দুদকের গণশুনানি উঠে এলো ওয়াসার দুর্নীতি-অনিয়ম: তাকসিম নামা!

0
195

দুদকের গণশুনানি

উঠে এলো ওয়াসার দুর্নীতি-অনিয়ম

এক ফোঁটা পানিও থাকে না ট্যাপে; কখন আসে, কখন যায়, তাও টের পাওয়া যায় না। একটু পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাত জেগে বসে থাকেন তারা। অনেক প্রতীক্ষার পর যদিও বা সেই পানির দেখা মেলে, তার নোংরা দুর্গন্ধে ইচ্ছে করে দৌড়ে পালাতে। ওয়াসার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলা, উদাসীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে পানি সরবরাহে এ নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

রাজধানীর মিরপুরে ওয়াসার মডস জোন-৪ ও জোন-১০ এলাকার ভুক্তভোগী নাগরিকরা এভাবেই দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন গতকাল বুধবার। ঢাকার মিরপুরে বিআইবিএম মিলনায়তনে ওই দুটি জোনে ওয়াসার কার্যক্রম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে এসব কথা বলেন তারা। ভুক্তভোগীরা জোন দুটির দায়িত্বশীল নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের সামনেই তাদের ‘অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ, দুর্নীতি’ নিয়ে কথা বলেন। এ সময় ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান এবং ডিএমডি (অর্থ) উত্তম কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানি প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়াসার কার্যক্রম একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাই সাধারণ জনগণ এ প্রতিষ্ঠান থেকে কী ধরনের সেবা পাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। আর এ জন্যই গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। গণশুনানিতে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার। দুদক পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ মডস-৪ ও ১০ এলাকার স্থানীয় নাগরিকরাও গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় গণশুনানির মঞ্চে উপস্থিত মডস জোন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আ. মজিদ ও কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন এবং জোন-১০-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল হাবিব চৌধুরী ও কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন অনেক অভিযোগই এড়িয়ে যান। তবে কোনো কোনো অভিযোগ সমাধানের পাশাপাশি ঘুষ চাওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

দুদক কমিশনার নাসির উদ্দিন আহমেদ ভুক্তভোগী নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, প্রতারণা বা সেবার নামে ওয়াসার কোনো কর্মকর্তা ঘুষ চাইলে তারা যেন গোপনে দুদকের কাছে খবর পৌঁছে দেন। ফাঁদ পেতে ওইসব অসৎ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হবে। কোনো কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পদ সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে তা সরবরাহ করতেও বলেন তিনি। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওয়াসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা কোনোভাবেই যেন সেবাগ্রহীতা জনগণের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করেন। আগামী ২ মে বিআইবিএম মিলনায়তনে গতকালের গণশুনানির ফলোআপ গণশুনানি করা হবে বলে তিনি জানান।

ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পানি ব্যবস্থাপনাকে শতভাগ অটোমেশনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বিলে যাতে মানুষের হাত দিতে না হয় সেই পদ্ধতিও চালু করা হবে। এর ফলে কোনো গ্রাহককে অফিসে যেতে হবে না, বিল অনলাইনেই পরিশোধ করা যাবে। কোনো সমস্যা থাকলে ওয়াসার হটলাইনে ফোন করে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। তবে গণশুনানিতে একাধিক অভিযোগকারীই জানান, হটলাইনে ফোন করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।

তাকসিন এ খান আরও বলেন, ওয়াসার পানি ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট মিটার এরিয়া

(ডিএমএ) পদ্ধতিতে পানি সরবরাহসহ নানা ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

গণশুনানিতে মিরপুরের বাউনিয়া থেকে আসা মো. মোশাররফ বলেন, ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক তাকে বলেছেন, ঘুষ দিলে বিলের টাকা কমিয়ে দেওয়া হবে। এর জবাবে ওয়াসা কর্মকর্তা বলেন, বিল কমানোর কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগকারীকে অফিসে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে রাজস্ব পরিদর্শকের সামনে এ নিয়ে কথা হবে।

বড়বাগের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পানি খুব কমই পান তারা। যাওবা পান তা ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত। বড়বাগের পপুলার হাউজিংয়ের মারুফ মিল্লাত বলেন, কখনও রাত ২টার পর, আবার কখনও রাত ৩টার পর খানিকটা পানি পাওয়া যায়, যা দিয়ে জীবন চলে না। বড়বাগের অন্য একটি স্থানের নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকায় পানি নেই। স্থানটিকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার কথা বলেন তিনি। এ সময় অন্য এক অভিযোগকারী গণশুনানি কক্ষের সামনে থেকে এসে বলেন, অবৈধ সংযোগের কারণেই ওই এলাকায় পানি নেই। যাদের অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর ‘খাতিরের লোক’ বলে জানান তিনি।

মিরপুর-১০ থেকে আসা মিজানুর রহমান বলেন, দিনের বেলায় পানি থাকে না। পানি পাওয়া যায় রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। বড়বাগের আবদুল মতিন বলেন, মিটারের ত্রুটির কারণে বিল ১৬ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করত। অথচ মিটার পরিবর্তনের পর বিল আসছে সাত হাজার টাকা। হান্নান আকন্দ বলেন, নিম্নমানের মিটার দেওয়া হয়- অল্প সময়ের মধ্যেই এসব নষ্ট হয়ে যায়। শাহআলী এলাকার ঝিটন মিয়া বলেন, কর্মকর্তারা বলেন, সকালে পানি পাবেন, বিকেলে পানি পাবেন। আসলে পানি পাওয়া যায় না। বড়বাগের মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পাম্পের চাবি খুলে অন্য এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়, তারা পানি পান না। একটু পানির জন্য কত যে হাহাকার- তা বলে শেষ করা যাবে না।

 

গণশুনানিতে উত্তর ইব্রাহিমপুর থেকে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, পানির চাপ থাকলে পানি পাই, চাপ না থাকলে পাই না। তৌহিদুর রহমান বলেন, মিটার রিডার রিডিং না করেই তাদের বিল দেন। তাতে বিলের পরিমাণ বেশি উল্লেখ করা হয়। বারোটিকার রহিমা নাসির বলেন, সারাদিন, সারারাতে মাত্র ঘণ্টা দুয়েক পানি পাওয়া যায়। ফাতেমা আক্তার বলেন, পানি কখন আসে, কখন যায়- তারা জানেন না। তারা খাবার পানি পান না; অথচ পাশেই নির্মাণ কাজে প্রচুর পানি দিয়ে ইট ভেজানোসহ অন্যান্য কাজ করা হয়।

আইন ভেঙে পঞ্চমবারের মতো ওয়াসার এমডি হচ্ছেন তাকসিম

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা ওয়াসায় পঞ্চমবারের মতো ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) করা হচ্ছে বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানকে। এ নিয়োগ পেলে প্রকৌশলী তাকসিম ১২ বছর পূর্ণ করবেন।

তাকসিম এ খানকে স্বপদে বহাল রাখতে ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ওয়াসা বোর্ডকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। যদিও আইন অনুযায়ী এমডি নিয়োগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ওয়াসা বোর্ড কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে থাকে।

এবারই প্রথম বোর্ডের সেই ক্ষমতা খর্ব করে তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নতুন করে নিয়োগের সুপারিশসহ প্রস্তাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর তাকসিম এ খান নিয়োগ পেয়ে পর পর চারবার নিয়োগ পান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তাকসিম এ খানকে নতুন করে নিয়োগ দিতে ইতিমধ্যে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের (পাস-২ শাখা) উপসচিব ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠানো হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(১), (২) ধারা মোতাবেক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের পর ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। সে মোতাবেক আগামী ১৩ অক্টোবর তাঁর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হবে। এমতাবস্থায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(২) ধারা মোতাবেক ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নিয়োগের প্রস্তাব বোর্ডের সুপারিশসহ প্রেরণের জন্য নির্দেশানুক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আখতার কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা আইন মেনে এমডি নিয়োগ দিতে ওয়াসা বোর্ডকে পত্র দিয়েছি। সেখানে তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নিয়োগের ব্যাপারে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। এখানে আইন ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করি না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন, ১৯৯৬-এর ২৮(২) ধারা মোতাবেক ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। আর একই আইনের ১০(গ) ধারায় বলা আছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালকগণের নিয়োগ এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালকগণের দায়িত্ব নির্ধারণ করবে বোর্ড।

মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে গতকাল শনিবার বিকেলে কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনে বোর্ডসভা হয়। বোর্ড চেয়ারম্যান ড. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই সভায় বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রকৌশলী তাকসিমকে পুনরায় নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।

বোর্ডসভায় উপস্থিত একজন সদস্য গতকাল রাতে কালের কণ্ঠর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ড মূলত এমডি নিয়োগের সব বিষয় চূড়ান্ত করে। সেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, নানা যোগ্যতা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর মেধা তালিকা করে চূড়ান্ত নিয়োগের একটি সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় সেটি অনুমোদন করে। এখন মন্ত্রণালয় যদি এমডির নাম লিখে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার চিঠি দেয় সেখানে তো বোর্ড থেকে আর লাভ নেই।

আরেকজন বোর্ড সদস্য গতকাল বলেন, আজকের (গতকাল) বোর্ডসভায় মূল এজেন্ডা ছিল এমডি নিয়োগ। সেখানে বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানও উপস্থিত ছিলেন। নিজের নিয়োগের ব্যাপারে উপস্থিত হয়ে নিজেই তা চূড়ান্ত করেন। একজন প্রার্থীকে বোর্ডে বসিয়ে কিভাবে নিরপেক্ষ কথা আর আইনের কথা বলি?

এ বিষয়ে গতকাল রাতে ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান ড. হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠিয়ে আমাদের সুপারিশ দিতে বলেছে। এখন আর কী। এটি আইনসম্মতভাবে হচ্ছে কি নাএ প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসার চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করে চতুর্থ মেয়াদে এমডি হয়েছিলেন তাকসিম এ খান। সে সময় বোর্ডকে পাস কাটিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (চলতি দায়িত্বে ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যান) সঙ্গে নিয়ে নিজের নিয়োগ চূড়ান্ত করেন তিনি। সেখানে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ জায়েজ করা হয়। সেখানে এমডি পদে প্রার্থীর বসয়সীমা আইন অনুযায়ী ৫৯ বছরের স্থলে ৬০ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কারণ তাকসিম এ খানের বয়স সেই সময় ৫৯ অতিক্রম করেছিল।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য গোপন করে তৃতীয়বারের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় ওয়াসার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম বোর্ডসভায় চরম প্রশ্নের সম্মুখীন হন তাকসিম। ২১০তম বোর্ডসভা চলমান থাকলেও প্রায় এক বছরের আগের ১৯৮তম বোর্ডসভার নিষ্পন্ন হওয়া তামাদি সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে তিনি এমডি পদে বহাল হয়েছিলেন; যা ছিল ওয়াসার আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে রেকর্ড করেছেন তাকসিম এ খান। পঞ্চমবারের মতো মন্ত্রণালয়ের কাঁধে ভর দিয়ে নিয়োগ পেলে তাকসিম এ খান ওয়াসায় প্রায় ১২ বছর পূর্ণ করবেন। অথচ তাকসিম এ খানকে প্রথম মেয়াদে নিয়োগের সময়ই অনিয়ম হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরবর্তী নিয়োগে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়।

২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সৈয়দা সাহানা বারী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছিল, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। ভবিষ্যতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালে পরীক্ষা ও নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হওয়ার জন্য নির্দেশানুক্রমে অনুরোধ করা হলো।