রপ্তানি আয়

তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে

ঈদুল আজহার ছুটির কারণে গত আগস্ট মাসের শেষ ১০ দিন পণ্য রপ্তানি হয়নি। তারপরও ওই মাসে ২৯২ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৪ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ফলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে পোশাক খাতের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ ডলারে। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য; পাট ও পাটপণ্য; হোম টেক্সটাইল এবং হিমায়িত চিংড়ির মতো অন্য বড় খাতগুলোর রপ্তানিতে ধস নেমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির হার কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সব মিলিয়ে ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৬৬২ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের পণ্য।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল মঙ্গলবার রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট পণ্য রপ্তানিতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৪ শতাংশের বেশি। এই সময়ে ২৯১ কোটি ২৮ লাখ ডলারের নিট ও ২৮২ কোটি ২২ লাখ ডলারের ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে নিট পোশাকে দেড় শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটির কারণে গত মাসের প্রথম ২০ দিনের পর আর সেভাবে রপ্তানি হয়নি। তারপরও গত দুই মাস মিলিয়ে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তা সন্তোষজনক। তিনি আরও বলেন, ক্রয়াদেশ ভালো থাকলেও ক্রেতারা পোশাকের দাম কম দিচ্ছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ক্রয়াদেশ কিছুটা কমতে পারে। প্রতি পাঁচ বছর পরপরই এমনটা হয়ে আসছে। ফলে সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরতে হবে।

এদিকে পোশাক রপ্তানিতে ৪ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি হলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। চলতি অর্থবছরের দুই মাসে ১৮ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ২৪ কোটি ডলারের পণ্য। সেই হিসাবে এবার রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ২৬ শতাংশ।

দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি আয়ে পাট ও পাটপণ্য তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও এবার সেটি পাঁচ নম্বরে নেমে গেছে। আলোচ্য দুই মাসে সেই অবস্থান দখল করেছে কৃষিজাত পণ্য। কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ১৮ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৮ শতাংশ।

পাট ও পাটপণ্য রপ্তানিতে ১৩ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের কাঁচা পাট, ৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পাটসুতা, ১ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের পাটের বস্তা রপ্তানি হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের চেয়ে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি কমেছে ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে ১৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের আয় হলেও আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পণ্যটি রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে চিংড়ি রপ্তানি করে ৭ কোটি ৩৪ লাখ ডলার আয় হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। এ ছাড়া সিরামিকপণ্য রপ্তানিতে ২৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।