে ম্যাককেইনের মেয়ে সিডনির জন্ম ১৯৬৬ সালে।

ম্যাককেইনের পরিবারে ব্রিজেট; ছবিতে ডান থেকে চতুর্থ (সামনে)

এরপর ভিয়েতনাম যুদ্ধে গিয়ে বন্দি হয়েছিলেন নৌ সেনা ম্যাককেইন। ভিয়েতনামের কারাগারে পাঁচ বছর বন্দি থাকার পর মুক্তি পান তিনি। ওই সময় তিন সন্তানকে নিয়ে ফ্লোরিডায় ছিলেন ক্যারল।

১৯৮০ সালে ক্যারলের সঙ্গে সম্পর্কোচ্ছেদ ঘটে ম্যাককেইনের। তার কয়েক মাসের মধ্যে শিক্ষক সিন্ডি হেন্সলেকে বিয়ে করেন ম্যাককেইন।

সিন্ডির গর্ভে ম্যাককেইনের বড় সন্তান মেগানের জন্ম ১৯৮৪ সালে। নির্বাচনের সময় বাবার প্রচারে তাকেই সবচেয়ে সক্রিয় দেখা গিয়েছিল।

মেগানের পর দুই বছরের ব্যবধানে জ্যাক ও জিমি নামে আরও দুটি ছেলের বাবা হন ম্যাককেইন।

এই পরিবারের সবার ছোট হয়ে আসেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ব্রিজেট।