তৈল মর্দন

তৈল মর্দন

মোঃ রফিকুল ইসলাম

তৈল বা তেল একটি রাসায়নিক তরল পদার্থ যা সাধারন অবস্থায় পানির সংগে অমিশ্রণীয় কিন্তু অন্য তেলের সংগে সহজে মিশ্রণীয়। তেল সাধারনত প্রানিজ, ভেষজ ও খনিজ জাতীয় হতে পারে। একে খাওয়া যায়, রূপচর্চায় ব্যবহার করা হয়, ধর্মীয় আচারে এর প্রয়োজন হয়, জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়, পিচ্ছিলকারক হিসেবে গাড়ি বা কলকব্জায় এবং চিত্রকলাসহ নানা কাজে এর ব্যবহার হয়। তবে আমাদের আলোচনা এ রাসায়নিক তেল নিয়ে নয় বরং অন্য আরেক ধরনের তেল নিয়ে। এ তেল বায়বীয়। বাস্তবে এ তেলের কোন অস্তিত্ব না থাকলেও এর ব্যবহারে অর্থাৎ এ তৈল মর্দনে বাস্তবিক ফল লাভ করা সম্ভব। এ তৈল মর্দনও বাস্তবে করতে হয় না বরং ক্ষমতাশালীদের কথা বা কখনও কখনও কাজ দিয়ে সন্তুষ্ট করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে হয়।

তেল বা তৈল মর্দনের কোন আলোচনা করতে গেলে সবার আগে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়ের কথা বলতেই হয়। কারন তিনি অনেক আগেই তৈল মর্দনের অভাবনীয় সাফল্যের বর্ণনা অত্যন্ত সুন্দরভাবে দিয়ে গেছেন। তাঁর বর্ণনায় তৈল মর্দনের স্তুতিগাথা কেমন ছিল? ঊদ্ধৃতি দিচ্ছি, “বাস্তবিক তৈল সর্বশক্তিমান, যাহা বলের অসাধ্য, যাহা বিদ্যায় অসাধ্য, যাহা ধনের অসাধ্য, যাহা কৌশলের অসাধ্য— তাহা কেবল তৈল দ্বারা সিদ্ধ হইতে পারে।” তিনি আরও বলেন— “যে তৈল দিতে পারিবে তাহার বিদ্যা না থাকিলেও প্রফেসর হইতে পারে। আহাম্মক হইলেও ম্যাজিস্ট্রেট হইতে পারে, সাহস না থাকলেও সেনাপতি হইতে পারে এবং দুর্লভ রাম হইয়াও উড়িষ্যার গভর্নর হইতে পারে।”

তৈল মর্দনের প্রতিশব্দ হিসেবে তোষামোদ, খোশামোদ, মোসাহেবি, চাটুকারিতা ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। আর যারা এ কর্মটি করে ব্যূৎপত্তি অর্জন করতে পারে তাদেরকে বোধহয় ধামাধরা বা মোসাহেব বলা হয়।

তৈল মর্দন বা চাটুকারিতা বা তোষামুদি শুধু আজকের বিষয় নয়। অনেক আগে থেকেই অনেক জ্ঞানী গুনী কবি সাহিত্যিক, ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ নিজেরা যেমন চাটুকারিতা পছন্দ করতেন আবার অনেকে চাটুকারিতা করে সাহিত্য রচনা করেছেন বা অন্যের চাটুকারিতা করে সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন। যেমনটি ইংরেজ কবি স্পেনসার তার ‘দ্য ফেয়ারি কুইন’ কাব্য রচনা করেছিলেন রানী প্রথম এলিজাবেথকে তোষামুদি করে। তেমনি আবার ইংরেজ নাট্যকার শেক্সপীয়ার জুলিয়াস সীজার নাটক রচনা করেছিলেন রাজা প্রথম জেমসকে উদ্দেশ্য করে। এতো গেলো বিদেশের গল্প। এবারে দেশীয় ঘটনা কিছু বলা যাক। আমাদের এক প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাঁর মা মারা গেলে কোনও কোনও মন্ত্রী নাকি প্রেসিডেন্টের চেয়েও বেশি কান্না-কাঁটি করেছিলেন । কে একজন নাকি একেবারে গড়াগড়ি করে কেঁদেছিলেন। তাঁর এক মন্ত্রী প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দিলে রাজপথ ঝাড়ু পর্যন্ত দেওয়ার ঘোষনা প্রকাশ্য সভায় দিয়েছিলেন। এছাড়া অনেক কবি সাহিত্যিকও নাকি নানা সময়ে কবি প্রেসিডেন্টকে তোষামুদি করে নানা সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছিলেন বলে প্রচার ছিল। সত্য মিথ্যা আল্লাহ মালুম।

তেলবাজ বা মোসাহেব হতে হলে কিছু গুনাবলী থাকতে হবে। যে কেউ তেলবাজ হতে পারবে না। সবচেয়ে যে জিনিসটা তেলবাজের থাকা চলবে না সেটা হল আত্ম সম্মানবোধ। কারন তাকে বসের সামনে প্রয়োজনে নিজেকে হেয় করে বসকে মহান করে তুলতে হবে। তার একেবারেই থাকা যাবে না চক্ষু লজ্জা। কারন আর সবাই খালি চোখে যা দেখবে সেটা বলা যাবে না। বরং বস যা দেখতে চায় বা বস যা শুনলে খুশী হবে তাকে সেটাই দেখতে হবে বা বলতে হবে। কেমন? ধরুন বস হয়ত কোথাও বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি হয়ত জানতে চাইলেন বক্তৃতা কেমন হল অথবা জানতে না চাইলেও তাকে বত্তৃতার বিষয়ে মন্তব্য করতে হবে । বক্তৃতা জঘন্য অখাদ্য হলেও তেলবাজকে বলতে হবে মারভেলাস বক্তৃতা হয়েছে স্যার। বা ভাল ভাল বিশেষন প্রয়োগ করে বক্তৃতার প্রসংশা করতে হবে। অবশ্য তাকে কিছুটা পরিমিতি বোধেরও পরিচয় দিতে হবে মাঝে মধ্যে। যেমন ওই বক্তৃতার প্রসংগে যদি তেলবাজ বা মোসাহেব বলে বসে স্যার আপনার বক্তৃতা এমন হয়েছে যে গেটিসবার্গ এ্যাড্রেস ফেল। তবে সবচেয়ে বলদ বসও তেল ধরে ফেলতে পারে। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তৈল মর্দনের আরও একটি ধ্রুপদী উদাহরন দেওয়া যায়। হয়ত কোন রাজনৈতিক নেতা সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছেন। নেতা হয়ত জানতে চাইলেন সমাবেশে কত লোক হয়েছিল। সংগীয় মোসাহেবকে বাস্তবে পাঁচ হজার লোক হলেও কয়কগুন বাড়িয়ে বলতে হবে। আবার তার বিরোধী পক্ষের সমাবেশ হলে বাস্তবে বিশ হাজার লোক হলে পাঁচ হাজারে নামিয়ে আনতে হবে। সত্য কথা বললে মোসাহবের চাকুরী নট হয়ে পড়তে পারে। অথবা অন্যপক্ষের দালাল প্রতিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তৈল মর্দন পছন্দ করেন না এমন লোক পাওয়া বিরল। কোন বস হয়ত তৈল মর্দন পছন্দ করেন না। তাকেও তেলবাজরা তেল মেরে তৈলাক্ত করে ফেলতে পারে। ভাবছেন কিভাবে? এ প্রসংগে বরং একটা গল্প বলি। ফরাসী সম্রাট নাকি তৈল মর্দন পছন্দ করতেন না। তাই তিনি একবার সে কথা তার সহকারীদের জানিয়ে বললেন যে তাঁকে কেউ তেল মারতে পারবে না। শুনে এক সহকারী বললেন যে মশিঁয়ে সম্রাটকে তৈল মর্দন করা যাবে কিনা আগামীকাল জানাবেন। পরদিন তিনি সম্রাটকে জানালেন, “আমি সারা রাত ধরে চিন্তা করে দেখলাম মশিঁয়ে প্রেসিডেন্ট । আসলেই আপনাকে তেলমারা সম্ভব নয়।” শেষেমেষ নাকি সম্রাট স্বীকার করেছিলেন যে তিনি এ কথায় সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। অর্থাৎ তিনি তেলে সিক্ত হয়েছিলেন। আমাদের দেশে এরকম হলে কি হতে পারে তার একটা কাল্পনিক চিত্র আঁকা যাক। তেলবাজরা হয়ত এমনভাবে বসকে বলবে, “আমরা জানি স্যার আপনি তেলমারা একদমই পছন্দ করেন না।” তারপর হয়ত বিভাগের কোন নামকরা অফিসারের নাম করে বলবে, “তিনিও স্যার আপনার মত তেলমারা পছন্দ করেন না। অথচ তিনি সৎ, দক্ষ ও জনপ্রিয় কর্মকর্তা। আপনিও স্যার তার মত বা কোন কোন ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি।” আসলে হয়ত তিনি সততা দক্ষতার ধারে কাছেও নেই। বস মুখে যতই না না করুন না কেন নামজাদা কারও সাথে তুলনীয় হলে মনে মনে পুলকিত হবেন না এমন বস দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।

তেলবাজের গুনাবলী তো গেলো। এবারে দেখা যাক কোন শ্রেণির লোক তেলবাজ হয়ে। ১. ফাঁকিবাজ কর্মচারী বা কর্মী ২. অযোগ্য বা কম যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি। কম যোগ্যতা পুষিয়ে দেয় তার তেল মর্দন। ৩. লোভী ব্যক্তি। তেলবাজের কিভাবে লাভবান হওয়া যায় সেটাই মুখ্য চিন্তা থাকে। নীতি আদর্শের কোন বালাই তাতে নেই।

কিছু মানুষ বোধহয় তেলমারার স্বভাব জন্মগতভাবে অর্জন করে। তাই তারা সুযোগ পেলেই তেলমারার চেষ্টায় রত থাকে। এবারে এরকমই একজনের গল্প বলা যাক। কয়েকজন শিক্ষানবীশ অফিসার শিক্ষাসফরে গেছেন। এক পর্যায়ে তাঁদের অন্য বিভাগের এক কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ সূচী নির্ধারিত হয়েছে। সে কর্মকর্তা তাঁদের একই পদ মর্যাদার তবে সামান্য সিনিয়র। তাই সবাই পরামর্শ করেছে তাঁরা সাক্ষাৎকালে কর্মকর্তার সাথে নাম পুরুষে কথা বলবেন, স্যার ডাকবে না। সেভাবেই তাঁরা সাক্ষাৎকালে গল্প করছিলেন। সাক্ষাৎ পর্ব প্রায় সমাপ্ত হয়ে এসেছে। চা সার্ভ করা হয়েছে। সবাই নিজ নিজ চায়ের কাপে পছন্দ মত দুধ চিনি মিশিয়ে নাড়ছেন। এর মধ্যে একজন শিক্ষানবীশ অফিসার সৌজন্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে হোস্ট অফিসারের জন্য চা বানাচ্ছেন। চায়ে দুধ মিশিয়ে চিনি মিশাতে গিয়ে হঠাৎ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “স্যার, চায়ে চিনি ক’চামচ দিব?” সবাই বাকরুদ্ধ। একে অপরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি শুরু করলেন। অফিসার কি বুঝলেন কে জানে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কোন সমস্যা?” সবাই একযোগে না না করে উঠলেন। তাঁরা দ্রুত চা-পর্ব শেষ করে বেরিয়ে এলেন। বাইরে এসেই সবাই সে তেলবাজ শিক্ষানবীশ অফিসারের উপর হামলে পড়লেন। তাঁর এ তেলমারা স্বভাবের জন্য সবাই তাঁকে পই পই করে কথা বলতে বারন করেছিলেন। কিন্তু তিনি বহু কষ্টে অনেকক্ষন চেপে থাকলেও শেষ রক্ষা আর হয়নি। তেল মারতে হাত মুখ নিসপিস করছিল। তাই সুযোগ আসতেই মনের অজান্তেই একটু তৈল মর্দন করে দিয়েছেন। অর্থাৎ যার তেলমারা স্বভাব হাজার চেষ্টা করুন তবুও তাকে তৈল মর্দন থেকে বিরত রাখতে পারবেন না।

কিছু মানুষ যেমন তেল মারা পছন্দ করেন বা তেল মারা তার জন্মগত স্বভাব আবার তেমনি কিছু মানুষ আছে যারা তেল মারা একেবারে পছন্দ করেন না বা তেল মারা তার ধাতে সয় না। না হলে কি কেউ নির্বাচনী পোস্টারে এমন কথা লেখে। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে? খোলাশা করছি। ময়মনসিংহ জেলার ৮ নং আকুয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী তার নির্বাচনী পোস্টারে লিখেছে, ” আমি মোঃ তৈয়ব আলী প্রাইমারী পাশ সকলের দোয়া ও ভোট চাই। ভোট দিলে দিবাইন না দিলে তেল মারার পাইতাম না।” তার যে নির্বাচিত হতে পারার বিন্দুমাত্র সম্ভবনা ছিল না তা বোধহয় বিস্তারিত খোঁজ খবর না নিয়েই বলা যায়।

আবার ইচ্ছা থাকলেও মোসাহেবি কিন্তু সবাই করতে পারে না। এজন্য আলাদা বিদ্যা অর্জন করতে হয়। একালে যেমন আমরা অফিস আদালতে কিংবা রাজনীতির মাঠে বা বাংলা সিনেমায় চেয়ারম্যানের ছাতিধরা মোসাহেব দেখি তেমনি আগের যুগেও কিন্তু মোসাহেবদের কদর নেহায়তে কম ছিল না। কোন কোন রাজা বা জমিদার রীতিমত মোসাহেব নিয়োগ দিতেন তার মোসাহেবি করতে। রবি ঠাকুরের দুই বিঘা কবিতায় মোসাহেবির সুন্দর একটা উদাহরন আছে। যেমন “রাজা যত বলে পারিষদ বলে তার শতগুন। ” এ রকমই মোসাহেব নিয়ে এক গল্প বলি। একবার কৃষ্ণনগরের এক জমিদারের খুব শখ হল মোসাহেব পুষবেন বলে।

অনেকেই দরখাস্ত করলো জমিদারের মোসাহেব হতে। কিন্তু জমিদার বাবু মোসাহেব নির্বাচন করবেন কিভাবে। বড় ফাঁপরে পড়ে গেলেন। শেষমেষ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজদরবারের সভাসদ গোপালভাঁড়ের শরানাপন্ন হলেন। ও হ্যাঁ গোপাল কিন্তু রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় ভাঁড় ছিলেন। নানা হাস্যরস বা ক্যারিক্যাচার করে রাজাকে আনন্দ দিতেন। মোসাহেব ছিলেন না। বরং রাজাকে উচিৎ কথা বলতে ছাড়তেন না। কখনও রাজাকে নিয়ে রসিকতাও করতেন। যা মোসাহবি আচরনের বিপরীত। সেই গোপাল ভাঁড় ইন্টারভিউ নিচ্ছেন। গোপাল প্রার্থীদের সবাইকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন। প্রথম প্রশ্ন : “আপনি কি মোসাহেবি করতে পারবেন ?” উত্তর: “কেন পারবো না? পারবো?” দ্বিতীয় প্রশ্ন: “না। আমার মনে হয় না, আপনি পারবেন?” উত্তর : “কি বলেন ভাঁড় মশাই, অবশ্যই পারবো।” প্রায় সবাই একই উত্তর দিলেন। গোপাল ভাঁড় তাদের আর কোন প্রশ্ন করলেন না। শুধু একজন প্রাথীকে তিনি তিনটি প্রশ্ন করলেন। তার প্রশ্নোত্তর ছিল এ রকম। প্রশ্ন : আপনি কি পারবেন? উত্তর: “ঠিকই বলেছেন। আমারও সন্দেহ হচ্ছে আসলেই কি আমি পারবো?” প্রশ্ন : “আপনি মনে হয় না পারবেন।” উত্তর : “আমারও তাই মনে হচ্ছে আমি বোধহয় পারবো না।” প্রশ্ন : “পারবেন না কেন? পারবেন।” উত্তর : “তাইতো পারবো না কেন, অবশ্যই পারবো।” কোন্ প্রার্থীকে এবং কেন নির্বাচন করেছিলেন তা নিশ্চয়ই আপনাদেরকে বলে দিতে হবে না। হ্যাঁ। ঠিক ধরেছেন শেষোক্ত প্রার্থীই নির্বাচিত হয়েছিলেন। কারন তিনি প্রশ্ন কর্তার সাথে কখনও দ্বিমত করেননি। সুতরাং তার চেয়ে ভাল মোসাহেব আর কেউ হতে পারতো?

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়ের আমলে শুধু কথার তেলেই অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ সম্ভব ছিল। তবে আজকাল শুধু কথার তেলের ধার বোধহয় একটু কমে গেছে। এজন্য সাথে কড়ি ও কামিনীরূপ তেলও দিতে হয়। কেউ কেউ কড়ি তেলেই সন্তুষ্ট থাকেন। কেউ আবার নিজেকে সৎ ভাবেন তাই কড়ি নেন না। তাকে হয়ত কামিনীতে সন্তুষ্ট করতে হয়।আবার কেউ কেউ আছেন সর্বভুক। কড়ি কামিনী সবই ভালবাসেন।

তৈল মর্দন করতে যারা অভ্যস্ত তারা নির্বিঘ্নে কাজে লেগে থাকুন আখেরে লাভ হবে। যারা নবীশ আছেন তারা ফরমুলা মেনে চেষ্টা চালিয়ে যান সফলতা আসবেই। তবে অবশ্য সীমার মধ্যে থাকুন নাহলে কিন্তু আম ছালা দু’ই যাবে। তৈল মর্দনে জাগতিক অনেক কিছু লাভ করা সম্ভব। যেটা শাস্ত্রী মহাশয় বলে গেছেন। তবে জনান্তিকে বলে রাখি দুর্জনেরা কিন্তু বলেন শাস্ত্রী মহাশয়ও নাকি তৈল মর্দনের কারনেই এত সুন্দর তৈল বিষয়ক রচনা লিখতে পেরেছিলেন। তাই বলে আপনারা আবার মনে করবেন না আমিও কারও তৈল মর্দনে এটা লিখার চেষ্টা চালিয়েছি। আমার মত অভাজনকে আর কে তৈল মর্দন করবে বলুন?