আপনি কি কৃপণ?

কৃপনতা

মোঃ রফিকুল ইসলাম

কৃপণতা হল প্রয়োজনের তুলনায় সর্বনিম্ন পরিমান সম্পদ খরচ করে তা জমিয়ে রাখার স্বভাব। আর যে ব্যক্তি এ কর্মটি সম্পাদন করে সে হলো কৃপণ। আদর্শ কৃপণেরা সাধারণত বাড়িতেই বিভিন্ন জায়গায় টাকা পয়সা লুকিয়ে রাখে। ব্যাংককে তারা তেমন বিশ্বাস করে না। কারন কখন আবার কোন ব্যাংক লাল বাত্তি জ্বালিয়ে তার কষ্টের টাকা মেরে দেয়। তবে বর্তমানে অবস্থার বোধহয় উন্নতি হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানের কৃপণেরা ব্যাংকেও টাকা জমায়। কৃপণরা তার বা তার পরিবারের মৌলিক চাহিদাগুলোও পূরণে অনীহ থাকে। তার সর্বদা চিন্তা থাকে কিভাবে খরচ কমিয়ে পয়সা বাঁচিয়ে তা জমিয়ে রাখা যায়। অর্থাৎ মিতব্যয়িতার সর্বোৎকৃষ্ট অবস্থার শেষসীমা থেকে কৃপণতার শুরু হয়। কৃপণ সর্বদা সকল উপকরণের চরম উপযোগিতা আদায় করে ছাড়ে। তা হোক সে পোষাক কিংবা অন্যকোন বস্তু বা বিষয়ের। কোন যুক্তিসংগত কারনে হলেও তারা কাজে ফাঁকি দেওয়া বা অনুপস্থিত থাকা একদম পছন্দ করে না। আপনাদের বিশ্বাস হচ্ছে না? উদাহরন দিচ্ছি তখন নিশ্চয় বিশ্বাস হবে। এক কৃপণ ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যু শয্যায় শায়িত। যেকোন সময় প্রাণবায়ু বের হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায়ও তিনি খুবই ক্ষীন কন্ঠ স্ত্রীকে ডাকলেন,” প্রিয়তমা তুমি আছো?” স্ত্রী উত্তর দিল,” আমি আছি তোমার পাশে।” “আমার প্রিয় মা মনি আছে?” মেয়ে জবাব দিল, ” হ্যাঁ বাবা। আমি আছি ।” একইভাবে তিনি বড় ছেলে ও ছোট ছেলের খবর নিলেন তারা কাছাকাছি আছে কিনা। ছেলেরাও জানালো তারা বাবার পাশেই আছে। সবাই উদগ্রীব হয়ত তিনি শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কোন কথা বা নির্দেশ দিবেন। শুনে কৃপণ লোকটি তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে প্রায় ধমকে উঠলেন, ” হচ্ছে কি এসব। সবাই যদি এখানে তাহলে দোকানে আছে কে? ” বুঝুন ঠেলা।

যদিও কৃপণতা দেশ, কাল, পাত্র, গোত্র, বর্ণের উপর নির্ভর করে না তবুও কিছু কিছু জনগোষ্ঠী বা অঞ্চলের মানুষের গায়ে নানা কারনে কৃপণতার তকমা এঁটে গেছে। যেমন জাতিগতভাবে ইহুদিদেরকে সবচেয়ে কৃপণ হিসেবে ভাবা হয়। আবার আঞ্চলিকভাবে স্কটিশদেরকেও কৃপণ জনগোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করা হয়। আর আমাদের ধারে কাছের প্রতিবেশী দেশের দাদাবাবুরাও কালক্রমে এ অভিধায় ভূষিত হয়েছেন। এসব লোকজনদের কৃপণতা নিয়ে রয়েছে নানা মজার মজার গল্প কথা। এবারে এদের নিয়েই কিছু কথা বলা যাক। আমাদের প্রতিবেশী দাদাদের কৃপণতা নিয়ে আমাদের এ অঞ্চলে এত চর্চা হয়েছে যে তা প্রায় প্রবাদের পর্যায়ে চলে গেছে। যেজন্য বলা হয় দাদাদের বাসায় কেউ বেড়াতে গেলে নাকি জিজ্ঞেস করা হয় খেয়ে এসেছেন নাকি গিয়ে খাবেন। কিংবা খাবার জন্য আমন্ত্রণ আপ্যায়ণ না করেই বলা হয় এবার তো খেলেন না পরের বার কিন্তু না খেয়ে যেতে পারবেন না। বরং এদের একটা গল্পই বলি। এক লোক তার দিদির বাসায় গেছে। দরজায় নক করলো। প্রথমবার কেউ দরজা খুললো না। আবারও নক…কোন সাড়া শব্দ নেই। তারপরও সে আবার নক করলো। কিন্তু এবারেও দরজা খোলার কোন নাম নেই। শেষমেষ সে না পেরে বললো, ” দিদি আমি খেয়ে এয়েচি তো।” দিদি দরজা খুলে বললো, “ওরে, দুষ্টু আগে বলবিনে।” কিছু কিছু গল্প আছে তা হয়তো অতিশোয়ক্তি কিন্তু তা কালক্রমে হয়ে গেছে কৃপণতার ধ্রুপদী উদাহরণ। যেমন অফিস থেকে ফিরে দাদা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ভীষন মাথা ব্যথা করছে। তাই বৌদিকে ডেকে বললেন, “হ্যাগো বল্টুর মা, পাশের বাসার ওদের কাছ থেকে একটু টাইগার বাম নিয়ে আস না?” কিছুক্ষণ পর বৌদি রাগে গজগজ করতে করতে ফিরে এলেন। বললেন, ” মাগো কি কিপটের কিপটে? একটুখানি টাইগারবাম, তাও দিলে না?” এ কথা শুনে দাদা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “কি আর করবে বল্টুর মা, যাও আলমারি থেকে আমাদের টাইগারবামটাই বের করে আনো।” এসব কাহিনীর সত্যতা থাক না থাক জনপ্রিয়তা কিন্তু আছে।

স্কটিশদের নিয়ে আছে নানা কিপটেমি বা পয়সার বাঁচানো কিংবা পয়সার প্রতি দূর্দমনীয় লোভের নানা গল্প। যেমন কোন দৌড় প্রতিযোগিতায় একজন স্কটিশ কখন প্রথম হবে জানেন? যদি দৌড়ের শেষ রেখায় কয়েক পেনি খুচরো পয়সা ফেলে রাখা হয়। এবারে স্কটিশ নিয়ে একটা গল্প বলি। তিন আইরিশ ও তিন স্কটিশ একসাথে এক কনফারেন্সে ট্রেনযোগে যাচ্ছিলো। স্টেশনে এসে তিন আইরিশ তিনটি টিকিট কাটলো। কিন্তু তিন স্কটিশ মিলে কিনলো একটি টিকিট। আইরিশদের একজন জিজ্ঞেস করলো এক টিকিটে তোমরা সবাই কিভাবে যাবে। স্কটিশদের একজন বললো, তোমরা দেখতে পাবে। যথারীতি ট্রেনে উঠে তিন আইরিশ নিজ নিজ সীটে গিয়ে বসলো। আর তিন স্কটিশ টেসে ঠুসে একটা বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর টিটিই এসে বাথরুমের দরজায় টোকা দিয়ে টিকিট চাইলো। বাথরুমের দরজা সামান্য ফাঁক করে টিকিট সমেত একটি হাত বের হয়ে এসে টিকিট এগিয়ে দিল। টিটিই টিকিট নিয়ে চলে গেল।

আইরিশরা দেখলো টাকা বাঁচানোর চালাকিটা মন্দ নয়।তারা এটাকে বেশ পছন্দ করলো। তাই ফেরার পথে তারা তিনজনে একটা টিকিট কিনলো। কিন্তু অতীব আশ্চর্যের সাথে তারা লক্ষ্য করলো স্কটিশরা কোন টিকিটই কিনলো না। আইরিশদের একজন জিজ্ঞেস করলো, ” তোমরা বিনা টিকিটে কিভাবে ভ্রমণ করবে?” এক স্কটিশ উত্তর দিল, ” খেয়াল রেখ, তোমরা দেখতে পাবে।” যখন তারা ট্রেনে উঠলো তখন তিন আইরিশ গাদাগাদি করে একটা বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। স্কটিশ তিনজনও কাছাকাছি একটা বাথরুমে ঢুকে পড়লো। ট্রেন স্টেশন ছাড়ার পরপরই স্কটিশ একজন বাথরুম থেকে বের হয়ে আইরিশদের লুকিয়ে থাকা বাথরুমে দরজায় টোকা দিয়ে বললো, “টিকিট প্লিজ।” বাথরুম থেকে টিকিট সমেত একটা হাত বের হয়ে আসলো। পরে কি হয়েছিল তার গল্প নিশ্চয় আর আপনাদের বলতে হবে না।

এবারে ইহুদীদের কিপটেমির একটা উদাহারন দেওয়া যাক। স্থানীয় পত্রিকার শোকবার্তা বিভাগে টেলিফোন করে কৃপন ইহুদি জেফ জানতে চাইলো, “একটা শোকবার্তা প্রকাশ করতে কত টাকা লাগবে?” জবাবে সেখানকার কেরানী বিনীতভাবে জানালো, “প্রতিশব্দ পঞ্চাশ সেন্ট করে।” “ঠিক আছে, তাহলে লিখুন।” কয়েক মুহূর্ত ভেবে সে বললো, “ব্যারি মৃত।” শুনে কেরানী জিজ্ঞেস করলো, “এই! শেষ! “হ্যাঁ এই শেষ।” জেফের জবাব। হতভম্ব কেরানী জানালো, দুঃখিত, আপনাকে আমার জানানো হয়নি যে শোকবার্তায় কমপক্ষে পাঁচটি শব্দ থাকতে হবে। শুনে সে বললো, “আপনার জানানো উচিত ছিল। ঠিক আছে আমাকে এক মিনিট ভাবতে দিন…..আচ্ছা তাহলে লিখুনঃ মৃত ব্যারি । বিক্রি হবে মারুতি।”

এবারে এক চ্যাম্পিয়ান কৃপণের গল্প আপনাদের শোনাতে চাই। আমার বিশ্বাস কৃপণতার উপর নোবেল বা কোন পুরষ্কারের ব্যবস্থা থাকলে এ গল্পের নায়কের নির্ঘাত তা প্রাপ্য ছিল। ভবেশবাবুর বাবা ছিলেন ত্রিভুবন খ্যাত কৃপণ I তিনি যখন মৃত্যু শয্যায় তখন ভবেশবাবুকে বলে গিয়েছেন– যদি কখনো কোন বিষয়ে বিশেষ করে অপচয় কমানোর কোন পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তাহলে আমার এক কৃপণ বন্ধু আছে, তার নাম হর কুমার, তার কাছ থেকে পরামর্শ নিবে I

বাবার মৃত্যুর পর জায়গা-জমি নিয়ে খরচ সংক্রান্ত একটা ব্যাপারে ভবেশবাবু পরামর্শ নিতে সন্ধ্যার পর পিতৃ-বন্ধু হর কুমারের কাছে গেলেন I হরকুমার বাবু ভবেশবাবুকে সাদরে ঘরে নিয়ে বসলেন I হরকুমার কাকা বললেন– কথা বলতে তো আর আলোর প্রয়োজন নেই, তাহলে বাতিটি নিভিয়ে দেই –বলে তিনি বৈদ্যুতিক বাতিটি নিভিয়ে দিলেন I কথা-বার্তা শেষে ভবেশবাবু যখন উঠতে যাবেন, তখন হর কুমারবাবু বললেন– “দাড়াও বাতিটা জ্বালিয়ে দেই, নইলে তুমি বেরুবার রাস্তা দেখতে পাবে না I” ভবেশবাবু তখন বললেন– “একটু দাড়ান কাকা, আমি লুঙ্গিটা পরে নিই।” হরকুমার অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন– “মানে ? তুমি কি এতক্ষণ লুঙ্গি না পরেই আমার সাথে কথা বলছিলে ?” ভবেশবাবু বললেন– “আজ্ঞে হ্যাঁ, অন্ধকার ঘরে লুঙ্গি পরে সেটার অপচয় করে কি লাভ, তাতে বরং লুঙ্গিটার পরমায়ু অন্তত কয়েক ঘন্টা তো বাড়বে I”

হরকুমারবাবু হতাশ হয়ে বললেন– “তুমি কেন অযথা আমার কাছে পরামর্শ নিতে এসে সময়ের অপচয় করলে ? তুমি তো ইতিমধ্যেই আমাকে ছাড়িয়ে গেছো। ”

কৃপণ বা কৃপণতা নিয়ে অনেক তো জল ঘোলা হল। তাই আপনাদের অকৃপণ ধৈর্যের চ্যূতি না ঘটিয়ে ইতি টানতে চাই। তবে শেষ বেলায় কৃপনতার শেষ গল্পটি না বললে আখ্যানটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এতক্ষন আমরা যে সব কৃপণ চরিত্রগুলোর আলোচনা করলাম সেগুলো হয়ত প্রচলিত গল্প উপাখ্যানে আছে কিন্তু বাস্তবের এদের উপস্থিতি হয়ত কোনকালেই ছিল না। তাই এবারে বাস্তবের এক কৃপণের কথা জানাতে চাই। তাঁর নাম হেনরিয়েটা হাউল্যান্ড গ্রীন ওরফে হেটি গ্রীন ( ১৮৩৪-১৯১৬)। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে ধনী মহিলা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী। তাঁকে ওয়াল স্ট্রিটের ডাইনী বলা হোত। তিনি যেমন তাঁর সম্পদের পরিমানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন তেমনি সুপরিচিত ছিলেন তাঁর কৃপণতার জন্যও। তাঁর সে সময়ে যে সম্পদ ছিল তার পরিমান ছিল ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি ডলার যার বর্তমান বাজার মূল্য ২২৫ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার যা তাঁকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মহিলার স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে তাঁর কৃপণতাও তাঁকে জগৎজোড়া পরিচিতি দিয়েছিল। তিনি সবচেয়ে কৃপণ হিসেবে দাীর্ঘদিন গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন।

তাঁকে নিয়েতো অনেক কথা হল এবারে তাঁর কিংবদন্তিতূল্য কৃপণতার কিছু বিবরণ শুনুন। তিনি কখনও গরম পানি বা বাসা গরম করতে রুম হিটার ব্যবহার করতেন না। তিনি কালো পুরনো পোষাক পরিধান করতেন একেবার ছিঁড়ে না পর্যন্ত। চড়তেন পুরনো বাহনে। তিনি মাত্র ১৫ সেন্ট মূল্যের পাই নামের সস্তা খাবার খেতেন। কথিত আছে যে একবার তাঁর গাড়িতে মাত্র ২ সেন্টের হারিয়ে যাওয়া একটা স্ট্যাম্প খুঁজতে তিন অর্ধ রাত্রি ব্যয় করেছিলেন। আরও কথিত আছে যে তিনি কম সাবান ব্যবহারের জন্য তাঁর ধোপানীকে শুধু কাপড়ের ময়লা স্থান ধুতে বলতেন। তিনি অফিস খরচ বাঁচাতে সীবোর্ড ন্যাশনাল ব্যাংকে তাঁরই কাগজপত্রে ঠাসা ট্রাঙ্ক ও স্যূটকেসের মাঝে বসে কাজ করতেন। এমনও গুজব ছিল যে তিনি শুধু ওটমিল খেতেন যা তিনি অফিসের রেডিয়েটরে গরম করতেন। এমনকি তাঁর কৃপণতা তার পরিবারের চিকিৎসা সেবা নিয়েও ছিল। একবার তাঁর ছেলে আহত হলে তিনি তাকে ভাল কোন হাসপাতালে ভর্তি না করে গরীব মানুষের বিনামূল্যের হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর ছেলের পা ঠিক হতে অনেকদিন লেগেছিল যদিও পরবর্তীতে তার পা কেটে ফেলতেও হয়েছিল। এসব কারনেই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ ব্যবসায়ীরা ডাইনী উপাধি দিয়েছিল। অবশ্য তাঁর সম্পদ তাঁর সন্তানেরা মানব কল্যাণে অনেক জায়গায় দান করে দিয়েছিলেন।

সম্পদ নাকি তিন প্রজন্মের বেশি থাকে না। তাই অযথা কৃপণতা না করে মিতব্যয়িতার সাথে প্রয়োজন মিটান ও জীবনকে উপভোগ করুন। নিজে কষ্ট করে জমিয়ে রেখে কি লাভ? কারন তিন প্রজন্মের পর আবারতো নতুন করে সম্পদ অর্জনের সংগ্রামে নামতেই হচ্ছে।

কিছু জোকস…

কোলকাতার_দাদারা_বলে_কথা…!!

১। ক্রেতাঃ দাদা মুরগির ওই ঠ্যাঙ এর পাস থেকে দুসো গ্রাম দিন তো

বিক্রেতাঃ সেকি দাদা বাড়িতে আজ উতসব নাকি…পুরো দুসো গ্রাম মুরগি !!

ক্রেতাঃ সেইরকম ই দাদা, দুই জামাই আসবে আজগে…ওদের দুজনের জন্য একসো গ্রাম আর আমাদের বাকি চারজনের জন্য পুরো একসো গ্রাম…..

২। ১ম বন্ধুঃ কিরে আজগে বড় দাদার জন্নে মেয়ে দেগতে গেচিলি ! তা কি খাওয়ালো ওকানে ?

২য় বন্ধুঃ মাইরি খেয়েচি সেরাম আজগে ! ১ম বন্ধুঃ বলনা কি খেলি ?

২য় বন্ধুঃ প্রায় মুরগীই খেয়েচি দাদা, মাইরি যা টেস্ট না !

১ম বন্ধুঃ প্রায় মুরগী ! সে আবার কি গো !২য় বন্ধুঃ অ্যাঁরে বুঝলি না !! ডিম খেতে দিয়েচিলো । গোটা আদ্দেক !

৩। এক লোক গেছে তার বোনের বাসায়। গিয়ে দরজায় নক করল। প্রথমবার কেউ খুলল না। আবার নক…..

….কোন সাড়া-শব্দ নেই। তারপরেও সে আবার নক করল। কিন্তু না, এবারও দরজা খোলার নাম নেই।

শেষমেশ আর না পেরে বলল…..

“দিদি, আমি খেয়ে এসেচি তো।”

দিদিঃ ওরে দুষ্টু, তা আগে বলবি নে?

৪। এক ব্যক্তি কোলকাতায় গিয়ে হোটেলে মালপত্র রেখে বন্ধুর সাথে তার মামার বাড়ী গেছে দেখা করতে,মনে ইচ্ছা ছিলো ঐ বাড়ীতে ওঠার । তো মামা বলে উঠলেন ”এইবারতো হোটেলে উঠলে পরেরবার আমাদের এখানে উঠো কিন্তু”

৫। অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে দাদা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ভীষন মাথা ব্যাথা করছে। তাই বৌদিকে ডেকে বললেন

— হ্যা গো ট্যাঁপার মা, পাশের বাসার ওদের কাছ থেকে একটু টাইগার বাম নিয়ে আস না ।

খানিকপর বৌদি রাগে গজগগ করতে করতে ফিরে এলেন। বললেন

— মা গো , কি কিপটের কিপটে ? এক্টুখানি টাইগার বাম, তাও দিল না ??

একথা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দাদা বললেন

— কি আর করবে ট্যাঁপার মা, যাও আলমারি থেকে আমাদের টাইগার বামটাই বের করে আন।

৬। বেশ আগের কথা। দাদার বাড়িতে কোন এক কারনে একজন মেহমান এসেছেন এবং কিভাবে জানি না এক রাত দাদার বাড়িতে থেকেওছেন। পরদিন ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে মেহমান দাঁত মাজার জন্য নিজের ব্যাগ থেকে একটা টুথপেস্ট বের করেছেন । এই না দেখে দাদা সেখানে হাজির। বেশ কতক্ষন লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে দাদা জিজ্ঞেস করলেন

— আজ্ঞে দাদা, বলছিলুম কি … আপনার হাতে ওটা কি, টুথ পেস্ট নাকি ?

মেহমান ততক্ষনে যা বোঝার বুঝে গেছেন , তবু ভদ্রতার খাতিরে বললেন

— হ্যা দাদা , আপনাকে দেব একটু ?

এই শুনে কলকাতার দাদা হাঁক ছাড়লেন

— ওরে রমেশ , সুরেশ , ট্যাপা , মহেশ … কে কোথায় আছিস ? যার যার আঙ্গুল নিয়ে এদিকে আয় , আজকে পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজবি।

— Just for fun..(collected)