সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি স্বরাষ্ট্র: তথ্যমন্ত্রী

গত রোববার ধানমণ্ডি এলাকায় হেলমেট পরা যুবকদের হামলার শিকার এক আলোকচিত্রী (ফাইল ছবি)

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে ধানমণ্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনও নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

ঈদের ছুটির পর গত রোববার প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এক প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার পর অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ইনু বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলার ব্যাপারে আমি যে উদ্যোগ নিয়েছি, সেই ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে হয়নি।

“আজকে অফিস খুলল। এই বন্ধের ভেতর আমি আমার তদবির অব্যাহত রেখেছি। আশা করি হামলাকারীরা আইনের আওতায় আসবে ও সাজা পাবে।”

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ৫ অগাস্ট ধানমণ্ডিতে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ধরে ধরে পেটায় হেলমেট পরা একদল যুবক। চাপাতি, রড, লাঠি হাতে এই যুবকদের তৎপরতার সময় পুলিশ সামনে থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ওইদিন দুপুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, ধানমণ্ডি ১ নম্বর ও ২ নম্বর সড়কে বেশ কয়েকজন আলোকচিত্র সাংবাদিক আহত হন।

ওই ঘটনার দুইদিন পর সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের ওপর হামলাপকারীদের বিরুদ্ধে কটোর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার কথাও ওইদিন জানিয়েছিলেন ইনু।

এবার ঈদ পালনের বিষয়ে জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, “অতীতের মতো ঈদের জামাত নিয়ে জঙ্গি সন্ত্রাসের যে আশঙ্কা-হুমকি থাকে, তা থেকে শেখ হাসিনা সরকার নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। এবার হুমকির কোনো খবর আসেনি। এবার মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ঈদের জামাতে অংশ নিতে পেরেছেন।”

ঈদের সময় একুশে অগাস্টের গ্রেনেড হামলার মামলা, আগামী নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি নিয়ে কিছুটা হৈ চৈ হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এই তিনটি বিষয় নিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন রকমের তির্যক মন্তব্য করেছেন। এর উত্তরও অনেকজন দিয়েছেন। তারা বলছেন সরকারপক্ষ নাকি আদালতের উপর প্রভাব বিস্তার করছে।

“প্রধানমন্ত্রীসহ ২১ অগাস্টের ক্ষতিগ্রস্ত যারা আছেন তারা যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা চাইছেন সেটা আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করার শামিল না। যেমন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও বিচারের দাবিতে জনগণ আগের দিন পর্যন্ত সোচ্চার ছিল, এই সোচ্চারটা বাদীপক্ষের একটি গণতান্ত্রিক অধিকার, সেটা আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ হয় না।”